fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বোরো কাটার কাজকে ১০০ দিনের প্রকল্পে যুক্ত করার দাবি

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : মাঠ জুড়ে ব্যস্ততা। একদিকে অপ্রতুল শ্রমিক। অন্যদিকে বর্ষার ভ্রুকুটি। দুয়ের মাঝে পড়ে দুয়ারে উঠছে না সোনালী ধান। তাই এই বোরো মরশুমের ধান কাটার কাজকে একশো দিনের কাজের (এমজিনারেগা) প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে কৃষক সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শাসককে আবেদন জানানো হয়েছে।

পরিষদের সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, সম্প্রতি বোরোধান কাটার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এমনিতেই লকডাউন পরিস্থিতিতে কৃষি শ্রমিকের সঙ্কট রয়েছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধান কাটার কাজ ভীষণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজের ‘এমজিনারেগা’ প্রকল্পে ধান কাটার কাজকে অন্তর্ভুক্ত করলে একদিকে যেমন জব কার্ড হোল্ডাররা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে কৃষকরা বহু পরিশ্রমের ফসল বাড়িতে তুলতে পারবেন।

এহেন প্রস্তাব চাষিদের কাছে নিশ্চিতভাবেই সমস্যার সুরাহা করবে। কিন্তু সময় বড় কম। প্রতিদিন বিকেলে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। মাঠজুড়ে ধান পেকে গেছে। কৃষিশ্রমিকের অভাব। কোলাঘাটের সিদ্ধা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ধুলিয়াড়া গ্রামের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য অশোক দাস ৬ নং জাতীয় সড়কে ভেজা ধান মিলছিলেন শুকনো করার জন্য। তিনি জানান, এই সরকার কৃষকদরদী নয়। সর্বত্র তছরূপ চলছে সরকারি অর্থের। প্রতিবাদের উপায় নেই। ১০০ দিনের কাজ নিয়ে চরম দুর্নীতি চলছে প্রতিটি গ্রামে।

সারা ভারত কৃষক সভার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সম্পাদক সত্যরঞ্জন দাস বলেন, কৃষক স্বার্থে এই সরকারের কোন বার্ষিক পরিকল্পনা নেই। কোনো সদর্থক ভাবনা নেই। ফলে এরাজ্যের চাষিদের দুর্দশার সীমা নেই। আজ মাঠে মাঠে যদি যন্ত্রচালিত মেশিন নামানো যেতো তবে চাষিদের অনেক সুরাহা হোতো। কিন্তু কৃষি দপ্তর তা করেনি।

গত বৃহস্পতিবার পাঁশকুড়া এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৪১ মিলিমিটার। তাঁর ফলে দুর্দশার সীমা নেই। জাতীয় সড়কের ওপর ভেজা ধান মিলে শুকোতে দিচ্ছে চাষিরা। তবে চাষিদের বক্তব্য, এখনই যদি আর বৃষ্টি না হয়, তবে তেমন ক্ষয়ক্ষতি আর বাড়বে না।

Related Articles

Back to top button
Close