fbpx
আন্তর্জাতিকপশ্চিমবঙ্গবাংলাদেশহেডলাইন

লকডাউনের জেরে পাঁচ মাস ধরে বাংলাদেশে আটকে ছেলে, অসহায় অবস্থায় অসুস্থ বাবা-মা

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: গত ১ মে বাংলাদেশে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর এলাকার যুবক শ্যামল পাল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে এখনও বাড়ি ফিরতে পারেননি। বাড়িতে বাবা, মা গুরুতর অসুস্থ। ছেলে বাড়ি ফিরতে না পারায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না তারা। বাধ্য হয়েই রায়গঞ্জের গোয়ালপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে এসে উঠেছেন শ্যামলের বাবা-মা। অন্যদিকে এক ভিডিও বার্তায় শ্যামল জানিয়েছেন বাংলাদেশে এই রাজ্যের প্রায় আড়াই হাজার মানুষ আটকে থাকলেও তাদের ফেরানোর ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না ভারতীয় দূতাবাস।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে বৈধ ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ঘুরতে গিয়েছিলেন শ্যামল। কিন্তু লকডাউনের কারণে সেখানেই আটকে পড়েন তিনি। প্রায় পাঁচমাস ধরে বাড়ি ফিরতে না পারায় চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এক ভিডিও বার্তায় শ্যামল জানিয়েছেন,” যা পয়সা নিয়ে এসেছিলাম সব শেষ। পাঁচমাস ধরে আটকে আছি। কী করব বুঝতে পারছি না। আমার মতো রাজ্যের প্রায় আড়াই হাজার মানুষ এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। সরকারের কাছে আবেদন আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।”

আরও পড়ুন: বিজয়ওয়াড়ার ঘটনায় মৃতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর

শ্যামলের মা জ্যোৎস্না রানী পাল গলব্লাডার স্টোনের সমস্যায় ভুগছেন। দুটো কিডনির সমস্যায় হাঁটাচলা করতে পারেন না বাবা শ্রীশচন্দ্র পাল। ছেলে বাড়িতে না থাকায় বাজারঘাট করা বন্ধ গেছে। চিকিৎসা ও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়েই রায়গঞ্জের গোয়ালপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে চলে আসেন তারা। কিন্তু আজও বাড়ি ফিরতে পারেনি ছেলে। কান্নায় ভেঙে পড়ে জ্যোৎস্না দেবী বলেন, “পাঁচমাস ধরে ছেলে বাংলাদেশে আটকে রয়েছে। খুব অসহায় অবস্থায় রয়েছি আমরা। চিকিৎসা করাতে পারছি না। যেভাবেই হোক আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন। অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনও লাভ হচ্ছে না। ” অন্যদিকে শ্যামলের বাবা শ্রীশচন্দ্র পাল বলেন,” আমার দুটো কিডনি খারাপ। চলাফেরা করতে পারি না। ছেলেটা থাকলে খুব সুবিধা হত। হাতজোড় করছি ছেলেটাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে দিন’’।

 

Related Articles

Back to top button
Close