fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

খেজুরিতে বই-র গাড়ি পাঠকের বাড়ি বাড়ি

ভীষ্মদেব দাশ, পূর্ব মেদিনীপুর (খেজুরি): ই-বুক নয়, মুদ্রিত বইয়ে চোখ রাখুন বার্তা দিতে পথে নামল শমীক। “ডি লা গ্রান্ডি মেফিস্টেফেলিশ ইয়াক ইয়াক”- শুনেই টেনিদার কথা মনে পড়ে যায়। লকডাউনে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষন্দু মুখোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কবিগুরু, নজরুল থেকে বর্তমান প্রজন্মের লেখক-লেখিকাদের জনপ্রিয় বইগুলি ঘুরছে বই গাড়িতে।

ছোটদের বাটুল-দি-গ্রেট কিংবা নন্টে-ফন্টে, আনন্দমঠ কিংবা শার্লক হোমস্, ভূতের ভবিষ্যত কিংবা ভ্রমণ কাহিনী অথবা রাজনৈতিক বইর চাহিদা খুব। লকডাউনে বাড়িতে বসে বই পড়ার মজাই আলাদা। কিন্তু ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ই-বুকস এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। গ্রন্থাগারে এসে বই পড়বার সময় নেই। তবে লকডাউনের ফলে ঘরবন্দি বইপ্রেমীরা ই-বুকস এ ডুবে থাকছেন। বেশি সময় মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের সামনে বসে ডিসপ্লে তে চোখ রেখে বই পড়া খুব ক্ষতিকারক। তাই এই সমস্যা দূর করতে এগিয়ে এলেন খেজুরি-১ ব্লকের কামারদার বাসিন্দা বই প্রেমিক শমীক পন্ডা। শমীক বাবু নন্দীগ্রাম ব্লকের তথ্য কর্মী। লকডাউনে বাড়িতে বসে বই পড়ুন। কি কি বই লাগবে আমায় বলুন।

সম্প্রতি ফেসবুকে তিনি পোস্টের মাধ্যমে সকলের থেকে জানতে চান। কামারদা হিন্দু মিলন মন্দির পাঠাগারের সহযোগিতায় সমীকবাবু বই পৌঁছে দিচ্ছেন পাঠকদের বাড়ি বাড়ি। সরকার পোষিত পাঠাগারগুলি গ্রন্থাগারিকের অভাবে বন্ধ হতে বসেছে। দীর্ঘদিন পরে কামারদা হিন্দু মিলন মন্দির পাঠাগার চালু হয়েছিল। ১বছরের চুক্তিতে অবসরপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধীররঞ্জন মাইতি পাঠাগারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। চুক্তি শেষ হওয়ায় তিনি এখন আসছেন না। তাই পাঠাগার কার্যত বন্ধের মুখে।

লকডাউনে বাড়িতে থাকার সুবাদে, বই পড়বার নেশায় পাঠাগারে রোজ আসেন শমীক বাবু। পাঠাগারের মূল উপদেষ্টা, শিক্ষক বিশ্বনাথ মালিকের সাথে পরামর্শ করে সমীক বাবু লকডাউনের সময়ে পাঠাগারে দায়িত্ব সামলাবেন বলে বলেন।

এরপর রোজই খোলা থাকছে পাঠাগার। বাই দেওয়ার অনুরোধ আসছে ফোনেও। অনুরোধ এলেই সাইকেলের ব্যাগে বই নিয়ে বই গাড়ি রওনা দেয় পাঠকের বাড়ি বাড়ি। শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ফোন করে বই নেওয়ার কথা বলছেন। বই পৌঁছে গিয়েছে প্রবীণ লেখক পার্থসারথী দাশ, রবীন্দ্র গবেষক প্রবালকান্তি হাজরা, প্রবীণ শিক্ষক রঞ্জিত দাস বাবুদের বাড়িতে। শিক্ষক অরিন্দম মাইতি, জয়দেব মাইতি, রত্নদীপ সামন্ত, তরুনাভ দাস, সাংবাদিক শুভেন্দু কামিলা, ভীষ্মদেব দাস পাঠাগারে উপস্থিত হন রোজই। বিরক্ত নয়, বই প্রেমীদের ফোন পেয়েই খুশিতে বই নিয়ে পৌঁছে যান শমীক। তিনি বলেন, ই-বুকে মনোনিবেশ করছেন অধিকাংশরা। বেশি সময় কম্পিউটার কিংবা মোবাইল চোখের সমস্যা আনতে পারে। তাই আমি সকলকে অনুরোধ করছি মুদ্রিত বই পড়বার জন্য। অনেকেই আমার আবেদনে সাড়া দিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close