fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

বডি বিলডার হাবলু

বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখিকা শাম্মী তুলতুল -এর লেখা গল্প

শাম্মী তুলতুল: নামী দামি কুস্তিবিদ হাবলুর বাবা। এতে তাঁর গর্বের সীমা নেই। কোনও কিছুর অভাবও নেই। কিন্তু ‘দুঃখ একটাই একমাত্র ছেলে তার মতো সুঠামদেহির কুস্তিবিদ  নয়। যত কিছু হোক বাপের পর ছেলেকেই তো এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে।

কিন্তু ‘ছেলে একদম রোগা-পাতলা আর অলস। খাওয়া আর ঘুমোনই তার কাজ। তাই রাতদিন ছেলের সঙ্গে বাপের হয় ঘ্যানর ঘ্যানর।

 

হাবলু

হাবলুর বাড়িটি চারপাশ দেওয়ালে ঘেরা। এক্কেবারে জেলখানার উঁচু দেয়ালের মতো।  উঁচু দেয়াল তাতে কি। কেউ উঠতে না পারলেও হাবলু বাঁদরের মতো দেওয়ালের উপর ঠিকই চষে বেড়ায়। এদিকে লাফ দেয়, ওদিকে লাফ দেয়। তাইতো  বাবা তাকে হামেশা বাঁদর ছাড়া কথাই বলেন না।

বাবা বলেন, আরে বেটা হলে তো বাপের মতোই হবি, নইলে বান্দরই থাকবি।  দেওয়াল চড়ে তো আর গোল্ড মেডেল পাওয়া যায় না। তোর বয়সে আমি কত মেডেল পেয়েছি। কত নাম ডাক হয়েছিল আমার। কোনও চেষ্টা আছে তোর মধ্যে? খালি খাই, ঘুমাই আর লাফাই।

হাবলু কিছু বলে না, মাথা নিচু করে থাকে। বলার মুখও নাই।

একদিন রাতের বেলা দেওয়ালের উপর বসে পা দুটো নাড়িয়ে নাড়িয়ে চাঁদের সঙ্গে কথা বলছিল হাবলু। একটার পর একটা দুঃখের বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছিল সে চাঁদবন্ধুকে। চাঁদ বেচারা গালে হাত দিয়ে হাবলুর দুঃখের সব কথা শোনে আর সমাধান খোঁজে।

বাবা ঘরের বারান্দা থেকে হাবলুকে দেখে জিজ্ঞেস করে, কি ব্যাপার ঘুমাস নি কেন? এতো রাতে বাইরে কি করছিস?

হাবলু বাবাকে দেখা মাত্র হাত-পা নাড়াতে  লাগল। ভ্রু কুচকে বলে, দেখছ না ব্যায়াম করছি।

অ্যাঁ, এতো রাতে ব্যায়াম করছিস, মানে কি? এটা কি ব্যায়ামের সময় হল?

কি আর করব, দিনের বেলা ওই সূর্য বাবাজি শান্তি দেয় না। সবাইকে পুড়িয়ে কাঠ বানিয়ে ছাড়ে। তাই  রাতের বেলা চাঁদের সঙ্গেই দোস্তি করলাম।

হা হা হা। হাবলুর কথা শুনে বাবা উ’চ্চস্বরে হাসতে লাগলেন। বাবাকে হাসতে দেখে হাবলুর লেপটে থাকা চুলগুলো রাগে -অপমানে খাঁড়া হয়ে গেল।

হাবলু

হাই তুলতে তুলতে বাবা বললেন, শোন এতো আরামে ব্যায়াম করলে কখনও বডি বানানো যায় না। সূর্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে শরীরে গরম লাগিয়ে এক বালতি ঘাম ঝড়িয়ে তবেই না বডি হবে। আলসেমি ফেলে ভোরে ভোরে উঠে ব্যায়াম করার  অভ্যেস  কর। পরিশ্রম না করলে জীবনে কিছুই করতে পারবি না। ভবিষ্যতে ওই চাঁদের আলো খেয়েই পেট ভরাতে হবে। যত্ত সব আরাম সাহেব।

রোজ রোজ বাবার খোঁচা মারা কথা শুনে হাবলুর মাথা যায় যায়। হাবলু গরম একদমই সহ্য করতে পারে না ঠিক কিন্তু‘তার আবার আত্ম-সন্মান বেশি। বাপের কথা একদম গা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো। হাবলু ঘরে এসে ভাবে এই পাতলা শরীরটাকে কোয়া কোয়া বানিয়েই ছাড়বে। যত কিছু হোক বাবাকে দেখিয়ে দিতে হবে আমিও পারি। বাবার মতো বডি আমার চাই চাই। তাই হাবলু বাবা যাতে টের না পায়  রোজ  ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করা শুরু করে দিল। অধিক পরিশ্রম করে ছয়মাসের মধ্যে হাবলু তার বাবার মতো কোয়া কোয়া শরীর বানিয়ে ফেলল। বডি বানিয়ে হাবলু বাবার সামনে এসে দাঁড়াল। বাবাকে পায়ে ধরে সালাম করল।

হাবলু

হাবলুকে দেখে বাবার চোখ উপড়ে ওঠে গেল। চশমা খুলে বাবা তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। বাবা তার চারপাশে ভালো করে তিন চার বার চক্কর দিয়ে বলেন, আরে পাতলা হাবলু তুইতো দেখছি এখন আমার মতো বডি বিলডার হয়ে গেছিসরে ।  এই অসাধ্য কি করে সাধন হল?

হাবলু

 

আমি দিন রাত পরিশ্রম করেছি বাবা  তারই ফল এটা। বাবা আনন্দে গদগদ।

খুব খুব খুব খুশি হলাম আমি। দেখলিতো  মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। মানুষ চাইলে সব পারে।

Related Articles

Back to top button
Close