fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গবিজ্ঞান-প্রযুক্তিহেডলাইন

সপুস্পক বাসক পাতার মধ্যশিরা থেকে গুচ্ছমূল, উদ্ভিদবিদ্যায় অভিনব ঘটনা

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: ভেষজ সপুষ্পক উদ্ভিদ বাসকের মধ্যঅশিরা থেকে পাওয়া গেল গুচ্ছমূল। যা সচরাচর ঘটে না অবশ্য। উদ্ভিদ জগতের এহেন একটি আশ্চর্যজনক এবং বিস্ময়কর ঘটনা ঘটল পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের দেউলবাড় গ্রামে। এখানে দেখা গেল বাসক পাতা থেকে বেরিয়েছে গুচ্ছমূল। মাটিতে পড়ে থাকা একাধিক পাতায় এমন দৃশ্য দেখা যায়। তা নজরে আসে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা ও বনবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র গৌতম পণ্ডার।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের একজন জিজ্ঞাসু ছাত্র হিসেবে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে একগুচ্ছ। এই ধরণের সপুষ্পক উদ্ভিদের ক্ষেত্রে তো পরাগমিলন ঘটে। অঙ্গজ জনন তো দেখা যায় না! তা সত্ত্বেও কিভাবে এমন ঘটনা ঘটল? তাও আবার পাতার কোনও ধার থেকে নয়, মধ্যশিরা থেকে গুচ্ছমূল বেরিয়েছে!

কি কি কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? এর থেকে কি নতুন চারা গাছের জন্ম হতে পারে? কেনই বা উদ্ভিদটির এমন ধরণের অভিযোজন? অধিক পুষ্টির কারণে কি এটা সম্ভব? এমন নানা প্রশ্ন জেগেছে উদ্ভিদবিদ্যার এই ছাত্রের মধ্যে।
সাধারণত পাথরকুচি, বিগনোনিয়া ইত্যাদির পত্রজ মূল দেখা যায়। বাসকের ক্ষেত্রে তা অদ্ভুত ঘটনা বৈকি! গৌতমের জিজ্ঞাস্য, এটাকে কি অস্থানিক মূল বলা যায়? কিংবা পত্রজ মূল? পাথরকুচির ক্ষেত্রে মূলতঃ আমরা দেখেছি, পাতার কিনারা থেকে মূল বেরোয়, এবং তা থেকে মুকুল হয়ে পুনরায় নতুন চারা গাছ জন্মায়। কিন্তু এক্ষেত্রে মুলটি উৎপন্ন হয়েছে পাতার মধ্যশিরা থেকে। এটা আরও আশ্চর্যের ব্যাপার।

আরও পড়ুন:রাজ্যে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ৩০৯১, মৃত ৫৭, সুস্থ ২৯৯

এব্যাপারে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. অমলকুমার মণ্ডল বলেন, এই ধরণের ঘটনার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রথম কারণটি হল, এক্ষেত্রে পরাগ মিলনের ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকতে পারে। তাই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কঠিন লড়াই করে অভিযোজন ঘটিয়েছে বাসক। এটাই যদি কারণ হয়ে থাকে, তাহলে প্রকৃতির ক্ষেত্রে তা মঙ্গলজনক বলেই মনে করেন অমলবাবু। তাঁর মতে, বাসকের ভেষজ গুণ রয়েছে। যা বিভিন্নভাবে মানুষের উপকারে লাগে। অঙ্গজ জনন হলে তা সহজেই বেশি চাষ করা যাবে। এতে আখেরে লাভই হবে। যদিও সম্পূর্ণ কারণ জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ক’দিন আগেই বিদ্যানসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যার ছাত্রী মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ফতেমা খাতুনের নজরে এসেছিল পেঁপের ভিতরে পেঁপে। একই ঘটনা নজরে এসেছিল বিদ্যানসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ স্কলার সায়ন্তন ত্রিপাঠীর। তারপরই আরও অভাবনীয় ঘটনা নজরে এসেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের বাসিন্দা তথা বিদ্যায়সাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রী মিমোসা ঘোষের। তিনি দেখেছিলেন লেবুর ভেতরে আস্ত লেবু! যা অত্যন্ত বিরলতম ঘটনা বলে জানিয়েছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী ড. অমলকুমার মন্ডল।

তবে বাসক তথা অ্যাডাথোডা ভাসিকার ক্ষেত্রে ঘটনাটি আসলে বেশি পুষ্টির কারণে হয়েছে কিনা সেটি মাটি পরীক্ষা ছাড়া বলা কঠিন বলে ব্যাখ্যা করেছেন অমলবাবু। তিনি জানান, মাটি পরীক্ষা ছাড়া পুষ্টি নিয়ে বলা কঠিন। আবার এক্ষেত্রে আরও একটি প্রশ্ন থেকে যায়, পুষ্টি বেশি হলে পাতা মাটিতে পড়ার পর দ্রুত পচন ধরার কথা। এক্ষেত্রে তো তা হয়নি। এর থেকে নতুন গাছ বেরনো সম্ভব কিনা? তার উত্তরে অমলবাবু জানান, শেকড় যেহেতু বেরিয়েছে, তাই নতুন গাছ হওয়া অসম্ভব নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণার প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:পুজোর মুখে পর্যটকদের জন্য সেজে উঠছে পাহাড়… খুশির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে না সংক্রমণ! বাড়ছে উদ্বেগ

আসলে এই পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে নানা আশ্চর্য ঘটনা। যার কিছু আমাদের নজরে পড়ে, আবার কিছু ঘটনা নজর এড়িয়ে যায়। উদ্ভিদ জগৎও এই প্রক্রিয়ায় বাইরে নয়। উদ্ভিদ জগতেও ঘটছে নানা আশ্চর্যজনক ঘটনা। অনেক সময় অনেক কিছু আমাদের নজরের বাইরে ঘটলেও, অনেক পরিবর্তন বা আশ্চর্য ঘটনা নজর এড়াতে পারছে না উদ্ভিদবিদ্যার ছাত্র, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের চোখে। আর তারই জেরে সবার সামনে চলে আসছে নানা পরিবর্তনের চিত্র।

Related Articles

Back to top button
Close