fbpx
কলকাতাহেডলাইন

জোড়া ধাক্কায় জেরবার বৌবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোড়া ফলায় বিদ্ধ বৌবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। একদিকে করোনার ভাইরাসের সংক্রমণের হাতছানি, অন্যদিকে ইস্ট- ওয়েস্ট মেট্রোর ক্ষয়ক্ষতির ফলে শোচনীয় অবস্থা বউবাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের। সোমবার এমনটাই জানালেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাই বাংলার নববর্ষেও নেই আনন্দ উদ্দীপনার আয়োজন। নেই হাল খাতা। নেই গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি নিমন্ত্রণ পত্র পাঠানোর ধুম। এদিন বৌবাজারে সোনার দোকান গুলিতে সারে সারে তালা ঝুল ছিল। আয়োজনের কোনও চিহ্ন মাত্র ছিল না।

গত বছর অগাস্ট মাসে ইস্ট- ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গের কাজ চলাকালীন হঠাৎই ধস নামে বৌবাজার এলাকায়। ধসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বউবাজার এলাকার একাধিক বাড়ি। বহু বাড়িতে বড়সড় ফাটল ও চিড় দেখা দেয়। এলাকার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভিটে-মাটি ছাড়া হয়ে রাতারাতি আশ্রয় শিবিরে চলে যায়। ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয় সোনার দোকানগুলিকেও। এরপর কালীপুজো ও ধনতেরাসে অনেক দোকান খুললেও, ব্যবসা ছিল মন্দা। তারপর থেকে আর চাঙ্গা হতে পারেনি বউবাজার সোনাপট্টি। ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে একটু একটু করে দোকান খুললেও ব্যবসায় উন্নতি হয়নি।

এবার করোনার থাবা। বউবাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে লকডাউনের প্ৰয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু এ সময়ে বিয়ের অনেক অর্ডার থাকে। মধ্যবিত্ত পরিবারে বিয়ের পরিকল্পনা অনেক আগের থেকেই শুরু হয়ে যায় । তাই বহু গ্রাহক অনেক আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আবার কেউ আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে গেছেন। তবে এই লকডাউনের জেরে বহু ক্রেতা বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছেন। তাই কবে আবার বাজার খুলবে এবং কবেইবা আবার পুরোদমে ব্যবসা শুরু হবে তা নিয়ে আমরা সন্দেহে আছি। বিকল্প ব্যবস্থা না করলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীদের প্রভূত সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এমনকি সরকার কোনও সাহায্য ঘোষণা করেনি আমাদের জন্য।’

আরও পড়ুন: ৩ মে অবধি জারি থাকবে লকডাউন, ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বউবাজারের আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ব্যাপক লোকসানের মধ্যে পড়েছি । বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বছর পার হয়ে যেতে পারে । এই আর্থিক লোকসান কাটিয়ে উঠতে বছর পাঁচেক লেগে যাবে । পাশাপাশি আমাদের দোকানের কর্মীদের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে । রয়েছে দোকানের অন্যান্য খরচ । সব মিলিয়ে আমরা চরম আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছি।’

বউবাজার স্ট্রিটে ছোটো-বড় মিলিয়ে দোকানের সংখ্যা প্রায় ৩৩০। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির কার্যকারী সভাপতি সমরকুমার দে বলেন, ‘বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারণে ব্যবসায়ীরা আজ অনেকদিন হল একটা ডামাডোলের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বউবাজারে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ এবং কোরোনা আতঙ্কের ফলে ব্যবসায়ীদের কোমর একেবারেই ভেঙে গেছে। আমরা ভেবেছিলাম, এবার অক্ষয় তৃতীয়ার অনুষ্ঠানটিও বেশ বড় করে করব। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে তাও সম্ভব নয়। যে আর্থিক বোঝা আমাদের উপর আসতে চলেছে তা কেটে উঠতে বহু দিন লেগে যাবে।’

Related Articles

Back to top button
Close