fbpx
দেশহেডলাইন

মধ্যরাতে চাপান-উতোরের মধ্যে দিয়ে দেহ সত্‍কার হাথরসের নির্যাতিতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ চাপান-উতোরের মধ্যে দিয়ে  গভীর রাতে অবশেষে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল হাথরসের নিগৃহীতার। কড়া পুলিশি ঘেরাটোপে মঙ্গলবার রাত তিনটের সময় তরুণীর শেষকৃত্য হয়। নির্যাতিতার পরিবারের অনুরোধের সত্ত্বেও দেহ শেষবারের মতো বাড়িতে আনার অনুমতি দেননি পুলিশ,অভিযোগ করলেন হাথরসের নিগৃহীতা তরুণীর ভাই। ইতিমধ্যেই  চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

হাথরসের যুগ্ম ম্যাজিস্ট্রেট প্রেম প্রকাশ মীনা জানিয়েছেন, ‘তরুণীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি হবেই, ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসন এই আশ্বাস দিয়েছে।’ পরিবারের ইচ্ছায় শেষকৃত্য হয়েছে বলে মঙ্গলবার রাত ২.১৬ নাগাদ টুইটে জানায় হাথরস পুলিশ। এদিকে এই গণধর্ষণে ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ।  ঘটনায় তুমুল বিক্ষোভে ফুঁসছে নাগরিক সমাজ। রাজধানিতে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়েছে। অবরোধে ভীম আর্মি। নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।

এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে নিগৃহীতা তরুণীর ভাই জানাছেন, ‘গভীর রাতে বোনের দেহ অ্যাম্বুলান্সে করে দিল্লির হাসপাতাল থেকে হাথরসে নিয়ে আসা হয়। দেখা যাচ্ছে যে আমার বোনের শেষকৃত্য হয়েছে। কিন্তু, পুলিশ আমাদের কিছু জানায়নি। আমরা অনুরোধ করেছিলাম যাতে শেষবারের মতো দেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু, পুলিশ আমাদের সেই অনুরোধ রাখেনি।’

বুধবার রাত একটা নাগাদ ওই যুবতীর দেহ পৌঁছয় তাঁর গ্রামে। বড় রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স দাঁড় করানো হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় শ্মশানের আলো। শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করে পুলিশ। যুবতীর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ছিল, এভাবে মধ্যরাতে শেষকৃত্য হোক তা তাঁরা চান না। আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীদের ইচ্ছা ছিল শেষবারের জন্য নিহত যুবতীর দেহ তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু প্রশাসন জানিয়ে দেয়, যত দ্রুত সম্ভব শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হবে। তখনও যুবতীর বাবা ও এক ভাই দিল্লি থেকে গ্রামে ফেরেননি। সেকথা জানিয়ে অন্য এক ভাই পুলিশকে বলেন, ‘‘এত তাড়া কীসের? আমাদের বাবা এখনও ফেরেননি’। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়। পুলিশের সঙ্গে যুবতীর আত্মীয়দের বচসা বাঁধে। অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের মারধরও করে।

আরও পড়ুন: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, আজ বাবরির রায় ঘোষণা, রাজ্য জুড়ে কড়া নিরাপত্তা

মঙ্গলবার সকালে নয়াদিল্লির হাসপাতালে গণধর্ষণ ও চূড়ান্ত শারীরিক নিগ্রহের শিকার ওই তরুণী। তাঁর মৃত্যুর পরে থমথমে হয়ে ওঠে হাথরাসের বুলগাড়ি গ্রামের পরিবেশ। এই  ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে যাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ।  এ দিকে, ওই তরুণীর ধর্ষণ ও মৃত্যুতে মঙ্গলবার হাথরাস শহরে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে দফায় দফায়। কংগ্রেসের তরফে মোমবাতি মিছিল হয়। এই নৃশংস, পাশবিক ঘটনার জন্য উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকেই দায়ী করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

Related Articles

Back to top button
Close