fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল নৈহাটি

শ্যাম বিশ্বাস, উত্তর ২৪ পরগনা: ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল নৈহাটি। নৈহাটির দেবকে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। ঘটনার জেরে গুরুতর আহত হয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়। শুধু তাই নয়, গঙ্গার অন্য পারের হুগলির বাসিন্দারাও কেঁপে ওঠেন বিস্ফোরণে। চুঁচুড়ার প্রেমনগর, আখনবাজার-সহ একাধিক এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরাও কম্পন অনুভব করেছেন। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দু’পাড়ের বাসিন্দা।

হুগলির এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, ‘দুপুর তখন সাড়ে ১২টা হবে। পরপর তিনটে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম, তার পরেই সিরিয়ালি চলল পরপর শব্দ। শুনে মনে হচ্ছিল যেন মেশিনগান চলছে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলছিল বিস্ফোরণ। বাড়ি কেঁপে ওঠে, রাস্তায় বেরিয়ে আসি আমরা। পাড়ার সবাই আমাদের মতোই ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে। এত জোরে ব্লাস্ট, আমরা বলাবলি করছিলাম প্লেন ভেঙে পড়ল নাকি। তার পরে আলোচনা হচ্ছিল, ভাটপাড়ার জন্য নৈহাটিতে প্রায়ই গোলমাল লেগে থাকে। সেরকমই গোলাগুলি চলছে বুঝি। বাজি কারখানার বিস্ফোরণ বলে বুঝিইনি আমরা। কত বারুদ থাকে যে এমন শব্দ হবে! এ তো যেন খাগড়াগড় টু!’

স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই বাজি কারখানায় বহু মহিলা ও শিশু শ্রমিক কাজ করত। যেভাবে বিস্ফোরণ হয়েছে, তাতে হতাহতের সংখ্যা অনেকটাই বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। শুধু শ্রমিকরা নন, গোটা এলাকাটাই ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি যে ভয়াবহ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখনও পর্যন্ত জানা গেছে, গুরুতর জখম হয়েছেন পাঁচ জন। তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এক বছর আগেও এক বার বিস্ফোরণ ঘটেছিল এই কারখানায়। সেই বার মারা গিয়েছিলেন পাঁচ জন। তার পরেও ওই বাজি কারখানা চলছিল পর্যাপ্ত সতর্কতা ছাড়াই। পুলিশ জানিয়েছে, কোনও তেজস্ক্রিয় তৈরি হচ্ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মুনাফার লোভে বেআইনি ভাবে চালানো হচ্ছিল কারখানা। ঘটনার পরে মালিক নুর হুসেন পলাতক। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে, ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর চাপা দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকার শাসক দল আশ্রিত নেতারাও।

sweta

Related Articles

Back to top button
Close