fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গরু পাচার কাণ্ড: ধৃত বিএসএফ কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমারের ১৪ দিন সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: রাজ্য থেকে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে গরু পাচারের চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ও বেআইনিভাবে টাকা লেনদেনের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে সিবিআই গ্রেফতার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমারকে। বুধবার সকালে ধৃতকে আসানসোলের সিবিআই আদালতে তোলা হয়। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে এদিন বিকালে তার জামিন নাকচ করে ১৪ দিন সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিলেন আসানসোলের সিবিআই আদালতের বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়। আবার তাকে আগামী ৪ ডিসেম্বর আসানসোলের সিবিআই আদালতে পেশ করা হবে । এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে বিচারকের নির্দেশের কথা জানান সিবিআইয়ের আইনজীবী কালীচরণ মিশ্র।

মঙ্গলবার কলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআইয়ের দপ্তরের প্রায় সাত ঘণ্টা জেরা করার পরে বর্তমানে ছত্তিশগঢ়ে রায়পুরে কর্মরত বিএসএফের কমান্ডেন্ট সতীশ কুমারকে সিবিআই সন্ধ্যা নাগাদ গ্রেফতার করেছিল। বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ একটি নীল গাড়িতে সিবিআই ৫ অফিসারের একটি দল কলকাতা থেকে সতীশকুমারকে নিয়ে আসানসোল সিবিআই আদালতে আসেন। নিরাপত্তার কারণে এদিন সকাল দশটা থেকেই আসানসোলের সিবিআই আদালতের সামনে কমব্যাট ফোর্স ও বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা ছিল।

ধৃত সতীশ কুমারের আইনজীবী হিসেবে কলকাতা থেকে এসেছিলেন কুমারজ্যোতি তেওয়ারি ও মানস কুমার দাস। আসানসোল থেকে তার হয়ো ছিলেন শেখর কুন্ডু । কুমারজ্যোতি তেওয়ারি ও শেখর কুন্ডু বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সিবিআই সতীশ কুমারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং দুর্নীতি বিরোধী আইনে একটি মামলা করেছিলো (নম্বর আর সি০১০২০২০ এ ০০১৯ তারিখ ২১-৯-২০)।

তাতে বলা হয়েছিল, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০১৭ মার্চ পর্যন্ত মালদা ও মূর্শিদাবাদে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের ৬ টি ইউনিটের কমান্ড্যান্টের দায়িত্বে ছিলেন সতীশ কুমার । তখন বাংলাদেশে পাচারের সময় ২০ হাজার গরু সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধরেছিল। পরে সেগুলি নিলাম করা হয়। সেই নিলামে গরু পিছু ২ হাজার টাকা করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কাস্টমস্ ৫০০ টাকা করে পেয়েছিল। সেই পাচার চক্রের অন্যতম হলো মুর্শিদাবাদের এনামুল হক। যার সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে এই সতীশ কুমারের । এনামুলকে গত ৬ নভেম্বর সিবিআই দিল্লিতে গ্রেফতার করেছিলো। বর্তমানে সে অন্তর্বর্তী জামিনে রয়েছে। বর্তমানে সে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। তাকে আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির করা হতে হবে। ধৃত সতীশ কুমারের আইনজীবী কুমার জ্যোতি তেওয়ারি আরো বলেন, ২০১৮ সালে বিএসএফের কমান্ড্যান্ট টমাস জিবু ম্যাথু কোচি থেকে ৪৯ লাখ টাকা সহ ধরা পড়েছিলেন। এরপরেই এনামুলের গরু পাচারের চক্রের কথা সিবিআইয়ের সামনে আসে । তারপরেই সিবিআই আরও তদন্ত করে জানতে পারে, এই চক্রে সতীশ কুমার সহ বেশ কয়েক জন অফিসার ও প্রভাবশালীরা জড়িয়ে আছেন। জানা গেছে গত ২২ সেপ্টেম্বর সতীশ কুমারের কলকাতা, উত্তর প্রদেশ এবং ছত্তিশগঢ়ে বাড়ি সহ ১৩টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ গভীর থেকে গভীর সংকটে, দাবি মির্জার

সিবিআই সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ মার্চ পর্যন্ত সতীশ কুমার মালদার ৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের কম্যান্ড্যান্ট পদে ছিলেন। সতীশ কুমারের আরেক আইনজীবী শেখর কুন্ডু বলেন, সিবিআই কোনও নগদ টাকা বা অন্যকিছু তার কাছ থেকে পাইনি । সেজন্য আমরা এদিন বিচারকের কাছে তার সিবিআই হেফাজতের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু বিচারক তার জামিন নাকচ করে সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Related Articles

Back to top button
Close