fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গব্লগহেডলাইন

নবান্ন দখলে বিজেপির ম্যাজিক ফিগার ২৭!

রক্তিম দাশ, কলকাতা: গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে একুশে বাংলার মসনদে বসার জন্য গেরুয়া শিবির তৃণমূলের ঘাড়ের উপর প্রায় নিঃশ্বাস ফেলেছে। লোকসভার গেরুয়া ঝড় অব্যাহত রেখে আর মাত্র ২৭টি বিধানসভা আসনে বিজেপি জয়লাভ করলে বদলে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষৎ। এই সংখ্যাতত্বের হিসাবই এখন বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে বঙ্গ বিজেপিকে। বাংলার রঙ গৈরিক হতে এই ২৭ আসনই হতে পারে একুশের ম্যাজিক ফিগার। এমনটাই মনে করছে গেরুয়া শিবির।

আরও পড়ুন:বর্ধমানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর ঘটনায় SSKM-এ স্থানান্তরিত শিশুকন্যা, ধৃত অভিযুক্ত

গত লোকসভা নির্বাচনের হিসাব বলছে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্টতা পাওয়ার দাবিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে বিজেপি। গত বিধানসভায় তৃণমূল ২২১, কংগ্রেস ৪৪, বাম ৩২ এবং বিজেপি ৩ টি আসন পেয়েছিল। এর ঠিক তিনবছর পরে বাংলায় ৪২ লোকসভা আসনের ফল হয়েছিল তৃণমূল ২২, বিজেপি ১৮, কংগ্রেস ২ এবং বাম ০। এই ৪২ লোকসভার অর্ন্তগত ২৯৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল জয় পেয়েছিল ১৬৪টিতে। অন্যদিকে বিজেপি ১২১ টিতে। শোচনীয় অবস্থা হয়েছে কংগ্রেসের। তাদের দখলে গিয়েছে মাত্র ৯টি আসন। আর বামেরা তাদের রক্তক্ষরণ আরও বাড়িয়ে একটি আসনও নিজেদের পক্ষে আনতে পারেনি।
লোকসভা নির্বাচনের এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে একুশে বিজেপির বাংলার মসনদে বসতে প্রয়োজন মাত্র ২৭ টি বিধানসভা আসন। কারণ, সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ আসন। অন্যদিকে তৃণমূল সরকার গড়লে তাও হবে বিজেপির সঙ্গে মাত্র ১৬ আসনের ফারাকে। আবার রাজ্যের যে ১২২টি পুরসভা নির্বাচন স্থগিত হয়ে গিয়েছে করোনা আবহে। লোকসভার নিরিখে তার হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে ১০১ টি এগিয়ে বিজেপি। আর ৬ টি কর্পোরেশনের মধ্যে ৪টিতে এগিয়ে বিজেপি।

আরও পড়ুন:“America loves India,” আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে মোদির শুভেচ্ছার জবাবে জানালেন ট্রাম্প

ভোটের শতাংশ বিচার করলেও মাত্র তিন শতাংশ ভোটে লোকসভার নিরিখে তৃণমূলের থেকে পিছিয়ে বিজেপি। বাংলার মোট ৬.৯ কোটি ভোটারের মধ্যে তৃণমূল গত লোকসভায় পেয়েছে ২৪,৭৫৬,৯৮৫ ভোট। যা শতাংশের বিচারে ৪৩.২৮। অন্যদিকে, বিজেপি পেয়েছে ২৩,০২৮,৩৪৩ ভোট। যা শতাংশে ৪০.২৫। অন্যদিকে কংগ্রেস ৩,২১০,৪৮৫ (৫.৬১ শতাংশ) আর বাম ৩,৫৯৪,২৮৩ (৬.২৮ শতাংশ)। আবার এর মধ্যে এমন ২৯ বিধানসভা আসন আছে যাতে বিজেপি প্রার্থীরা মাত্র ১ থেকে ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।

এই ২৯ আসনের ফল যদি একুশে নিজেদের দিকে আনতে পারে বিজেপি তাহলে এগিয়ে থাকা ১২১ এর সঙ্গে যোগ করলে ১৬০ আসন তারা দখল করতে পারে সংখ্যাত্বত্তের হিসাবে। গত লোকসভা নির্বাচনের বিজেপির টার্গেট ছিল ২২ আসন যার মধ্যে তারা ১৮টি জয় পেয়েছিল। বিজেপি সূত্রের খবর, একুশে তাদের টার্গেট ১৮০ বিধানসভা আসন। যা নাকি ইতিমধ্যে বঙ্গ বিজেপিকে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

অন্যদিকে, লোকসভার ফলের ট্রেন্ড যদি একুশের বিধানভায় চলে তাহলে তৃণমূলের অনেক হেভিওয়েটের পরাজয় হবে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর বিধানসভায় বিজেপি মাত্র ৩ হাজার ১৬৮ ভোটে পিছিয়ে আছে। লোকসভার হিসাব অনুসারে কলকাতার রাসবিহারী, জোড়াসাঁকো এবং শ্যামপুকুর, বিধানগর, রাজারাহাট-গোপালপুর বিধানসভা এগিয়ে আছে বিজেপি। জঙ্গলমহলের ১৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে ১২ টি এগিয়ে বিজেপি। মাত্র ২টিতে নামমাত্র ভোটে এগিয়ে তৃণমূল।

আরও পড়ুন:পুলওয়ামায় আইডি বিস্ফোরণ, আহত এক সিআরপিএফ জওয়ান

অপরদিকে মালদা উত্তর,মালদা দক্ষিণ, রায়গঞ্জ,বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার,জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং লোকসভা মিলিয়ে ৫৬ বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ৩৬, তৃণমূল ১৪ এবং কংগ্রেস ৬ আসনে এগিয়ে।

পাহাড়ের দার্জিলিং,কালিম্পং আর কার্শিয়াং বিধানসভায় তৃণমূলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে বিজেপি।
লোকসভা নিবাচনের হিসাবে দক্ষিণবঙ্গে কিন্তু বিজেপি অনেকটাই পিছিয়ে থেকে একুশের লড়াই শুরু করছে বিজেপি। কিন্তু বঙ্গ বিজেপির সূত্রে খবর, করোনা এবং আমফানের পর তাঁরা এখন অনেকটাই উজ্জীবিত দল। এই জোড়াফলায় দক্ষিণবঙ্গে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলা গিয়েছে বলে মত গেরুয়া ব্রিগেডের। যার ফল অবশ্যই একুশে পড়বে এই আশা নিয়ে নবান্ন দখলের স্বপ্ন দেখছে বঙ্গ বিজেপি।

Related Articles

Back to top button
Close