fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ছড়াতে পারে ক্যানসারও! বাতাসে দূষণ ছড়াচ্ছে পার্থেনিয়াম

ভীষ্মদেব দাশ, পূর্ব মেদিনীপুর: করোনা আবহে পরিবেশবিদদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে “পার্থেনিয়াম”। নাম অজানা হলেও বিষাক্ত এই গাছটি সকলের চোখে পড়ে।

 

 

রাজ্যের এমন কোনও জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে পার্থেনিয়াম নেই। পার্থেনিয়াম ক্ষতিকারক বিষাক্ত আগাছা। পার্থেনিয়ামের ফুল থেকে বিষ ছড়াচ্ছে পরিবেশে। করোনার পাশাপাশি পার্থেনিয়ামের হাত থেকে বাঁচতে ব্যাবহার করা উচিত মাস্ক। বাতাস এবং জলের মধ্যমে পার্থেনিয়াম ফুলের রেনু পৌঁছায় মানবদেহে। যা থেকে হতে পারে হাঁপানি, ক্যানসারও।
লকডাউনের জেরে বন্ধ কল-কারখানা, যানবাহন। পরিবেশ এখন ধোঁয়া, ধুলো, দূষণহীন। পার্থেনিয়াম আগাছার ফুলের রেণু শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে পৌঁছতে পারে মানব ফুসফুসে। দশ মিটার দূর থেকেও পার্থেনিয়াম ফুলের রেণু মানুষের এলার্জি, হাঁপানি রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

 

 

চিকিৎসাবিদদের মতে ফুলের রেণুতে থাকে ক্যালসিয়াম ক্রিস্টাল জাতীয় এক ধরনের উপাদান। এই রেনু ত্বকে ক্যানসারও সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু মানুষ নয়, এর ফলে গবাদি পশু, ফসলেরও ক্ষতি হয়। পরিবেশবিদদের মতে পার্থেনিয়াম গাছ বাঁচে ৩-৪ মাস। এই সময়ের মধ্যেই তিনবার ফুল ও বীজ হয়। ৫-২৫ হাজার বীজ উৎপাদনে সক্ষম এক একটি গাছ। ফুলের রেণু খুবই সূক্ষ্ম এবং হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে উড়তে পারে। বীজ অত্যন্ত ছোট হওয়ায় জল ও বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভৌগোলিক গবেষকদের মতে মেক্সিকো থেকে এসে এশিয়া, আফ্রিকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে পার্থেনিয়াম। আগাছা হলেও অত্যন্ত বিপদজনক পার্থেনিয়াম। ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য বিভিন্ন সময়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে সাফাই অভিযান হয়। তবে এখন দূষনহীন পরিবেশে পার্থেনিয়াম স্বমহিমায় বংশবিস্তার করে চলেছে।

 

 

প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছে পার্থেনিয়াম আগাছার ঝোপ। পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট থেকে দিঘা, হলদিয়া থেকে পাঁশকুড়া, কাঁথি থেকে এগরা, খেজুরি থেকে নন্দীগ্রাম সর্বত্রই বাতাসে দূষন ছড়াচ্ছে পার্থেনিয়াম। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি সরকারিভাবে পার্থেনিয়াম সাফাই অভিযান চালানোর আবেদন করেছেন জেলাবাসী।

 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলা শাসক পার্থ ঘোষ জানিয়েছেন, জেলাজুড়ে পার্থেনিয়াম সাফাই অভিযান হবে। জেলার সব পঞ্চায়েতে ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। কোলাঘাট, মেছেদা, তমলুক, হলদিয়া, নন্দকুমার, নন্দীগ্রাম, ইটাবেড়িয়া, পটাশপুর, দিঘা, রামনগর, খেজুরি, কাঁথির কোথাও কোথাও প্রায় দীর্ঘ পথ জুড়ে দেখা যায় পার্থেনিয়ামের ঝোপ। জাতীয় সড়ক ছাড়াও এই সমস্ত অঞ্চলের যে কোনও গ্রামের রাস্তায় গেলেই চোখে পড়বে পার্থেনিয়ামের ঝোপ। রাস্তা সহ বিদ্যালয়ের পাশে বেড়ে উঠছে এই বিষাক্ত আগাছা। যা নিয়ে আশঙ্কিত চিকিৎসক, পরিবেশ কর্মী থেকে সাধারণ মানুষজন।

 

 

খেজুরির বাসিন্দা শিক্ষক অরিন্দম মাইতি বলেন, পার্থেনিয়াম খুব ক্ষতিকারক। আমরা ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিবছরই খেজুরি এলাকার হাসপাতাল, স্কুল, রাস্তার ধারে গজিয়ে ওঠা পার্থেনিয়াম পরিষ্কার করি। রুটিন মাফিক সরকারিভাবে সাফাই অভিযান হলে হয়তো এর দূষণ থেকে আমরা বাঁচতে পারবো।

Related Articles

Back to top button
Close