fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বৌদিকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ দেওরের বিরুদ্ধে

মিল্টন পাল, মালদা: রাতের অন্ধকারে বৌদিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ দেওরের বিরুদ্ধে। মালদার হবিবপুর থানার ঋষিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শক্তিগড় ডুবাপাড়া গ্রামের ঘটনা। শোবার ঘরে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত ওই গৃহবধূর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকেরা। প্রাথমিক তদন্তের পর মৃত গৃহবধূর পরিবারের লোকেদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দেওর ঈশ্বর সরকারকে গ্ৰেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম সন্ধ্যা সরকার (৩০)। তার স্বামী পেশায় কৃষক জগন্নাথ সরকার। তারা তিন ভাই। ছোট ভাই ঈশ্বর সরকারকেই বড় ভাইয়ের স্ত্রী সন্ধ্যা সরকার নানাভাবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য উত্ত্যক্ত করছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু বৌদির এই কুপ্রস্তাব কোনরকম ভাবেই দেওর ঈশ্বর সরকার মেনে নেয় নি। দাদার সম্মান নষ্ট হবে, তাই দুশ্চরিত্র বৌদিকেই রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে অভিযুক্ত দেওর ঈশ্বর সরকার। সোমবার গভীর রাতে বাড়ির লোকেদের অলক্ষ্যেই শোবার ঘরে বৌদিকে নৃশংস ভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে দেওর।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃত মহিলার শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। গলা থেকে পা পর্যন্ত একাধিক জায়গায় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে রাতের এই ঘটনা বাড়ির লোকেরা কেন কিছু জানতে পারলো না, তাও পুলিশকে কিছুটা হতবাক করেছে।

মৃত গৃহবধূর স্বামী জগন্নাথ সরকার জানান, সোমবার রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পাট কাটার জন্য শ্রমিকের ব্যবস্থা করতে গিয়েছিলেন বাইরে। বাড়িতে তার মা এবং দুই ভাই ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরেই স্ত্রীকে খুন করা হয়েছে, এই বিষয়টি জানতে পারি। এরপরই কাজ ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসি । দেখি শোবার ঘরে স্ত্রী রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। পরে জানতে পারি আমার ছোট ভাই ঈশ্বর সরকার স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেছে।

মৃত গৃহবধূ শাশুড়ি অনিমা সরকার পুলিশকে জানান, হঠাৎ করে কেন এমন ঘটনা ঘটে গেল, বুঝতে পারছি না। বড় বৌওয়ের সঙ্গে আমার ছোট ছেলের বনিবনা ছিল না। কথা কম বলতো ছোট ছেলে। রাতে এত বড় কান্ড ঘটলো আমরা বুঝতে পারছি না। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে এবং পরিবারের সম্মান টিকিয়ে রাখতেই গৃহবধূ সন্ধ্যা সরকারকেই কুপিয়ে খুন করেছে তার দেওর ঈশ্বর সরকার। ওই গৃহবধূর তার দেওয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করার জন্য নানা সময় উত্ত্যক্ত করতো। বৌদির কুপ্রস্তাবে সমর্থন জানায় নি অভিযুক্ত ঈশ্বর সরকার। সোমবার গভীর রাতে যখন বাড়ির লোকেরা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখনই পরিকল্পনামাফিক অভিযুক্ত দেওর বৌদির ঘরে যায়। সেখানে কথাকাটাকাটি হয় । এরপরই রাগের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close