fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লাঠির আঘাতে ছেলের মৃত্যু! আটক বাবা

জয়দেব লাহা,  দুর্গাপুর: বাবার লাঠির ঘায়ে ছেলের মৃত্যু! বুধবার রাতের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল কাঁকসা থানার ২ নম্বর কলোনি এলাকায়।
 পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,  মৃতের নাম গৌতম মিস্ত্রি (৪৫)। তিনি পেশায় দিনমজুর। পুলিশ অভিযুক্ত বাবা গৌরাঙ্গলাল মিস্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসা ২ নম্বর কলোনির হরেকৃষ্ণ পল্লীর বাসিন্দা বছর ৭০ এর গৌরাঙ্গ লাল মিস্ত্রি। তাঁর তিন পুত্রসন্তান ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বড় ছেলে গৌতম মিস্ত্রী। তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বীরভূমে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। মেজো ছেলে কর্মসূত্রে মুর্শিদাবাদ জেলায় থাকে। ছোটো ছেলে অসীম ও তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানরা গৌরাঙ্গবাবুর সঙ্গে বাড়িতেই থাকতেন। গৌরাঙ্গবাবু কচুরশাক,কচুর লতি গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করে নিজের খাবার টাকা জোগাড় করতেন। বদমেজাজি বাবার অত্যাচারে বাড়ি থেকে প্রায় সকলেই পলাতক বলে দাবি এক ছেলের।
ছোটো ছেলে’কেও মারধর করতো বলে অভিযোগ। বাবা’কে নিয়ে অতিষ্ঠ ছিল গোটা পরিবারের লোকজন। আতঙ্কে দিন কাটাতেন পরিবারের লোকজন। এর মধ্যে এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে আসে বড় ছেলে গৌতমবাবু। এদিন রাত্রে ঘর পরিষ্কার করা নিয়ে গৌতমবাবু’র বচসা হয় তার বাবার। অভিযোগ, উত্তেজিত হয়ে গৌরাঙ্গবাবুর হাতের থাকা লাঠি দিয়ে গৌতমবাবু’র মাথা ফাঠিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষনা করে। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। পুলিসে খবর দেয়। মৃতের ভাই অসীম মিস্ত্রি বলেন, “বাবা বয়স্ক হওয়ার পাশাপাশি মানসিক রোগী হয়ে গিয়েছে। আমাকে মারধর করে প্রায়ই। দাদা’কেও মারধর করতো। আমি ভয়ে বাড়ি ছেড়ে ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে চলে যায়। লকডাউন থাকায় কিছুদিন আগে আমি বাড়ি ফিরেছি। দাদাও বাড়ি এসেছিলো। বচসা থেকে বাবা এদিন লাঠি দিয়ে দাদার মাথা ফাটিয়ে  দায়। রক্তাত্ব অবস্থায় দাদাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষনা করে। আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি, বাবাকে পাগলাগারদে রাখার জন্য। তা না হলে ফের বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আতঙ্কে রয়েছি।”
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশানারেটের এসিপি (কাঁকসা) শাশ্বতী শ্বেতা সামন্ত বলেন, “অভিযুক্ত মানসিক রোগী। তাঁকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close