fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মজুত রাখা বোমা বিস্ফোরণ, উড়ে গেল গলসির শিশুশিক্ষা কেন্দ্র

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: গোপনে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে বোমা মজুত করে রেখেছিল দুস্কৃতিরা। সেই বোমার বিস্ফোরণের
তীব্রতায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের দেওয়াল ও ছাদের একাংশ। শনিবার বিকালে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার লোয়া রামগোপালপুর পঞ্চায়েতের আটপাড়া গ্রামে। বিস্ফোরণের জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকার বাসিন্দা মহলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছায় গলসি থানার পুলিশ। শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের শৌচাগারে কারা বোমা মজুত করেছিল তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে। শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের অন্য কোথাও আর বোমা মজুত রয়েছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আটপাড়া গ্রামের দিঘীরপাড় এলাকায় রয়েছে “ধর্মপুর আটপাড়া হাজরাপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি “। করোনা অতিমারির কারণে সরকারি নির্দেশ মেনে বেশ কয়েকমাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি। স্থানীয়রা বলেন, শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ থাকার সূযোগ নিয়ে দুস্কৃতিরা সেখানে বোমা মজুত করে রেখেছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালি ঘাটে দখলদারি কায়েম নিয়ে মাঝে মধ্যেই দুস্কৃতিদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয় গলসির লোয়া রামগোপালপুর এলাকা। ক্ষমতা জাহির করার জন্য ওই সব দুস্কৃতিদলের কেউ বন্ধ থাকা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে বোমা মজুত করে রেখেছিল বলে স্থানীয়রা আশংকা প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর কথায় জানা গিয়েছে, এদিন বিকাল চারটে নাগাদ হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আটপাড়া গ্রাম ।সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া আর ধুলোয় ভরে যায় শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের চারপাশ। ভয়ে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেদেন শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের বাসিন্দারা। সেই খবর পেয়েই পুলিশ সেখানে পৌছে তদন্ত শুরু করে । পুলিশ গ্রামে পৌছানোর পর ভয় ভীতি কাটে বাসিন্দাদের।

গলসির আটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভৈরব হাজরা, সেখ সফিকুল প্রমুখরা বলেন, করোনা অতিমারির কারণে দীর্ঘদিন শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। তারই মধ্যে কিছুদিন আগে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের চাল ডাল দেওয়া হয়। তার পর থেকে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি তালা বন্ধই রয়েছে। তার চাবি থাকে কেন্দ্রের শিক্ষিকা আকতারা বেগমের কাছে। তাসত্ত্বেও শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের সৌচাগারের ভিতরে কিভাবে বোমা এল সেই প্রশ্ন নিয়েই এখন গলসিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।

শিক্ষিকা আকতারা বেগম যদিও জানিয়েছেন, “শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের চারটি সৌচাগারের দরজাতেই তালা দেওয়া রয়েছে। তার চাবি তাঁর কাছে রয়েছে। তা সত্ত্বেও সৌচাগারের ভিতরে কিভাবে বোমা এল সেটাই আশ্চর্যের বলে আকতারা বেগম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তাঁর ধারণা দুস্কৃতিরা রাতের অন্ধকারে খোলা বক্স জানালা দিয়ে সৌচাগারের ভিতরে ঢুকে সেখানে বোমা মজুত করেছিল ।”

গলসি ১ ব্লকের যুগ্ম বিডিও মৃন্ময় দাস বলেন, “ঘটনা জানার পরেই পুলিশকে জানিয়েছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি ওই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে চারটি সৌচাগার ছিল। তারমধ্যে দুটি নতুন ও দুটি পুরাতন।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোমা রাখাটা দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই যুক্ত থাক তারা কেউ যাতে পার না পায় সেই বিষয়টি পুলিশ দেখছে। ”গলসি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে । ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেই বিষয়ে খোঁজখবর চালানো হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close