fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ব্যবসায় মন্দা, জৌলুসহীন বিশ্বকর্মা পুজো

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: বিশ্বকর্মা পুজো আর মহালয়া এ বছর একইদিনে। রেডিওর প্রভাতী মহালয়ার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পর গঙ্গার ঘাটে ঘাটে তর্পণের চেনা ছবিটাই দেখা গিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর জৌলুসটাই নেই। শিল্পাঞ্চল থেকে মাঝারি , ছোট কল কারখানা, ছবিটা মোটামুটি একই। বাস, মিনিবাস, অটো, রিক্সা স্ট্যাণ্ডলোতে নমো নমো করে পুজো হচ্ছে। বউবাজারের সোনাপট্টিও অন্য কথা বলছে না। আসলে করোনার ধাক্কায় বেসামাল ব্যবসা, বিশ্বকর্মা পুজোয় তারই ছাপ পড়েছে।

অন্যান্য বছর বিশ্বকর্মা পুজোর দিন দুয়েক আগে থেকেই কারখানা চত্বরে উৎসবের মেজাজ চোখে পড়ে। পুজোর দিন পরিবারসহ কর্মীরা হাজির হন। খাওয়া দাওয়ার এলাহি আয়োজন থাকে। এবার সেসব উধাও, নিয়মরক্ষার পুজো হচ্ছে। ভারত চেম্বার অফ কমার্সের প্রাক্তন সভাপতি রাকেশ শাহ জানালেন, তাঁদের কারখানায় এবার ছোট করে পুজো হচ্ছে। তিনি জানালেন, তাঁদের ফলতা,হুগলি ও হাওড়ার কারখানায় উৎপাদিত ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য বিদেশে রফতানি করা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২০ শতাংশ ব্যবসা কমেছে। কর্মীরাই চেয়েছেন ছোট করে পুজো করতে।’
বউবাজারের সোনাপট্টির ছবিটা আরও করুণ। যেখানে অন্যান্য বছর ৭ হাজার পুজো হতো, এবার সেখানে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৩০০। অন্যান্য বছর পুজোর আগে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটির ব্যবসা হয়। এবার করোনার জেরে ব্যবসায় মন্দা। ৯০ শতাংশ সোনার কারখানা বন্ধ। তাই এবার নিয়মরক্ষার পুজোয় সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে বউবাজারের সোনাপট্টিকে।

আর পড়ুন: বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশজুড়ে পেটকাটি, চাঁদিয়াল, ময়ূরপঙ্খীর মেলা

বিশ্বকর্মা পুজোর রমরমা এবার অটো বা রিকশাস্ট্যাণ্ডেও চোখে পড়েনি। দক্ষিণ কলকাতার অটো ইউনিয়নের নেতা দেবরাজ ঘোষ বলছেন, ‘খুব ছোট করে করে পুজো হচ্ছে।’ দুই ব্যস্ত অটো রুট রানিকুঠি-বাঘা যতীন এবং রানিকুঠি-যাদবপুর রুটের ইউনিয়নের নেতা তারক সরকার, পাপ্পু মজুমদারেরা জানালেন, এ বার তাঁদেরও পুজো হচ্ছে টিম টিম করে। বনহুগলির রিকশাচালক বুবুন ঘোষের মন খারাপ, ‘প্রতিবার স্ট্যান্ডে বড়ো করে পুজো হয়। এ বার হচ্ছে না।’ আকাশেও এবার ঘুড়ির ঝাঁক কম।

Related Articles

Back to top button
Close