fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশবাংলাদেশহেডলাইন

সিবিআই রাডারে বহু রাঘব বোয়াল… গরুপাচার কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশে গরুপাচার কাণ্ডের তদন্তে নয়া মোড়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির আওতায় বিএসএফ-কাস্টমসের ১২ জন আধিকারিক। শুধু তাই রাজ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে! তাঁদের আইনের আওতায় আনার জন্য তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে সিবিআই সহ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাপক তৎপরতা শুরু করছে এমনটাই সিবিআই সূত্রের খবর।

সিবিআই সূত্রে খবর, এই ১২ জন আধিকারিককে নজরদারি ছাড়াও এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত পলাতক এনামুল হক ওরফে বিশু ছাড়া আরও দু’জন গরুপাচারকারি আনারুল হক এবং মহম্মদ গোলাম মুস্তাফাকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা। এরা মূলত বাংলাদেশ সীমান্তের কালিয়াচক, হাকিমপুর, আংরাইল সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে গরুপাচারের সঙ্গে যুক্ত।

জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিএসএফ কমান্ডান্ট সতীশ কুমার ২০১৫ থেকে ১৭ সাল পর্যন্ত ৩৬ নম্বর ব্যাটেলিয়ানে কর্মরত ছিলেন। তার দায়িত্বে ছিল চার কম্পানি জওয়ান মালদা ও মুশির্দাবাদে মোতায়েন ছিল সীমান্তে। এই সময়কালের মধ্যে ২০ হাজার গরু বিএসএফ সীমান্তে পাচারকালে আটক করে। আটক গরু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিলাম করা হত। গরু নিলামের সময় মোটা টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে বিএসএফ এবং কাষ্টমসের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। নিলামের নিয়ম অনুসারে প্রতিটি গরুর দাম নির্ধারণের সময় যে’ কদিন গরুটি বিএসএফ ক্যাম্পে আটক ছিল তার খাওয়ার হিসাব যোগ করা হয়। এক্ষেত্রে তা করা হত না। গরুকে রুগ্ন এবং বাছুর দেখিয়ে কম দামে নিলাম করা হত। এবং সেই গরুগুলো ফের পাচার করা হতো সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে। এক্ষেত্রে গরু পিছু বিএসএফ ২ হাজার এবং কাস্টমস পেত ৫০০ টাকা। শুধু তাই নয়, প্রতিটি নিলামে থেকে আরও ১০ শতাংশ পেত বিএসএফ এবং কাস্টমসের আধিকারিকরা। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই পাচারকারীদের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় শাসকদলের নেতা, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন:করোনায় আক্রান্ত মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর বৃদ্ধা মা

তদন্তের স্বার্থে তাঁদের তালিকাও তৈরি করছে গোয়েন্দারা। নিলাম থেকে কেনা এনামুলের এই গরুগুলি বাংলাদেশে ৩২ থেকে ৬০ হাজার টাকা জোড়া হিসেবে পাচার করা হত।

গোয়েন্দা সূত্রের আরও খবর, বিএসএফ কমান্ডান্ট সতীশ কুমারে ছেলে ভুবন ভাস্কর, পলাতক পাচারকারী এনামুলের মের্সাস হক ইন্ড্রাস্ট্রি প্রাইভেট লিমিটিটেডে মোট টাকা বেতনে চাকরি করতেন। এনামুলের বিরুদ্ধে একটি গরুপাচারের চক্র এই একই খেলা খেলতে যায়। তারা এই খেলা সেটিং করতে গিয়ে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকে টাকা দেয়। কিন্তু এই সেটিং না হওয়ায় তারা টাকা ফেরত চায়। সেই টাকা তারা না পেয়ে গোয়েন্দাদের সোর্সের কাছে মুখ খোলে। আর তারপরেই অভিযান শুরু করে গোয়েন্দারা। যদিও এর আগে ২০১৮ সালে বিএসএফের কমান্ডান্ট জিবু ম্যাথু নগদ ৪৭ টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা পড়েন। এসময় এনামুলকেও গ্রেফতার হয়। কিন্তু পরে আদালতে এই দু’জন জামিন পেয়ে যায়।

আরও পড়ুন:পশ্চিমবঙ্গ এখন ইসলামি সন্ত্রাসবাদের নতুন কেন্দ্র

এসময় থেকে গোয়েন্দারা বিষয়টি তদন্ত চালিয়ে যান। তারপরেই নির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে সিবিআই আধিকারিকরা হানা দেন অভিযুক্তদের ধরতে কলকাতা, সল্টলেক সহ রাজ্যের ১৬টি স্থানে অভিযান চালান। কিন্তু এনামুলের ম্যানেজার ইয়াকুবও পালিয়ে যায়। এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ইসমাইলকে পাকড়াও করেছেন গোয়েন্দারা এমনটাই খবর। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় গরুপাচারের সঙ্গে দেশের সুরক্ষা যুক্ত তাই এই অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। এমনটাই সিবিআই সূত্রে খবর।

Related Articles

Back to top button
Close