fbpx
অসমখেলাফুটবলহেডলাইন

শিলচর জেলার শতাব্দীর সেরা ফুটবল একাদশে দুই জোড়া বাবা-ছেলে

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, শিলচর: বরাক উপত্যকার তিন জেলার বিংশ শতাব্দীর সেরা ফুটবল একাদশ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল বাকস। করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির পর ১৮ সেপ্টেম্বর শিলচর একাদশের নাম ঘোষণা করল তারা। এদিন বিকেলে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট প্যাভিলিয়নে এক ছিমছাম সভায় শিলচর দল ঘোষণা করেন বাকস কর্মকর্তা ও সভায় উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা। রিজার্ভ সহ পনেরো জনের নামও ঘোষণা করা হয়।এছাড়া একের বেশি নোমিনেশন প্রাপ্তদের নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও প্রকাশ করা হয় বাকসের তরফে।

কোভিড প্রোটোকলের জন্য শতাব্দীর সেরা একাদশের নাম ঘোষণা করা হয় এক সংক্ষিপ্ত সভার মাধ্যমে। বাকসের কাছাড় জেলার সভাপতি দেবাশিস সোমের(Debasish Shome) পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় শতাব্দীর সেরা একাদশ গঠনের প্রেক্ষাপট ব্যক্ত করেন বাকসের কেন্দ্রীয় সচিব দ্বিজেন্দ্রলাল দাস। তিনি জানান, সংস্থার প্রাক্তন সচিব তাজ উদ্দিনের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বরাক উপত্যকার তিন জেলাতেই ১৯০১-২০০০ সালের সময়সীমায় খেলে থাকা ফুটবলারদের নিয়ে আলাদাভাবে তিনটি শতাব্দীর সেরা দল গঠন করা হল। সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে শিলচর ডি এস এ-র সভাপতি বাবুল হোড় BUKSS -এর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। বলেন,”এই কাজটা কঠিন ছিল। তবু তারা করেছে। নিঃসন্দেহে এটা এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ।” আর ফিফার প্রাক্তন সহকারি রেফারি মৃণালকান্তি রায় ( Mrinal Kanti Roy) বলেন, “তাদের নির্বাচক প্যানেলের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমি শিলচর মাঠের সঙ্গে প্রায় চার দশক ধরে জড়িত। এর মধ্যে বর্তমান শতাব্দীর কুড়ি বছর বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে যে সময়ের খেলা দেখিনি, সেই সময়কার খেলোয়াড়দের মূল্যায়ণ করা কঠিন ছিল। তাই দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমত একটু চিন্তাই করেছিলাম। কাজ করতে গিয়ে খুব আনন্দ পেয়েছি।”

আর শিলচর ডি এস এ-র ( Silchar DSA ) সচিব বিজেন্দ্রপ্রসাদ সিং বলেন, “তাদের এই কাজকে সাধুবাদ জানাই। এই দলের তালিকাটি একটি রেকর্ড হিসেবে সংস্থায় রাখব। ফলে ভবিষ্যতে এটা খুব কাজে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।” সভা বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিচালনা করেন বাকসের প্রাক্তন সচিব তাজ উদ্দিন ( Md Taz Uddin )। তাঁকে সহযোগিতা করেন রবি হাজাম।

সভায় নির্বাচকদের তালিকা ঘোষণা করেন সংস্থার কোষাধ্যক্ষ ইকবাল বাহার লস্কর ( Ikbal Bahar Laskar)। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক চন্দন শর্মা, বাকস সদস্য সুদীপ সিং, সঞ্জীব সিং প্রমুখ। শিলচরে নির্বাচক মণ্ডলীতে ছিলেন বাদল দে, দিলীপরঞ্জন নন্দী, শিথিল ধর, মৃণালকান্তি রায়, রীতেন ভট্টাচার্য, যাদব পাল, ভরত হাজাম, কৃষ্ণবাহাদুর ছেত্রী, জহর পাল, নিশীথরঞ্জন লস্কর(বাদল লস্কর) বাবুল হোড়, বিকাশ দাস, দেবাশিস সোম, শম্ভু চৌধুরী এবং বদরউদ্দিন মজুমদার। সভায় ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেনন দেবাশিস সোম। বাকসের তরফে একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয় বাবুল হোড় ও বিজেন্দ্রপ্রসাদ সিংয়ের হাতে।

আরও পড়ুন:দাড়িভিট: হিমশৈলের চূড়ামাত্র

 

শিলচরের বিংশ শতাব্দীর সেরা একাদশ —
উমেশ কর (গোলকিপার), সুবীর চৌধুরী, জিতেন্দ্রচন্দ্র দাশগুপ্ত, অজয় গুপ্ত, ক্যাপ্টেন নলিনীমোহন গুপ্ত (ডিফেন্ডার), দলবাহাদুর রাণা, হরিবাহাদুর ছেত্রী, জহর গুপ্ত (মিডফিল্ডার), অমলেন্দু দে, বিজনগোপাল দাস, কৃষ্ণবাহাদুর ছেত্রী (ফরোয়ার্ড)।
রিজার্ভ খেলোয়াড়- বারীন্দ্র শর্মা (গোলকিপার), অসিত ধর (ডিফেন্ডার ), রাজেন গোয়ালা ( মিডফিল্ডার) তপোধীর দেব (ফরোয়ার্ড )। এই তালিকায় রয়েছেন দুই জোড়া বাবা-ছেলে। ক্যাপ্টেন এন এম গুপ্ত এবং তাঁর ছেলে অজয় গুপ্ত। এছাড়া রয়েছেন হরিবাহাদুর ছেত্রী ও তাঁর ছেলে কৃষ্ণবাহাদুর ছেত্রী।

যারা একাধিক নির্বাচকের ভোট পেয়েছেন তাঁদের নিয়ে গঠিত সংক্ষিপ্ত তালিকা এ রকম —
গোলকিপার: রমাপদ দত্ত, চন্দন সিং, যাদব পাল।
ডিফেন্ডার: সেনারাম নাথ, সুবীর দে, বারীন সিংহ, লোকবাহাদুর ছেত্রী, অর্জুন হাজাম, প্রশান্ত বসুরায়, প্রভাস দাস, হীরালাল দাস, পার্থপ্রতিম রায়, যুগময় দাস, ভূপেন্দ্র রায়চৌধুরী, ভরত হাজাম।

মিডফিল্ডার: তিথু মজুমদার, বাহারুল ইসলাম, জিতেন সিং, প্রেমবাহাদুর ছেত্রী, বাদল লস্কর, আশুতোষ দত্ত, আব্দুর রাজ্জাক, হীরালাল কাবুই, মৃণালকান্তি রায়, আব্দুল আজিম লস্কর (মতিন ), বিকাশ দাস, জয়কুমার সিংহ, রুক্ষিনি চুতিয়া, রাজেন্দ্র রায়, সমীর মিয়াঁ, পীযূষ রায়, কবির উদ্দিন লস্কর।

ফরোয়ার্ড: অরিজিৎ ধর, বীরবাহাদুর ছেত্রী, নলীনাক্ষ পালচৌধুরী, অভিজিৎ দেব (বাচ্চু), অসিত দেবরায়, মদনলাল দাস, সামসুল হক বড়ভূঁইয়া, রঞ্জনাভ দত্ত, অসীম চক্রবর্তী, সুব্রত সিং, গুলিদম রংমাই।

Related Articles

Back to top button
Close