fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গরুপাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার BSF কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমার

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগের বিধানসভা নির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনের আগে যেমন বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার সারদা এবং নারদ কান্ড অন্যতম ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিল, ঠিক তেমনই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্যতম বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে গরু পাচার কান্ড। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই মামলায় প্রথম গ্রেফতার করা হল বিএসএফ কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমার কে। ইতিমধ্যেই এই মামলার সঙ্গে কয়লা মাফিয়া সহ-আন্তর্জাতিক লেনদেনের হদিশ পেয়েছে সিবিআই। সেই কারণে এবার এই মামলার সক্রিয়ভাবে তদন্তে এগোতে শুরু করলেন সিবিআই গোয়েন্দারা।
জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে  সতীশ কুমারের সল্টলেকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও তাকে সেই সময় পাওয়া যায়নি। কিন্তু বেশ কিছু নথিপত্র এসেছিল সিবিআইয়ের হাতে। জানা গিয়েছে এই নথিপত্র সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের কারণে মঙ্গলবার সকালে সতীশ কুমারকে ডেকে পাঠানো হয়। সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতারের কথা ঘোষণা করা হয়। গরু পাচার কাণ্ডে অনেক বড় বড় মাথার সঙ্গে অভিযুক্ত এই বিএসএফ কমান্ড্যান্টের যোগসূত্র রয়েছে বলে সিবিআই সূত্রের খবর।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ৪৭ লাখ টাকা নগদ-সহ কেরালার আলাপ্পুজা স্টেশন থেকে এক বিএসএফ কমান্ডান্ট জিবু টি ম্যাথুকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে ২০১৮ সালের মার্চে গরু মাফিয়া এনামূল হককে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তার আগে সেই বছর এনামূলের বিরুদ্ধে যে বেআইনি কাজের যোগ উঠেছিল, তা নিয়ে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, শিলিগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ, পঞ্জাবের অমৃতসর এবং ছত্তিশগড়ের রায়পুরের ১৫ টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।
জেবি ম্যাথিউকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই অভিযুক্ত বিএসএফ কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমারের হদিশ পান সিবিআই গোয়েন্দারা। গরু পাচার করে কিভাবে সতীশ ঘুষ নিতেন, তার পুরোটাই প্রকাশ্যে উঠে আসে গোয়েন্দাদের কাছে। আদতে গরু নিয়ে আসা হলেও নথিতে সেগুলি হয়ে যেত ছোটো এবং কম ওজনের বা ‘বাছুর’। আর গরুর যে আসল দাম, তার থেকে কম দামে সেই ‘বাছুর’ নিলাম করা হত। সেখান থেকে বিএসএফ ও শুল্ক দফতর আধিকারিকদের মিলত ‘ঘুষ’। এই এএফআইআরে নাম রয়েছে বিএসএফের ৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের প্রাক্তন কমান্ডান্ট সতীশ কুমার, পাচার চক্রের মাথা এনামূল হক-সহ আনারুল শেখ এবং মহম্মদ গোলাম মুস্তাফার।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মালদহে ৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন সতীশ কুমার, যিনি এখন ছত্তিশগড়ের রায়পুরে মোতায়েন আছেন। পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত থাকার সময় তাঁর অধীনে মালদহে দুই এবং মুর্শিদাবাদে চার কোম্পানি বাহিনী ছিল। ওই ১৬ মাসে পাচারের আগে সীমান্তে ২০,০০০-এর বেশি গরু বাজেয়াপ্ত করেছিল বিএসএফ। কিন্তু কখনও গাড়ি এবং পাচারকারীরা সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জালে ধরা পড়েনি। সেখানেই পাচারকারীদের সঙ্গে এক শ্রেণির বিএসএফ ও শুল্ক দফতর আধিকারিকদের যোগসাজশ উঠে এসেছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, আসলে যে গরু বাজেয়াপ্ত করা হত, খাতায়কলমে তা পালটে যেত। গরুর ওজন কমে যেত। ছোটোও দেখানো হত। তারপরই কম দামে সেই বাজেয়াপ্ত গরুগুলিকে নিলামে তোলা হত। সিবিআইয়ের অভিযোগ, শুল্ক দফতরের নিলামে সেই গরুগুলি ফের কিনে নিত আনারুল ও মুস্তাফা।  এরকম আনুকূল্যের বিনিময়ে বিএসএফ আধিকারিকদের গরু পিছু ২,০০০ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের ৫০ টাকা ঘুষ দেয়া হত। সেই কারণে এবার বিএসএফ আধিকারিককে গ্রেপ্তারের পর আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ  সরকারি আধিকারিকদের নাম উঠে আসতে পারে বলে আশা সিবিআই গোয়েন্দাদের।

Related Articles

Back to top button
Close