fbpx
হেডলাইন

কয়লা পাচার তদন্ত এবার হাতে নিচ্ছে CBI, তদন্ত করবেন সারদা-কাণ্ডে তদন্তকারী অফিসাররাই

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার তদন্ত একসময় পশ্চিমবঙ্গে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু বহু বছর কেটে যাওয়ার পর  এখন তা অনেকটাই স্তিমিত। কিন্তু  সম্প্রতি গরু পাচার এবং কয়লা পাচার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। যা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম ফ্যাক্টর। সেই কারণেই এবার আয়কর দফতরের হাত থেকে এই ঘটনার তদন্তের ভার নিচ্ছে সিবিআই। আর এই কাণ্ডের তদন্তভার দেওয়া হচ্ছে সারদাকাণ্ডে তদন্তকারী অফিসারদেরই।
গরু পাচার কাণ্ডে ইতিমধ্যেই নাম উঠে এসেছে একাধিক বিএসএফ আধিকারিকদের। তার তদন্তে কয়লা পাচার কান্ডের যোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক লেনদেনেরও হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সিবিআই মনে করছে, কয়লা নিয়ে যে কোটি কোটি টাকার কারবার হয়েছে, তাতে শুধু একজন কয়লা মাফিয়া যুক্ত নেই, বরং রয়েছে গোটা নেটওয়ার্ক। পূর্ব এশিয়ার একটি দেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও টাকা গিয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। কয়লা পাচারের টাকা কেন বিদেশে পাচার করা হচ্ছে, সেটাও তদন্ত করে দেখতে চান অফিসাররা।
প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্তে নেমেছিল আয়কর দফতর। সূত্রের খবর , আয়কর দফতর এখনও পর্যন্ত যা তদন্ত করেছে সেই সমস্ত নথি চেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, কলকাতায় যে সিবিআই অফিসাররা সারদা তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের দিল্লিতে ডাকা হয়েছে। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার টাকা এই ব্যবসা খাটানো হয়েছিল কিনা সেটাও জানতে চান আধিকারিকরা। সিবিআই সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসবেন সিবিআই অফিসাররা।
প্রসঙ্গত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময়েই আসানসােল , জামুড়িয়া , রানিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় কয়লা পাচারের তদন্তে জায়গায় জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল আয়কর দফতর। সেই সময়েও এই অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যেই সিবিআই দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে ৬ কয়লা ব্যবসায়ীকে। আসানসােল এলাকার এক ব্যবসায়ী অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং বাঁকুড়ার আর একজনও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন বলে খবর। বিরােধীদের বক্তব্য, এই দুজনই শাসকদলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সে কারণেই এই কাণ্ডের শিকড় আর কোথায় কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে তা জানার লক্ষ্যে তদন্তে নামতে চান সিবিআই আধিকারিকরা।

Related Articles

Back to top button
Close