fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন বিজেপি কর্মীর দেহ, অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে

মিলন পণ্ডা, শরণানন্দ দাস, পূর্ব মেদিনীপুর ও কলকাতা:  এ যেন বিজেপি কর্মী খুনের সিরিজ চলছে। আরামবাগের গোঘাটে গত রবিবার সকালে বিজেপি কর্মী গণেশ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। আর শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার বাকচাতে খুন হলেন বিজেপি কর্মী দীপক মণ্ডল (৩৩)। রাতের অন্ধকারে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল এই বিজেপি কর্মীর দেহ। এমনটাই অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

এদিন রাত ১১টা নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুর সবং ও পূর্ব মেদিনীপুরে বাকচা মধ্যস্থলে ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করে নি। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না থানার বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের খিদিরপুর এলাকায়। মৃত দীপক বুধ স্তরে বিজেপি কর্মী ছিল বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রসঙ্গত একুশের নির্বাচন যতো এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ততো বাড়ছে। গত কয়েক মাসে প্রায় নিয়ম করে বিজেপি নেতা, কর্মী খুন হচ্ছেন। উত্তরবঙ্গের হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায় খুন হলেন। রায়গঞ্জের ইটাহারে বিজেপি কর্মীকে পুলিশ পিটিয়ে মারলো, গোঘাটে বিজেপি কর্মীরা ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হলো। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে ত্রিলোচন মাহাতো, দুলাল কুমার, তাপস বাগদি, শিশুপাল সহিসসহ এখনও পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি বিজেপির কর্মী তৃণমূলের রাজনৈতিক হিংসায় শহিদ হয়েছেন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।

 

          আরও পড়ুন: ফের তালিবান ঘাঁটিতে এয়ার স্ট্রাইক করল আফগানিস্তান, নিহত বহু

 

নিহতের পরিবার সূত্রে দাবি, শনিবার বিকেলে ‌ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানা এলাকায় করণপল্লীতে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। এদিন বিকেলে বাইকে করে ময়নার বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা দীপক মন্ডল খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। রাত, ১১ টা নাগাদ‌ বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ও পূর্ব মেদিনীপুরে বাকচার মধ্যস্থলে তাঁকে ঘিরে ফেলে কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। এরপর দীপককে লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দীপকের দেহের একাংশ। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনার স্থলে ছুটে আসে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানা ও পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন: হিডকোর উদ্যোগে দেশের বৃহত্তম ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন তৈরি হচ্ছে নিউটাউনে

রক্তাক্ত অবস্থায় দীপককে উদ্ধার করে স্থানীয় সবং গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে হাজির হয় তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি নবারুণ নায়ক ও পশ্চিম মেদিনীপুরে একাধিক বিজেপি নেতৃত্বরা। গোটা ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। মৃত বিজেপি কর্মীর মা বলেন, ‘ আমরা বিজেপি দল করতাম। শনিবার রাতে হঠাৎ জানতে পারি ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এরপর গিয়ে দেখি দীপক আর বেঁচে নেই। আমরা চাই দোষীদের শাস্তি হোক।’

বিজেপির পক্ষ অভিযোগ করা হয়েছে দীপক ময়না বাচকা এলাকার একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন। সেই জন্য তৃণমূল টার্গেট করেছিল দীপককে। রাতেই পরিকল্পনা করে বোমা ছুঁড়ে খুন করা হয়েছে‌। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি নবারুণ নায়ক বলেন,’ দীপক অনেকদিন ধরে সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন। তৃণমূল হার্মাদ বাহিনী রাতের অন্ধকারে বোমা মেরে খুন করেছে।আমরা আইনের দ্বারস্থ হচ্ছি।যাতে এই ঘটনায় তৃণমূলে হার্মাদ বাহিনী শাস্তি পায়।’ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূলের মুখপাত্র মধুরিমা মন্ডল বলেন ,’এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কেউ যুক্ত নয়। সম্পূর্ণ বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে এমন ঘটনা। ওই বিজেপি কর্মী নিজেই বোমা নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলাম। বোমা ফেটে মৃত্যু হয়েছে।’  পশ্চিম মেদিনীপুর সবং থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন ,’এখনো পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। পুলিশ সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close