fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে রক্ত সংকট মেটাতে রক্তদান জাঙ্গীপাড়ায়

পার্থ সামন্ত, তারকেশ্বর: প্রতি বছরই গরম কালে রক্তের আকাল দেখা দেয়। লকডাউনের মধ্যে রক্ত সংকট আরো প্রকট ভাবে দেখা দিয়েছে। রক্তের অভাবে রোগীর আত্মীয়রা দিশেহারা। তাঁরা এক ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে অন্য ব্লাড ব্যাঙ্কে খুঁজে চলেছেন রক্ত।

রক্তের আকাল মেটাতে বুধবার এগিয়ে এলো হুগলী জেলার জাঙ্গীপাড়ার থান্ডার ক্লাব। স্থানীয় বিভূতিভূষণ সেবাসদনের তিন হাজার স্কোয়ার ফুট হল ঘরে হয়ে গেল এই রক্তদান শিবির। মূলত বুদুল, রাধা বল্লভপুর, পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকার মানুষেরা রক্তদান করেন। করোনার সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনেই হয়েছে রক্তদান। প্রত্যেকে রক্তদাতা মাস্ক বা রুমাল বেঁধে রক্ত দিয়েছেন। রক্তদাতাদের জন্য বেড পাতা হয়েছিল বেশ দূরে দূরে। একজন রক্ত দেবার পর পাল্টে দেওয়া হয়েছে বেড সিট। প্রত্যেক রক্তদাতার হাতে দেওয়া হয়েছে স্যানিটাইজার।

এই রক্তদান শিবিরে প্রথম বার রক্ত দিলেন বুদুলের চম্পা মালিক। চম্পা দেবী বলেন প্রথম বার রক্ত দিয়ে ভালো লাগছে। তিনি বললেন আমরা মাঠে জন মজুরের কাজ করি। কিন্তু আমার রক্তে তিন জন মানুষ বাঁচবে জেনে রক্ত দিতে আসা। চম্পা দেবী বলেন সব মানুষের উচিত বছরে এক বার রক্তদান করা। অন্য আর একজন বছর কুড়ির প্রভাত মালিক ও রক্ত দিলেন প্রথম বার। প্রভাত বাবু বলেন দাদা স্বরূপ মালিক এর আগের বার এখানে রক্ত দিয়েছে। দাদা একটা সাইকেলের দোকানে কাজ করে। এ বছর দাদার শরীর খারাপ, দাদা রক্ত দিতে পারবে না। শুনেছি রক্ত দিলে শরীর ভালো থাকে। তাই আমিই চলে এলাম রক্ত দিতে।

 

আয়োজক সংস্থার সম্পাদক তরুণ শীল বললেন বছরে ১৯৮৯ সাল থেকে আমরা বছরে দুবার রক্তদান শিবির করি। গ্রীষ্ম কালে রক্তের আকালের সময় আমাদের এই শিবির গুলো হয়। তরুণ বাবু বলেন আজ ৩০ জন রক্তদাতা রক্ত দিলেন। তিনি বললেন আগামী বুধবার আবার আমাদের রক্তদান শিবির হবে। লকডাউনে থান্ডার ক্লাবের এই উদ্যোগের প্রসংশা করলেন এলাকাবাসীরা।

Related Articles

Back to top button
Close