fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দূর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে দুস্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য, পরিত্যক্ত বার্ন স্ট্যান্ডার্ড থেকে চুরির অভিযোগ, গ্রেফতার ২

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: নজরদারির অভাবে দুস্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য দূর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। দিনে দুপুরে অবাধে চুরি হয়ে চলছে দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কারখানাতে। কারখানায় পড়ে থাকে যন্ত্রাংশ, পরিকাঠামো, উৎপাদিত সামগ্রী অবাধে পাচার হয়ে যাচ্ছিল দিনদুপুরে। খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কমিশনারেট। শনিবার  আচমকা কারখানা চত্বরে হানার ফলে দুর্গাপুর কোকওভেন থানার পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই চোর।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম শঙ্কর তাঁতি, আলম গিরি। ধৃতরা বন্ধ কারখানা সংলগ্ন লিলুয়াবাঁধের বাসিন্দা।ধৃতদের  উদ্ধার হয় পাচারের আগে কারখানায় উৎপাদিত উন্নতমানের ইট। শনিবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে, ঘটনার অভিযোগে বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, দুর্গাপুর ষ্টেশন সংলগ্ন রাষ্ট্রায়ত্ত বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কারখানাটি বছর ৩০ আগে বন্ধ হয়ে যায়। মুলত রেলের ব্যাবহৃত সামগ্রী তৈরী হত। বন্ধ হওয়ার পর কারখানায় কাজ হারানো শ্রমিকরাই মুলত কারখানাটির দেখাশোনা করে। কারখানার জমির একাংশে সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরী করে জীবিকানির্বাহ করার পাশাপাশি রক্ষনাবেক্ষন করএন অনেক কাজ হারা শ্রমিক। সম্প্রতি করোনা আবহে লকডাউনের ফলে জন সমাগম না হওয়ায় সুযোগে দুস্কৃতী দৌরাত্ম শুরু হয়েছে সেখানে।অভিযোগ, দুস্কৃতীরা দিনদুপুরে প্রকাশ্যে অবাধে লুট করে পাচার করছে কারখানার যন্ত্রাংশ, পরিকাঠামো, উৎপাদিত সামগ্রী।

বন্ধ কারখনার কাজ হারানো শ্রমিকরা জানান,” বাধা দিতে গেলে হুমকি আসছে। আতঙ্কে রয়েছি। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।” চুরির ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সরগরম শিল্পশহরে রাজনৈতিক বাতাবরন।

বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষন ঘড়ুই জানান,” বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখনার সুরক্ষার নৈতিক দায় রাজ্যের। অথচ, রাজ্য সরকার জাতীয় সম্পত্তি সুরক্ষা দিতে ব্যার্থ। রাজ্যের শাসকদলের মদতে অবাধে লুট হচ্ছে বন্ধ বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কারখানায়। পুলিশ ও প্রশাসন নির্বিকার। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিষয়টি কেন্দ্র সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে জানাবো।”

যদিও স্থানীয় বিধায়ক তথা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পাড়িয়াল জানান,’ রাস্ট্রায়ত্ত বন্ধ কারখানা। কেন্দ্রের কোনরকম নজরদারি নেই। এরকম চুরি বার্ন ছাড়াও একাধিক বন্ধ কারখানায় হচ্ছে। অনেক সময় খবর পেয়ে আমি নিজে গিয়ে চুরি আটকেছি। পুলিশ ডেকে চোরেদের ধরিয়েছি। এক্ষেত্রেও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি, রাজনৈতিক রং না দেখে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হোক। পুলিশ দেখছি বিষয়টি।” ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের সন্ধান শুরু করেছে পুলিশ, জানিয়েছে কোকওভেন থানা।

Related Articles

Back to top button
Close