fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গশিক্ষা-কর্মজীবনহেডলাইন

অভিনব জন্মদিবস পালন 

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান: কেক কেটে নয় স্লেটে চক ঘষে এক অভিনব উপায়ে বিদ্যাসাগরের জন্মদিবস পালন করল শিরিষডাঙ্গা আদিবাসী পাড়ার খুদে বিদ্যাসাগরেরা। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের  জামুড়িয়ার নিকটস্থ এই আদিবাসী পাড়ায় গেলেই আপনি দেখতে পাবেন অনন্য উপায়ে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন আর  কানে শুনতে পাবেন “হ্যাপি বার্থ ডে” এর বদলে অ..  আ..  ক..  খ… । এ যেন এক মহাযজ্ঞ, বিদ্যার ঈশ্বরের পুজো চলছে তাঁরই লেখা বর্ণপরিচয় পুস্তকের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে । পড়ুয়ারা মন্ত্রপাঠ করছে তা শুনে শুনে অভিভাবকরা পুষ্পাঞ্জলি দিচ্ছে অ  আ  ই  ঈ  এর মাধ্যমে। এমন সুন্দর পরিবেশ যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ  হয়ে ঘণ্টাখানেক দাঁড়াতে বাধ্য করবেই ।

কিন্তু এমন অভিনব উদ্যোগের কাণ্ডারী কে? কথা বলে জানা গেল তিনি আর কেউ নন আমাদের সকলের পরিচিত ‘রাস্তার  মাস্টার’ (তিলকা মাঝি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রী দীপ নারায়ণ নায়ক) যিনি দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে লকডাউনে আদিবাসী পড়ুয়াদের শিক্ষার দায়িত্বভার স্বেচ্ছায় নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন সঙ্গে তাদের পুষ্টিকর খাদ্যের দায়িত্বও। এই পুরো বিষয়টা হয় ‘রাস্তার’  উপরেই তাইতো মানুষ ওঁনাকে ভালোবেসে ‘রাস্তার মাস্টার’ বলেন। এবার সেই রাস্তার মাস্টারের শীর্ষে  আরেকখানি পালক জুড়ল খুদে বিদ্যাসাগরদের জন্মদিবস পালনের মাধ্যমে।

এদিন অনুষ্ঠানে বছর ৬ এর অনামিকা সোরেন তার ৬০ বছরের ঠাকুমা রানি সোরেনকে হাতেখড়ি করায়, বছর ৮ এর দীপক মাড্ডি তার ৩৮ বছরের মা শিখা মাড্ডিকে বর্ণপরিচয় শেখায়, ১০ বছরের অঙ্কিতা মুর্মু তার ঠাকুমা হপণ্টি মুর্মু (৫৮) কে অ.. আ…. ক …খ …পাঠদান করায়, শ্রদ্ধা টুডু (৮) তার মা পুজা টুডু (৪৬)কে হাতেখড়ি করায়। শেষে উদয় সোরেন, জ্যোতি কিস্কু পড়ুয়ারা জানান, ওরা খুবই আনন্দিত বিদ্যাসাগরের জন্মদিবসে তাদের পিতামাতাকে পাঠদান করাতে পেরে। পড়ুয়াদের পিতামাতা কল্যাণী সোরেন, নীলমণি কিস্কু খুবই গর্বিত বলে জানান। আর বিদ্যালয়ের পরিদর্শক অরিজিৎ মণ্ডল  এমন অভিনব উদ্যোগকে স্বাগত জানা।  মাননীয়  জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি, দীপবাবুর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ  জানান  সঙ্গে অভিনন্দনও। শিরিষডাঙ্গা আদিবাসী পাড়া  অঙ্গনোয়াড়ি কেন্দ্রর কর্মী ডলি মণ্ডল ও  সহায়িকা আলপনা চ্যাটাজ্জী রায় বলেন এমন অভিনব অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে যথেষ্ট  গর্ব অনুভব করছি। আমরা আগামী দিনেও দীপ মাস্টারমশাই এর সঙ্গে এমন মহৎ কাজে যুক্ত থাকতে চাই।

শিক্ষক দীপনারায়ণবাবু বলেন, খুদে বিদ্যাসাগরেরা বর্ণপরিচয়কার মাতৃভাষা বাংলার  গদ্যশিল্পী বিদ্যাসাগরের জন্মদিবস পালন করল এটাই আমার কাছে শ্রেষ্ঠ উপহার। আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আগামী দিনে বিদ্যাসাগরের আদর্শে অনুপ্রাণিত বহু ভাবি শিক্ষক শিক্ষিকাদের দেখতে পাচ্ছি। এটাই আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। শিক্ষাজগতে একটা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ।

 

Related Articles

Back to top button
Close