fbpx
বিনোদনব্লগহেডলাইন

The unstoppable Horses of Music

স্বর্ণার্ক ঘোষ: সত্তর সালের গোড়ার কথা। বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনাম। যুদ্ধ বিদ্রোহে দগ্ধ বাংলায় মনে প্রানে নতুন আশা জাগাতে বাংলা সঙ্গীতে এক নতুন ধারা সঞ্চার করতে এগিয়ে এলেন দুই যুবক। গৌতম চট্টোপাধ্যায় এর হাত ধরে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হলো মহীনের ঘোড়াগুলি যা বাংলার প্রথম ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত।

গৌতম চট্টোপাধ্যায় তিনি বাংলা ব্যান্ডের উত্থান ও বাংলা সংগীতের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য বাংলা ব্যান্ড জগতে চে গুয়েভারা হিসেবে চর্চিত। আর চে থাকলে তো নিশ্চয়ই কাস্ত্রোও থাকবে। পেয়ে গেলেন অনবদ্য মিউজিশিয়ান তথা নাট্যকার রঞ্জন ঘোষালকে।

  রঞ্জন ঘোষাল

জীবনানন্দ দাশের সাতটি তারার তিমির উপন্যাস অবলম্বনে ব্যান্ডের নাম দিয়ে ফেলেন মহীনের ঘোড়াগুলি। এই নামটি রঞ্জন ঘোষালেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। অতঃপর বাংলা সংগীতের চে-কাস্ত্রোর হাত ধরেই ছোটা শুরু করল সেই মহীনের ঘোড়াগুলি। উদ্দাম সত্তরের রেডিওর সুরেই শুরু হলো অনুষ্ঠান। তারপর সময় যত পেরিয়ে গেল আকাশবাণী থেকে পৃথিবীটাও ছোট হতে হতে স্যাটেলাইট আর ড্রয়িং রুমে রাখা বোকা বাক্সতে ক্রমেই বন্দি হতে শুরু করল। ঘরে ঘরে বেজে উঠল ‘সেই টেলিফোওওন’….

ওদিকে দক্ষিনের খোলা জানালা দিয়ে এদেশে ঢুকছিল উদারীকরণের তপ্ত হাওয়া, সে হাওয়ায় মোটেও আশ্বাস ছিল না। তবুও শহরের উষ্ণতম দিনে পিচগলা রাস্তায় বৃষ্টির বিশ্বাস কিন্তু তোমাকেই দিয়েছিল….

মহীনের ঘোড়াগুলি অচিরেই হয়ে উঠল অশ্বমেধের ঘোড়া। ছুটছিল আর সুরের ছোঁয়ায় জিতেছিল অনেক প্রাণ। কিন্তু তারপরই হঠাৎ সুর কাটলো গৌতম চট্টোপাধ্যায় এর আকস্মিক মৃত্যুতে। অসময় চেকে হারিয়ে একাকী হয়ে পড়লেন কাস্ত্রো ঘোষাল। নিঃসঙ্গতায় পড়লেন‌। সেই প্রথম ধাক্কা খেলো মহীনের ঘোড়াগুলি। বড় ধাক্কা যেন অনেকটা ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়নের মতো। এক গ্লাসে পেগের পর পেগের বানানো হুইস্কি গুলো ভুগছিল নিঃসঙ্গতায়। সিগারেটের কাউন্টারেও ছিল না সেই ‘মায়া’…. বয়সের ভারে নুব্জ হলো ঘোড়াগুলি। চারপাশটা কেমন রডোডেন্ড্রন গাছে ভরে উঠতে লাগলো…..

 গৌতম চট্টোপাধ্যায়

নেপোলিয়নের সেন্ট হেলেনার মত দ্বীপান্তরিত হয়ে আশ্রয় নিলেন ব্যাঙ্গালোরের হলুদ সাবমেরিনে। সময় এগিয়ে যায়, নেপোলিয়ন নির্বাসিত হলেও কিন্তু কখনই থেমে থাকেনি ফরাসি বিপ্লব… গড়ে তুলেছিল ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের ভিত। তেমনি মহীনের ঘোড়াগুলির পিঠে ভর করেই পরবর্তীকালে আমরা শুনতে পাবো ‘এক কাপ চায়ে তোমাকে চাই’ কিংবা ‘শুনতে কি চাও সেই অদ্ভুত বেসুরো সুর’ গুলোকে… আরো কিছুটা এগিয়ে এলে সেদিনের বৃষ্টির বিশ্বাসকে আজ ‘একলা ঘরে আমার দেশ’ ভেবেই হারিয়ে যাবো।

সত্তরের বিদগ্ধ বাংলা আজ অনেকটাই শান্ত। ‌এরমধ্যে আজ চিরকালের জন্য শান্ত হয়ে গেল হলুদ সাবমেরিনের সাইরেনটাও…. জীবনানন্দের ‘সাতটি তারার তিমির’ উপন্যাস থেকে মহীনের ঘোড়াগুলি নামকরণ করেছিলেন তিনি। ‘চে’ গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের ডাকে আজ শেষ তারাটিও ওই সাদা ঘোড়াটিতে চেপে হয়তো চলে গেলেন কোনও নতুন সুরের খোঁজে।

 

Related Articles

Back to top button
Close