fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চাকরিজীবী থেকে ছাত্র-ছাত্রী সবার চর্চায় বাসের ভাড়া

সুজয় অধিকারী: হু হু করে বাড়তে থাকা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তার মাঝেই এগোচ্ছে লকডাউনের এক একটি ধাপ। তবে ধাপ এগোনোর সঙ্গে কিছুটা শিথিলও হচ্ছে। এর মধ্যেই চালু হয়ে গেছে সাধারণ যাত্রীবাহী। আর তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাস। রেড জোন এলাকায় তো পুরোপুরি বন্ধ আছে, আর বাকি গ্রীন জোন বা যেখানে করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম, সেখানে বাস চালু হয়েছে। মে জুন মাসের গরমে বাসে উঠলে অন্যের গায়ের দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এবার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাস চলাচলের নতুন নিয়মে। বাসে থাকবেনা কুড়ি জনের বেশি প্যাসেঞ্জার। কার্যত দামটাও সেই হিসাবে বাড়াতে হয়েছে বাস চালকদের। প্যাসেঞ্জার বাসে পা রাখা মাত্রই তাকে ভাড়া গুনতে হবে ২০ থেকে ২৫ টাকা সঙ্গে কিলোমিটার প্রতি ২ থেকে ৫ টাকা করে প্রতি মাথাপিছু বেড়েছে।

এদিকে মাস পেরোলেই চালু হবে কলেজ, ইউনিভার্সিটি, স্কুল আর বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রী তাদের প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য কম খরচে যাতায়াতের মাধ্যম বাস। আর বাড়তে থাকা বাসের ভাড়ায় তাদেরও আকাশ-পাতাল চিন্তা। এরকম ভাড়া থাকলে সপ্তাহে কদিনই বা কলেজ যেতে পারবে। যতদিন না স্কুল-কলেজ উপস্থিতির নতুন নিয়ম তৈরি করে ততদিন এরাও যেন দুশ্চিন্তায় ভুগছে। দাবি-দাওয়া জানানোর মাধ্যম হয়তো ঠিকমতো জানা নেই। তাই যাবতীয় দাবি-দাওয়া রাখার একমাত্র মাধ্যম বলতে সোশ্যাল মিডিয়াকে চেনে। সেখানেই পোষ্টের মাধ্যমে সরকারের, উচ্চপদস্থ আমলাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় আছে।

আরও পড়ুন: শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো বেতন কাটার মামলায় কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

এতদিন কল তলার চর্চায় ছিল; কবে উঠবে লকডাউন, এই সময় সরকারের কি করা উচিত, কত রেশন দেওয়া উচিত, বাজার দর এই সময় কত থাকা উচিত, ইলেকট্রিসিটি বিল কত দিন না আসা উচিত এসব। কিন্তু রাস্তায় বাস চলা শুরু হতেই তাদের আলোচনায় জায়গা পেয়ে গেল বাসের ভাড়া। যারা ডেইলি লেবারের কাজ করে দিন গেলে ৩০০-৪০০ টাকা রোজকার করে বাড়ি ফেরে, তাদের তো যাতায়াতেই প্রতিদিনের অর্ধেক টাকা চলে যাবে। তার উপরে যে প্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে শুরু করেছে তাদের নতুন নতুন নিয়ম তো আছেই।

আলোচনাটাও স্বাভাবিক, কারণ নিয়ম মেনে চালু হচ্ছে কিছু সংস্থান, গ্রুপ, চাকরির ক্ষেত্র কিন্তু যাতায়াতের মাধ্যম কি! ট্রেন চলা বাতিল, ছোট ছোট অটো, টোটো চলাচল বন্ধ। ওলা উবেরও প্রায় বন্ধই বলা যায়। যদিও ঘোষণা হয়েছে কলকাতার রাস্তায় নামবে হলুদ ট্যাক্সি। কিন্তু ট্যাক্সির ভাড়াও সাধারণ যাত্রীদের কাছে একটু বেশি মনে হয়। আর লকডাউনের জেরে সবকিছুর দাম বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ট্যাক্সি ভাড়াও বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এরপর লোকের হাতে একটাই বিকল্প; চলতি গুটিকয়েক বাসেই অফিস বা গন্তব্যস্থলে যাতায়াত।  তবে এখন যাতায়াতের একমাত্র সহজ মাধ্যম; নিজস্ব সাইকেল, বাইক বা অন্যান্য গাড়ির ব্যবহার। এতে সামাজিক দূরত্ব যেমন বজায় থাকবে তার সঙ্গে খরচটাও নিজের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে।

Related Articles

Back to top button
Close