fbpx
অফবিটহেডলাইন

কেক মিক্সিং সেরিমনি

দোয়েল দত্ত:  শীতকাল আসন্ন প্রায়৷ আর শীতকাল মানেই ক্রিসমাস, নিউইয়ার পার্টি৷ ক্রিসমাসের সঙ্গে যে কয়েকটি শব্দ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, তার মধ্যে অন্যতম হল কেক মিক্সিং সেরিমনি৷ ক্রিসমাসে কেক বাদ দিয়ে সেকিব্রেশন ভাবাই যায় না৷ এখনকার দিনে বিভিন্ন হোটলে, রেস্তোরাঁতে  এমনকী শপিংমলের রেস্তোরাঁগুলোতেও কেক মিক্সিং সেরিমনি একটা বড়সড় ব্যাপার৷ বেশ হইহই করেই পালিত হয়৷ কিন্তু আদতে জানেন কি এটা প্রতিটা খ্রিস্টান পরিবারের অবশ্য পালনীয় প্রথা৷ কেকে ড্রাইফ্রুটস মেশানো ব্যতীত এর পিছনে আরও একটা উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টান পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করে গেট টুগেদার করা৷

আসলে ক্রিসমাস কেকে যেসব ড্রাইফ্রুটস ও উপাদান ব্যবহার করা হয় সেগুলি কেক তৈরির প্রায় ৪০দিন আগে (হিসেব মতো বড়দিনের দেড়মাস আগে) থেকেই মিক্সিং করে রাখা হয়৷ তারপরে কেকের মাখনের মতো ব্যাটার তৈরির সময়ে যখন সেগুলি দেওয়া হয়, তার স্বাদ ও গন্ধ একেবারে অতুলনীয়৷ প্রাচীন ইউরোপে প্রথম কেক মিক্সিং সেরিমনি শুরু হয়, তবে তখনকার সময়ের চেয়ে এখনকার সময়ে কেকের সামগ্রী ও স্বাদের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে৷ তবে কেক মিক্সিং সেরিমনির পিছনে রয়েছে আরও এক ইতিহাস৷ অক্টোবর-নভেম্বরের এই সময়টাকে ইউরোপে বলা হয় হারভেস্ট সিজন, মানে তখন ফসল ঘরে তোলার সময়৷ শীত পড়ার আগে অনেক রকমের বাদাম, ফল  চাষ করে সেগুলি ঘরে তোলা হতো৷ আর তার থেকেই একটা বড় অংশ সরিয়ে রাখা হতো ক্রিসমাস কেক তৈরির সময়ে দেওয়া হবে বলে৷ এর পিছনে সকলেরই একটা আশা থাকত, এভাবে ঘরে শস্য তুলে সেই ফল ও বাদাম ক্রিসমাস কেকে দিলে পরের বছরটা সুখ-সমৃদ্ধি আর ফলনে ভরে উঠবে৷

বর্তমানে  বো ব্যারাকস সহ কলকাতার অনেক পুরনো সাহেবি পাড়ার বাসিন্দারাই মহা উৎসাহে কেক মিক্সিং সেরিমনিতে অংশ নেন৷ যারা পারেন বাড়িতে করেন, অনেকেই হোটেল বা শপিং মলে যান কিছুটা হুজুগে পড়েই৷ আর শুধু ক্রিস্টান কেন, শপিংমল কালচারে সব ধর্মের মানুষই এখন এই সেরিমনিতে অংশ নিচ্ছেন৷ বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে এটা দারুণ মজার বিষয়, তা বোধহয় না বললেও বোঝা যায়৷

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে মিলল মন্দির

এই সময়ে বিভিন্ন ড্রাইফ্রুটস ও ফলকে ওয়াইনে বা অন্যান্য লিকারে ভিজিয়ে ভালো করে মেখে রাখা হয়৷ এর ফলে কেক তৈরির সময়ে বিশেষ একটা গন্ধ বেরোয়৷ কী কী মেশানো হয় এই মিক্সিং সেরিমনিতে?  প্রথমেই বলে রাখি এখানে কিন্তু ময়দা বা ডিম কোনওটাই থাকে না, বদলে থাকে দারচিনি, লবঙ্গ, রাম, ব্র্যান্ডিং, হুইস্কি, ওয়াইন, মধু, গোল্ডেন সিরাপ, কিশমিশ, কালো কিশমিশ, কাজু, ওয়ালনাট, আমন্ড, ক্যান্ডিজাতীয় ফল, চেরি, ব্ল্যাককারেন্ট, খেজুর ইত্যাদি৷ একটি বড় প্রাত্রে সমস্ত শক্ত উপকরণ নিয়ে আস্তে আস্তে ওয়াইন ও অন্যান্যগুলি ঢেলে ভালো করে মিক্সিং করা হয় যাতে ড্রাইফ্রুটস ও অন্যান্য ছোট ছোট করে কাটা ফলগুলির মধ্যে সেগুলি ঢুকে স্বাদ নিয়ে আসে৷ অ্যালকোহলে মেশানোর পরে এগুলিকে অন্ধকার ঘরে রেখে দিতে হয় ।

তবে এবারে করোনা পরিস্থিতিতে কোথায় কতটা জাঁকজমক করে কেক মিক্সিং হবে বা আদৌ হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়৷ তবে নিয়মরক্ষা হবে৷ আর সেই নিয়ম রক্ষা মুখে মাস্ক, মাথায় ক্যাপ আর হাত ভালো করে ধুয়ে গ্লাভস পরে করতে হবে৷

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close