fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

পরিযায়ী শ্রমিকদের দূরাবস্থার জন্য দায়ি কংগ্রেসও, এবার কি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছেন বহেনজি?

নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ : করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই প্রতিদিন একটু একটু করে বদলাচ্ছে আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ। এবার সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বসপা) নেত্রী মায়াবতীর (বহেনজি)!

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নীতীশের সঙ্গ ছেড়ে একা লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি! এদিকে মধ্যপ্রদেশের আসন্ন উপনির্বাচনে ২০ টি আসনে জয়ের লক্ষ নিয়ে বিজেপির কাছ থেকে কুরশি পুনর্দখলের অঙ্ক কষছে কংগ্রেস। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস-বাম সহ অন্যান্য দলগুলি। তার মধ্যেই আঞ্চলিক বা জাতীয় স্তরে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছেন উত্তরপ্রদেশ অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি বসপা।

এক বছর আগে লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির বিরুদ্ধে সপা, বসপা, কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলকে নিয়ে যখন মহাজোট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল কংগ্রেস তখন সব থেকে বেশি বেঁকে বসেছিলেন বহেনজি। তিনি দীর্ঘ বিবাদ ভুলে সপার সঙ্গে জোট করলেও শেষ অবধি কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে সম্মতি দেননি। তবে জোট করেও বিজেপিকে হারাতে না পারায় সপার সঙ্গে জোট ভেঙে দেন তিনি। এরপর উপনির্বাচনেও এককভাবেই লড়াই করেছেন। কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে সমান সুর চড়িয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি বিজেপি অপেক্ষা কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই বেশি সুর চড়াতে দেখা যাচ্ছে বহেনজিকে। বিশেষ করে রাজস্থানে তাঁর দলের বিধায়করা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বেশি সরব। হয়তো সেই রাগেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকার ফেলে বিজেপি সরকার গড়ায় নীরব সমর্থন দিয়েছেন তাঁর দলের বিধায়করা।

এই টানাপোড়েনের রেখেই করোনা পরিস্থিতিতে যখন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার জন্য গত সপ্তাহে কংগ্রেস বৈঠক ডাকল তখনও সেই বৈঠকে যোগ দেব না বলে সরাসরি জানিয়ে দেন তিনি।

এর মধ্যেই ভিন রাজ্যে আটকে পড়া উত্তরপ্রদেশে শ্রমিকদের জন্য বাস পাঠানো ইস্যুতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং যোগী আদিত্যনাথের যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল, তখনও দুপক্ষকেই তোপ দেগেছিলেন তিনি। তবে সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক অভিসন্ধি বলে বেশি কটাক্ষ করেছিলেন মায়াবতী। আর  এবার আর রাখঢাক না রেখে আটকে পড়া শ্রমিকদের দুর্দশার জন্য সরাসরি কংগ্রেসকেই  কাঠগড়ায় তুললেন তিনি।

পরিযায়ী শ্রমিকদের দূরাবস্থার জন্য যখন দেশের সমস্ত বিরোধী দলগুলি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তোপ দাগছে, তখন কার্যত এই ইস্যুতে কংগ্রেস সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে ঘুরিয়ে বিজেপিকে ক্লিনচিট দিলেন বহেনজি। তিনি বলেন, ‘দেশের ভিন রাজ্যে আটকে পড়া  শ্রমিকদের বর্তমান দূরাবস্থার জন্য দায়ী কংগ্রেসও। বিজেপিকে যদি এই দুরবস্থার জন্য দায়ী করতে হয়, তাহলে কংগ্রেসকেও দায়ী করতে হবে। কারণ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় দেশে এবং বেশিরভাগ রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার ছিল। সেই সময় থেকেই দেশের একটা বড় অংশের দরিদ্র মানুষ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নিজেদের এলাকা থেকে শহরাঞ্চলে ভিন রাজ্যে যাওয়া শুরু করেছে। সেই সময় কংগ্রেস সরকার যদি এই সমস্ত মানুষগুলির জন্য নিজের নিজের এলাকায় বা রাজ্যে রোজগার দেওয়ার ব্যবস্থা করত, তাহলে আজ শ্রমিকদের এই দুর্দশা হত না। তাই শ্রমিকদের এই দুর্দশা ঘোচাতে হলে বিজেপির উচিৎ কংগ্রেসের পথে না হেঁটে নিজেদের এলাকাতেই শ্রমিকদের রোজগারের ব্যবস্থা করা। তাহলেই ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।’

আর তাতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি এবার কি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছেন বহেনজি! ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে কি তাহলে নয়া সমীকরণ দেখা যাবে?

Related Articles

Back to top button
Close