fbpx
অন্যান্যকলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আভিজাত্যের কলকাতা ও ঐতিহ্যের বাঙালি

মনীষা ভট্টাচার্য, কলকাতা: বাংলা ও বাঙালি এই শব্দবন্ধ চোখে পড়লে কিংবা কানে এলে গাল দুটি কানের দিকে অগ্রসর হয়ে দন্ত বিকশিত হয়। মনের কোণে  ‘আমি বাঙালি’ এই গর্বও একটু উথলে ওঠে। তবে পরক্ষণেই তা  প্রশমিত হয়ে যায় যখন দেখি বাঙালি হয়ে আরেক বাঙালির নামে বদনাম করছে, নীচু দেখাচ্ছে। আমি জানি না বাঙালি ভিন্ন অন্য কোনও জাতি এমন করে কিনা। একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, বাঙালির আর  কিছু হবে না। বাঙালি শেষ। বাংলা ভাষাও শেষ। তবু কর্মবিমূখ বাঙালি, মুখেন মারিতং বাঙালি, আঙ্গুঠা ছাপ বাঙালি, বাংলা বলতে লজ্জা পাওয়া বাঙালি কখনও কখনও পারম্পারিকতায় বাঙালি হয়ে ওঠে। পুরনো ঐতিহ্যকে বুকে বেধে আগামী প্রজন্মকে সে বলতে চায় ‘আমরা এমন ছিলাম।’

বাঙালি নিয়ে এত কথা কারণ একটি ছবি, যা স্যোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে বেশ কদিন। ছবিটি দেখলেই এক নিমেষে ভেসে উঠবে কত ছবি। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে ছবিটি কোনও থিমেটিক দুর্গার। আসন্ন দুর্গাপুজোকে মাথায় রেখেই হয়তো বানানো। কিন্তু একটু খুঁটিয়ে দেখলেই নজরে পড়বে ছবিটির মধ্যে বাঙালির ঐতিহ্য,  কলকাতার স্থাপত্য লুকিয়ে রয়েছে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ছবিটির ভাবনায় ফুটে উঠেছে এক দুর্গার মুখ। যার মাথার মুকুটে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং হাওড়া ব্রিজ শোভা পাচ্ছে।

সেই মুকুটের পাদদেশে সপরিবারে মা দুর্গার অধিষ্ঠান। তার নীচে বাঙালির চিরকেলে তর্কের বিষয় ফুটবল আর অবশ্যই ফুটবল মানে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল। বাইশজনে মিলে একটি বলকে লাথালাথি করে যে সুখ পায়, বাঙালি তাদের নিয়ে গলার শিরা ফুলিয়ে তার চেয়ে কম সুখ পায় না। আর এই সুখে অনুঘটক রূপে থাকে ধূমায়িত ভাড়ের চা। তাই চায়ের ভাড় ছবিতে মায়ের তৃতীয় নয়নের রূপ পেয়েছে। মায়ের চোখে ও কানে আছে বাঙালির রসনা তৃপ্তির দুই রাজা ও রানি। ইলিশ ও রসগোল্লা। নাকের নথে সংস্কৃতির পীঠস্থান নন্দনের লোগো। এরপর মায়ের কণ্ঠের হার হয়েছে কলকাতার সেই বিখ্যাত টানা রিক্সা আর তার পেছনে কলকাতার আদি যান ট্রাম। সঙ্গে আধুনিক কলকাতার উড়ালপুল এবং হলুদ ট্যাক্সি। শুধু ছবি নয়, সঙ্গে রয়েছে ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। শিল্পী দেবজ্যোতি সরকারের এই ছবিতে মিউজিক করেছেন বর্ণ চক্রবর্ত্তী। কলকাতা কলকাতা শীর্ষক ফেসবুক পেজে সবার জন্য রয়েছে ভিডিওটি।

আরও পড়ুন: কিমের দেশে এবার করোনার ছোবল

দুর্গার মুখের এই ছবি দেখে একটু ইতিউতি খোঁজ নিতে জানা গেল,  প্রায় সমস্ত পুজো কমিটিই এবার সাবেকি প্রতিমায় পুজো করবেন। সকল মণ্ডপের থিমই হবে করোনা। পুজো কমিটির সদস্যরা বলছেন, যেহেতু বাজেট প্রায় অর্ধেক, তাই করোনা থেকে বাঁচতে পুজো মণ্ডপে এতো কিছুর ব্যবস্থা রাখতে হবে যে খরচে পোষাবে না। এমন পরিস্থিতিতে কলকাতার আভিজাত্যকে এইভাবে এক ফ্রেমে ধরা সত্যি অভিনব ভাবনা। তার উপর এই করোনা পরিস্থিতিতে যখন সবটাই প্রশ্নচিহ্ন, তখন এই দুর্গার ইলাস্ট্রেশন চোখে আরাম দেয়, আশা জোগায়। গাড়ির হর্নে শত রঙে প্রিয় শহর কলকাতার এই সংমিশ্রণ দেখে সত্যিই হারিযে যায় সকল শূন্যতা।

Related Articles

Back to top button
Close