অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বর্ধমানের ভাতারে মিলল সুড়ঙ্গের হদিশ, চাঞ্চল্য

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, : বাড়ির তৈরির জন্য ভিত খুঁড়তে গিয়ে হদিশ মিলল ের। এই ঘটনা জানাজানি হতেই শনিবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের মাহাতা গ্রামে। সুড়ঙ্গটি প্রাচীন স্থাপত্যের অংশ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।আপাতত বাড়ির নির্মাণ কাজ বন্ধ করে  পুলিশ ের চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে।

সুড়ঙ্গ দেখতে এখন উৎসাহী মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে  মাহাতা গ্রামের জিয়ারল মল্লিকের বাড়িতে। সুড়ঙ্গটি ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অংশ কিনা তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।

জিয়ারুল মল্লিক জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন  বাড়ি তৈরির জন্য তাঁর ভিটায় ভিত খোঁড়ার কাজ চলছিল।ওই সময়ে মাটির নিচের একাংশে ধস নামে। মাটি সরিয়ে ভিত খোঁড়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়েই ওই বিশাল সুড়ঙ্গটি তাঁরা দেখতে পান।

আরও পড়ুন:এই পুরসভাই দেশে প্রথম সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাস করল!

জিয়ারুল মল্লিক আরও বলেন, এক মুহূর্তের মধ্যেই সুড়ঙ্গ বের হওয়ার কথা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার প্রচুর মানুষ সুড়ঙ্গ দেখতে তাঁদের বাড়িতে আসতে শুরু করেন। খবর পেয়ে ভাতার থানার পুলিশও চলে আসে।পুলিশ ওই জায়গায় ভিত খোঁড়ার কাজ আপাতত বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে জায়গাটি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরাতত্ত্ব বিভাগের আধিকারিকদের সুড়ঙ্গটি পর্যবেক্ষণে আসার কথা আছে।

সুড়ঙ্গ দেখতে উপচে পড়া মানুষের ভিড়

বর্ধমানের বিশিষ্ঠ  ইতিহাসবিদ সর্বজিত যশ জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের পরে বোঝা যাবে সেটি কোন প্রাচীন স্থাপত্য কীর্তি কিনা। তবে মাহাতা এলাকার সঙ্গে বহু প্রচীন ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। মনসা মঙ্গল কাব্য সৃষ্টির সঙ্গেও এই গ্রামের  নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কথিত আছে এখানকার উজানি নগর নাকি বেহুলার বাপের বাড়ি। হসেন শাহের তৈরি মসজিদও এই এলাকায় রয়েছে।

সর্বজিত বাবু বলেন, ছবিতে যে টুকু দেখেছি তা থেকে একটা কথা বলতে পারি জৈন স্থাপত্যের সঙ্গে  সুড়ঙ্গটির  অনেকাংশে মিল রয়েছে । পুরাতত্ত্ববিদদের পর্যবেক্ষণের পর  নিশ্চই সুড়ঙ্গের সৃষ্টি রহস্য সামনে আসবে।

Related Articles

Back to top button
Close