fbpx
অফবিটব্লগহেডলাইন

ফাঁসি-কাঠে ঝুলেছিলেন দাদু, সেই ‘Lions &Tigers’-এ বিলেতের মাটিতে ‘নাইট’ জয় নাতনির

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০০৮ সালে নাইট উপাধি পান বঙ্গ একজন তনয়া। বাঙালি হলেও জন্ম কর্ম্ম তার সবই বিলেতে। ১৯৬১ সালে বাবা তপন গুপ্ত ও মা গৈরিকা গুপ্ত দুজনেই চলে আসেন বিলেতে। দুজনেই ছিলেন শান্তিনিকেতনে প্রাক্তনী সাহিত্য থেকে নাটক সবকিছুই ছিল তাদের রক্তে। এরপর বিলেতে এসে খুললেন টেগোরিয়ান নামে একটি নাট্য সংস্থা। এরপর ১৯৬৩ সালে জন্ম হয় তাদের মেয়ে তনুকার। শৈশব থেকেই সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল ছোট্ট তনুকার। না তবে নাটকের প্রতি নয় সাহিত্য ও লেখালেখির প্রতি। তাই তিনি নাটকে অভিনয় নয় নাট্য লেখিকা এই পরবর্তীকালে পরিচিতি পেয়েছেন।

প্রায় ৩০ বছর পর বৃটেনের বিবিসি রেডিওতে প্রথম প্রচারিত হয় তার লেখা নাটক। Voices in the wind. ভারতবর্ষের জন্য তার দাদুর আত্মবলিদান নিয়ে রচিত হয়েছিল এই নাটক। এরপর দ্য ওয়েটিং রুম অনুষ্ঠিত হয়েছিল লন্ডনের দ্য রয়েল ন্যাশনাল থিয়েটারে। ‌এরপর আর ঘুরে তাকাতে হয়নি এই বঙ্গ তনয়াকে।

ওহো! বলাই হল না এখনও সেই বঙ্গতনয়া দাদুর কথা যার জীবন সংগ্রাম নিয়ে নাটক লিখেই কাঁপিয়ে ছিলেন বিলেতের মাটি‌।

একটা ছোট্ট গল্প বলা যাক, আজ থেকে প্রায় ৯০ বছর আগের কথা। হাজার ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর সকাল। অফিস টাইমে স্বাভাবিক ব্যস্ত ছিল সেই সময়ে রাইটার্স বিল্ডিং। নিরাপত্তারক্ষীরা ঘেরাটোপ সরিয়ে রয়টার্সের অলিন্দে পা রাখেন সাহেবি পোশাক পরিহিত তিন যুবক। উদ্দেশ্য একটাই কুখ্যাত ব্রিটিশ পুলিশ কমিশনার হ্যালিডে ও সিমসনকে হত্যা। উদ্দেশ্য সফল। কিন্তু রাইটার্সের অলিন্দে সেই ভয়াবহ গুলির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লেন ওই তিন যুবক। তাঁরা হলেন বিনয় বোস, বাদল গুপ্ত দীনেশ গুপ্ত।

বিচারের ফাঁসির সাজা হয় বিনয় বাদল দীনেশের। পরদিন সকালে সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় হেডলাইন ‘Dauntless Dinesh dies at Dawn’.

জেলে বসেই ৯০ টির বেশি চিঠি লিখেছিলেন তনুর দাদু দীনেশ গুপ্ত। সেখানে শুধু রাজনীতি বা বিপ্লবী নিষিদ্ধ ছিল তাই উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ থেকে শেক্সপিয়ার থেকে টলস্টয় সবার লেখা।

নিজের বিপ্লবী পরিবারের গাঁথা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে পরবর্তীকালে তিনি লিখলেন লায়ন্স এন্ড টাইগার্স নাটকটি।

২০১৭ সালে লন্ডনের গ্লোব থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই নাটকটি। ভারতীয় বিদ্রোহের সূচনা। নেহেরু গান্ধী সুভাষের মধ্যে দিয়ে গিয়ে এ নাটকটি শেষ হয় আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে দীনেশ গুপ্তের ফাঁসির দৃশ্যতেই।

ভারতীয় জাতীয় সংগ্রামকে নাট্যজগতে তনুকা গুপ্তের অভাবনীয় রূপান্তর ও মঞ্চায়নের জন্য তারপরে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে নাইট উপাধিতে ভূষিত হন।

Related Articles

Back to top button
Close