fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিনিময়ে ১০ হাজার, নর্তকী-যৌনকর্মীদের বাংলাদেশে ফের পাচার! ‘কিংপিন’ ট্যাক্সিচালকের খোঁজ BSF, ধৃত দালাল-যুবতী

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: লকডাউনে বার নর্তকী ও যৌনকর্মীদের পেশার রোজগার প্রায় পুরোটাই বন্ধ। সূত্রের খবর, শহরের বার-নর্তকী ও যৌনকর্মীদের অনেকেই চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে এসে এই শহরে দেহব্যবসা করতেন। কিন্তু লকডাউনে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফিরে যেতে চাইছেন নিজেদের দেশেই। বিএসএফের দাবি, এই সময়ে তাদের ফের দেশে ফেরাতে ত্রাতা হয়ে উঠেছেন এক ট্যাক্সিচালক। সোমবার বাংলাদেশে পাচার হওয়ার আগেই ধরা পড়ে যাওয়া এক তরুণী ও দালাল তারিকুল গাজিকে জেরা করে এমনই কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন বিএসএফ গোয়েন্দা ও পুলিশ আধিকারিকরা।

বিএসএফ সূত্রে খবর, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে একদিকে বিধাননগর, রাজারহাট ও নিউটাউন এবং অন্যদিকে ধর্মতলা থেকে বালিগঞ্জ এমনকি গার্ডেনরিচ, মেটিয়াব্রুজেও অবাধ যাতায়াত ওই ট্যাক্সিচালকের। বাংলাদেশে ফেরাতে মাথাপিছু
এবার ১০ হাজার টাকার প্যাকেজ দাবি করে সে। এই কাজে ওই ট্যাক্সিচালককে সাহায্য করে তার সঙ্গী সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু দালালও। কলকাতা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ট্যাক্সিতে নিয়ে এসে পার করানোর সম্পূর্ণ টাকা নিজেই নেয় ওই ট্যাক্সিচালক। তারপর দালালদের সেই টাকা ছড়িয়ে দেয়।

জানা গিয়েছে, গত মাসেও একই ভাবে বাইপাসের ধারে একটি পানশালার নর্তকী ও
মহারাষ্ট্রের এক বাংলাদেশি যৌনকর্মীও বাংলাদেশ পালানোর সময় ধরা পড়েন। তাদের জেরা করে কিছু দালালের সন্ধান মিললেও কিংপিন এই ট্যাক্সিচালকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এবারে তার নাম ও ট্যাক্সির নম্বরের সন্ধান মিলেছে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বাংলাদেশ সীমান্তে স্বরূপনগরের হাকিমপুরের বাসিন্দা এক দালাল তারিকুল গাজি বাংলাদেশি যুবতীকে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে যান। ওই যুবতী বাংলাদেশের গোয়াবান্দার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে ৬২ হাজার টাকার সোনার গয়না পাওয়া যায়।

জেরায় ওই যুবতী জানান, গত বছরের জুলাই মাসে রূপা নামে এক বন্ধুর সঙ্গে বনগাঁর সীমান্ত চোরাপথে পার হয়ে বাংলাদেশের ওই যুবতী প্রথমে ১ মাস বনগাঁয় থাকেন। এরপর দুজনেই উত্তর কলকাতার সোনাগাছির যৌনপল্লির একটি ঘরে গিয়ে ১৫ দিন ব্যবসাও করেন। এরপর বেঙ্গালুরু চলে গিয়ে রোশননগরের যৌনপল্লিতেও যৌনকর্মীর কাজ করেন। এরপর যুবতী বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত রবিবার রাত দশটা নাগাদ বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে করে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি।

বিমানবন্দরে নেমে ট্যাক্সিচালকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। তার সঙ্গে দশ হাজার টাকার চুক্তি হয়। এই প্যাকেজেই কলকাতা থেকে বসিরহাট সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে চোরাপথে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করানো হবে বলে যুবতীকে জানানো হয়। রাত কাটিয়ে সকালবেলা উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুরে ট্যাক্সিচালক তার দুই দালাল সঙ্গী আলমগীর ও লালুর হাতে তুলে দেয় যুবতীকে। তারা আবার তাকে তুলে দেয় বিএসএফের হাতে ধৃত দালাল তারিকুলের হাতে। ওই যুবতীসহ তারিকুল কে ধরে ওই কিংপিন ট্যাক্সিচালক এবং তার সম্পূর্ণ রুট এর কথা জানতে পেরেছেন বিএসএফের গোয়েন্দারা। এবার তাকে পাকড়াও করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

Related Articles

Back to top button
Close