fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুজোর খরচ বাঁচিয়ে বাড়ি বাড়ি ৫০০ টাকা ও সাবান বিলি তমলুকে

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : এ যেন মেঘ না চাইতেই জল! তবে ‘জল’ নয়, কড়কড়ে পাঁচশো টাকার নোট মিললো সকাল সকাল! তমলুকের শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খসরেখা গ্রামে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটলো এদিন। চারিদিকে লকডাউন। কাজকর্ম বন্ধ। উপার্জন বন্ধ।  কিভাবে সংসার চলবে, এই ভেবে মানুষজন যখন দোটানায়, তখন কুবেরের সন্ধান পেলো খসরেখা গ্রামের মানুষজন। অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতেই হঠাৎই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গেল নগদ ৫০০ টাকার আসল নোট। সঙ্গে একটি সুগন্ধি সাবানও। এ যেন ভূতের রাজার বর!

না, ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ দের সেই ভূতের রাজা নয়। এক শ্রেনীর মানুষের মানবিক মূল্যবোধ আর সদর্থক উদ্যোগ এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আসলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খসরেখা গ্রামে  স্থানীয় ‘খসরেখা গ্রাম উন্নয়ন কমিটি’র পরিচালনায় প্রতি বছর নীল ও চড়ক পুজো ও মনসা পূজার আয়োজন করা হতো। কিন্তু বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতির জন্য সব কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। তাই গ্রাম কমিটির তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পুজোর জন্য বরাদ্দ অর্থ যা এবার খরচ করা হয়নি, তা গ্রামের মানুষদের সাহায্যের জন্য নগদ ৫০০ টাকা করে তুলে দেওয়া হবে। অন্ততঃ এরকম দুর্মূল্যের বাজারে এই সামান্য অর্থটুকুও হয়ে উঠবে অমূল্য। যা ভাবা তাই কাজ! সকলেই সম্মতি জানাতেই নতুন উদাহরণ তৈরি হল।

লকডাউনের বাজারে প্রথমে এভাবে হাতে নগদ ৫০০ টাকার নোট পেয়ে অবাক হয়ে যায় সকলে। বুঝতেই পারছিলেন না কোথা থেকে এলো এই টাকা! কিন্তু পরে পরিষ্কার হয়ে যায় গোটা ঘটনাটাই। এই খসরেখা গ্রামে প্রায় ২৫০ পরিবারের বাস। বেশিরভাগ মানুষই হতদরিদ্র পরিবারের। কেউ কল কারখানার শ্রমিক, আবার কেউ দিনমজুর। তবে সকলেরই উপার্জন এই লক ডাউনের জন্য স্তব্ধ। এমন পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন এই সকল দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন।

আরও পড়ুন: খয়রুল্লাচকে পান্থপাদপ সোসাইটির ত্রাণ বিতরণ

নীল উৎসব না হওয়ায় ঐ খাতে বরাদ্দ অর্থ গ্রাম কমিটির তরফ থেকে গ্রামবাসীদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ত্রাণসামগ্রী হিসেবে বিলি করা হয়েছিল। এরপর এই বৈশাখ মাসেই গ্রামের এক প্রাচীন মনসা পূজো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই গ্রাম কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় যে, গ্রামের দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের হাতে পুজোর বরাদ্দ অর্থ বিলিয়ে দেওয়া হবে। এর সঙ্গে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য দেওয়া হবে একটি করে সাবানও।

খসরেখা গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, ‘গ্রামের সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়ে এই মহামারীর সময় গ্রামের মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই প্রয়াস নিয়েছে’। এর কয়েকদিন আগেই চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, সাবান দেওয়া হয়েছিলো। পরে আবার গ্রাম উন্নয়ন কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে এই মুহুর্তে গ্রামের মানুষজনের হাতে টাকা নেই। তাই তাঁদের নগদ ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। খসরেখা গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন কুমার জানা জানান, ‘গ্রামের মানুষদের কথা মাথায় রেখে আমরা এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। যার জন্য মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে’।

গ্রাম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খসরেখা গ্রামের প্রতিটি পরিবারের হাতে নগদ ৫০০ টাকা এবং একটি সাবান তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে অবশ্য গ্রামের সকলে আশ্চর্য হয়। কিন্তু পরে গ্রাম কমিটির এই ধরনের উদ্যোগ জানতে পেরে খুশি সকলেই।

Related Articles

Back to top button
Close