fbpx
গুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

হিন্দু নির্যাতনের জন্য শেখ হাসিনাকে চরম মূল্য দিতে হবে, হুঁশিয়ারি নিতাই রায়ের

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: ফ্রান্সে নবী অবমাননার ঘটনার সূত্র ধরে হিন্দু বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নিযোগের প্রতিবাদে গত তিনদিন ধরে উত্তাপ্ত বাংলাদেশ। ঘৃণ্য এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন। রবিবারও এ ঘটনার প্রতিবাদে মানবশৃংখল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র-যুব ফ্রন্ট’।

এ সমাবেশ থেকে শেখ হাসিনা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই, এর ফল শুভ হবে না। শেখ হাসিনাকে চরম মূল্য দিতে হবে। তোমার পুলিশ, তোমার প্রশাসন এবং তোমার কুক্ষিগত বিচার ব্যবস্থা তোমাকে রক্ষা করতে পারবে না।’

হিন্দু নির্যাতনবিরোধী এই সমাবেশে প্রাক্তন মন্ত্রী নিতাই রায় আরও বলেন, ‘সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। আজকে এ দেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে যেভাবে অত্যাচার-নির্যাতন শুরু হয়েছে, সেই ৭২ সালে থেকে আজ পর্যন্ত যা তীব্রতর হয়েছে, সেই সংখ্যালঘুরা আজকে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছেন।’

ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত জমায়েতে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন,‘রানা দাশগুপ্তরা আওয়ামি লিগকে সঙ্গে আছে। আজকে তারাও ফুঁসে উঠেছেন, প্রতিবাদ করছেন। আজকে সংখ্যালঘুদের ওপর যে অত্যাচার হচ্ছে তা পৃথিবী লক্ষ্য করছে, সারাদেশ লক্ষ্য করছে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়জ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সারাদেশে ধর্মের দিক থেকে যারা সংখ্যায় কম তাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, নিরাপত্তা নেই। এর পাশাপাশি যদি দেখি ধর্মের দিক থেকে সারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাদের প্রতিও সরকার উদাসীন। এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সব একাকার হয়ে গেছে সরকারের কাছে। তারা ছাড়া, আওয়ামি লিগের দালাল ছাড়া আর কারও কোনও জীবনের নিরাপত্তা নেই।’

রামুর নির্যাতনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘রামুতে কি হয়েছিল? শেখ হাসিনার নির্দেশে সেখানে তাদের ভবন করে দেওয়া হয়েছে। কাঠের মন্দিরকে কংক্রিটের মন্দিরে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু রামুর সেই মন্দিরের প্রধান সেবায়েত তিনি বলেছেন, ভবন সুন্দর হয়েছে বড় আরাম লাগছে কিন্তু মনের মধ্যে কোনো শান্তি নাই। কারণ যারা আগুন দিয়েছে সেই আসামিরা চোখের সামনে ঘোরাফেরা করছে।

তিনি বলেন, ‘এই প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে রানা দাশগুপ্তের পাশে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেছেন, আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েদের সম্ভমহানি করা আওয়ামি লিগের সাংবিধানিক অধিকারে পরিণত হয়েছে। এগুলো তাদের কথা, আমাদের কথা নয়।’

সমাবেশে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘গত ৭ মাসে ২৭টি প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় মন্দিরে হামলা করা হয়েছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমাদের মা-বোনরা প্রতিনিয়ত ধর্ষিতা হচ্ছেন, তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে বর্তমান সরকারকে হটাতে হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের ঢাকা মহানগর সভাপতি সঞ্জয় গুপ্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তী, বিএনপি নেতা অমলেন্দু দাস অপু, জয়দেব জয়,সুশীল বড়ুয়া, আকাশ ঘোষ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Related Articles

Back to top button
Close