fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

করোনা কমলেই সিএএ চালু হবে: জে.পি.নাড্ডা

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: করোনা সঙ্কটের জন্যই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন( সিএএ ) চালু করা যাচ্ছে না। শিলিগুড়িতে ঝটিকা সফরে এসে এমনটাই বললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা। সোমবার বিকেলে শিলিগুড়িতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তিনি ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘ সিএএ ইতিমধ্যেই পাস হয়েছে। করোনা সঙ্কটের জন্য সিএএর নিয়মাবলী তৈরি করা যায়নি। করোনা সংক্রমণ কমলেই এগুলো হয়ে যাবে। তবে এটা আমি জোর দিয়ে বলছি সিএএ চালু হবেই।’
ঘটনা হলো মতুয়া, বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সিএএর বাস্তবায়নের প্রশ্নে চাপ বাড়াচ্ছে গেরুয়া শিবিরে। সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশনে কৃষিবিলসহ একাধিক বিল পাস হয়েছে।  অথচ সিএএ নিয়ে তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি এমনটাই মনে করছেন এই সংগঠনগুলি। এদিন জে.পি নাড্ডা তাঁদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে রাখলেন বলে ধারনা গেরুয়া শিবিরের। পুজোর আগে একদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে এসে একুশের যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে গেলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা। সরাসরি তৃণমূল নেত্রীকে বিঁধে বলেন, ‘ভোটব্যাঙ্কের জন্য বিভাজনের রাজনীতি করছেন দিদি।’
 তিনি  বলেন, ‘আপনাদের সবার মুখের ভাষা না বুঝলেও মনের কথা বুঝেছি। আপনাদের পরামর্শ, মতামত আপনারা লিখিতভাবে দিয়েছেন। আপনাদের ভরসা আছে বলেই আপনারা আমাকে দাবি, পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ আপনারা জানেন মোদিজির মূল নীতি হলো ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ।’ আর এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নীতি হলো সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা।’
এরপরই তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, ‘ দিদি গত ৪ বছরে মানুষের জন্য কিছু করেন নি। এখন ভোটের আগে কাউকে প্রলোভন দেখাচ্ছেন, কাউকে অন্যের বিরুদ্ধে উস্কানি দিচ্ছেন। উদ্দেশ্য খুব পরিস্কার, ভোটের জন্য  সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা। একের বিরুদ্ধে অন্যকে উস্কে দেওয়া। তৃণমূল সমাজকে ভাঙার কাজ করে। বিজেপি সমাজকে গড়ার কাজ করে। তৃণমূল কুর্শির জন্য রাজনীতি করে। বিজেপি সেবার জন্য রাজনীতি করে।’
একুশে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ আপনাদের জন্য বিজেপির যেমন ‘ জিম্মেদারি’ আছে, আপনাদেরও জিম্মেদারি বিজেপিকে সুযোগ দেওয়ার।’ তিনি বলেন, ‘ মোদিজি চান মানুষের সশক্তিকরণ। যেমন- জনধন যোজনা, গরিব মহিলাদের জন্য উজ্জ্বলা যোজনা, কিষাণ সম্মান নিধি, আয়ুষ্মান যোজনা। মমতা দিদি বাংলার কৃষকদের কিষাণ সম্মান নিধির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন। ‘ খালি হবে না, হবে না।’ কেন হবে না? হবে, হবে, হবে, এপ্রিল মাসে হবে। আপনারা বিজেপিকে সুযোগ দিন, একমাসের মধ্যে ‘ কিষাণ সম্মান নিধি’ চালু করবো। এরাজ্যে ১০০০ গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছয় নি। মোদিজি ২২ কোটি ঘরে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন। আমি দলের সাংসদদের বলছি, বাংলার গ্রামীন উদ্যোগের তালিকা তৈরি করুন, আমরা ‘ লোকাল’ পণ্যকে ‘ গ্লোবাল’ করবো। স্থানীয় পণ্যের বিশ্বজুড়ে বাজার তৈরির দায়িত্ব আমাদের।’
এদিন সফরের শুরুতেই  বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি উত্তরবঙ্গের প্রাণের মানুষ পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতে মাল্যদান করেন। সকাল সাড়ে ১১ টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে তিনি রওনা দেন নৌকাঘাট রোডে। সেখানে পঞ্চানন বর্মার প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে চলে যান আনন্দময়ী কালীবাড়ি। সেখানে পুজো দেওয়ার পর সেবক রোডের একটি হোটেলে পৌঁছন। সেখানে বিজেপির নেতৃত্ব ও কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করেন। বিকেলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেন। এদিন বৈঠকে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজু বিস্তা, নিশীথ প্রামাণিক, সায়ন্তন বসু প্রমুখ। এদিন সন্ধ্যায় জে.পি নাড্ডা দিল্লি ফিরে যান।

Related Articles

Back to top button
Close