fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাজ্য ‘চূড়ান্ত ব্যর্থ’ নজরদারি দুর্বল, কড়া চিঠি কেন্দ্রীয় দলের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনায় মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ, রাজ্য ‘চূড়ান্ত ব্যর্থ’ বলে কড়া চিঠি কেন্দ্রীয় দলের প্রধানের। রাজ্যে নমুনা পরীক্ষা কম হয়েছে। নজরদারি দুর্বল। সংক্রমিতদের খুঁজে সঠিক ভাবে চিহ্নিতও করা হয়নি। দু’সপ্তাহ কলকাতায় থাকার পর দিল্লি ফেরার আগে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রের পাঠানো পর্যবেক্ষক দল। সোমবার মুখ্যসচিবকে পাঠানো ওই চিঠিতে নিজেদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণের একাধিক কথাই জানিয়েছেন কলকাতা-সহ চার জেলায় পর্যবেক্ষণে আসা কেন্দ্রীয় দলের প্রধান অপূর্ব চন্দ্র। এই চিঠি থেকে ইঙ্গিত স্পষ্ট, করোনা প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরুদ্ধে কড়া রিপোর্ট দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় এই দল।

রাজ্যের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ যেটি তোলা হয়েছে, সেটি হল রাজ্যের কর্তব্যের গাফিলতির অভিযোগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজ্যে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর হার ১২.৮ শতাংশ। যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অপূর্ব বলেন, ‘৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে ৮১৬ টি কোভিড পজিটিভ কেস পাওয়া গিয়েছিল। তার মধ্যে মারা গিয়েছিলেন ১০৫ জন। যার অর্থ পশ্চিমবঙ্গে কোভিডে মৃত্যুর হার ১২.৮ শতাংশ। উচ্চ মৃত্যুর হার স্পষ্ট ইঙ্গিত করছে যে পশ্চিমবঙ্গে নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে এবং নজরদারিও অত্যন্ত দুর্বল।

অপূর্ব চিঠিতে লিখেছেন, গত দু’সপ্তাহ ধরে তাঁরা গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। প্রথমেই তিনি মুখ্যসচিবের কাছে অভিযোগ করেছেন, শুরু থেকে কেন্দ্রীয় দলের প্রতি শত্রুমনোভাবাপন্ন আচরণ করেছে রাজ্য। অপূর্বের দাবি, তিনি রাজ্যকে মোট সাতটি চিঠি দিয়েছেন। বিভিন্ন দফতরের সচিব-সহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। বেশ কিছুও তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। অভিযোগ, স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিবের সঙ্গে এক দিন ভিডিয়ো কনফারেন্সে কথা বলার সুযোগ পাওয়ার বাইরে অন্য কোনও আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি কেন্দ্রীয় দলের ওই প্রধান। তাঁর অভিযোগ, অধিকাংশ তথ্যই হাতে আসেনি।

আরও পড়ুন: দু’বার গরহাজির থাকার পর এই প্রথম নির্জোট সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় দল জানিয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের তথ্যের মধ্যে বিস্তর গোলমাল রয়েছে। রাজ্য ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত যে তথ্য দিয়েছে তাতে বলা হয়েছিল রাজ্যে ৫৪২ টি অ্যাকটিভ কেস রয়েছে, ১৩৯ জন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৩৩ জন মারা গিয়েছেন। অর্থাৎ মোট ৭৪৪টি কেস। ওইদিনই আবার স্বাস্থ্য দফতরের প্রধানসচিব কেন্দ্রকে একটি চিঠিতে জানিয়েছেন, ওই দিন পর্যন্ত মোট ৯৩১টি পজিটিভ কেস পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্যের ফারাক প্রমাণ করছে রাজ্য সরকার নিজের কাজের ক্ষেত্রে মোটেই সৎ নয়। যার ফলে রাজ্যের করোনা চিত্র মোটেই স্পষ্ট নয় এখনও পর্যন্ত। পাশাপাশি, ১ ও ২ মে রাজ্যের তরফ থেকে করোনার মোট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় দল।

একইসঙ্গে অপূর্ব চন্দ্র স্পষ্টই জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজ্যের কাছ থেকে কোনও সহায়তাই পাওয়া যায়নি।কোভিড নিয়ে কনটেনমেন্ট এলাকাগুলিতে নজরদারি প্রসঙ্গেও রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় দল। অপূর্ব চন্দ্র লিখেছেন, ”রাজ্য দাবি করেছিল যে, তাঁদের অত্যন্ত সুসংহত এবং শক্তিশালী নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের দু’সপ্তাহ সফর সময়ের মধ্যে চারটি জেলায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের উপর নজরদারির ক্ষেত্রে যে বিশাল পরিকাঠামো দরকার তা দেখতে পাইনি।’ বলা হয়েছে, নিয়মিত নজরদারি রাখলে যে বিপুল তথ্যভাণ্ডার থাকার কথা, সেই ডেটাবেস থাকার কোনও প্রমাণও তাঁরা পাননি।

আরও পড়ুন: ‘জুতো মেরে গরু দান’ টিকিয়াপাড়ার ঘটনায় রাজ্যকে আক্রমণ রাহুল সিনহার

তবে সমালোচনার পাশাপাশি, রাজ্যের সাম্প্রতিক কয়েকটি উদ্যোগের প্রসংশাও করা হয়েছে অপূর্ব চন্দ্রের এই চিঠিতে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্য খুব দ্রুত নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়েছে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত যেখানে রাজ্যে গড়ে ৪০০টি পরীক্ষা হত, সেখানে ২ মে পরীক্ষার সংখ্যা ২ হাজার ৪১০। কোভিড আক্রান্তের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৩০ এপ্রিল রাজ্যের ঘোষণারও প্রশংসা করা হয়েছে। ওই দিন মুখ্যসচিব ঘোষণা করেন যে, হাসপাতালের চিকিত্‍সকরাই মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট দেবেন। রাজ্যের বিশেষ অডিট কমিটি প্রতিটি মৃত্যুর অডিট আর করবে না।

রাজ্যের এই ঘোষণাকে কোভিড পরিসংখ্যান নিয়ে স্বচ্ছতা আনার পথে একটা বড় পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করে হয়েছে। রাজ্যের ৬টি পরীক্ষাগারে ‘পুল টেস্ট’ শুরু করা নিয়েও প্রশংসা করা হয়েছে রাজ্যের। আইসিএমআর নির্দেশিকা মেনে হাসপাতালে রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে কোভিড পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে যে নির্দেশিকা রাজ্য. জারি করেছে তাকেও স্বাগত জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। সেই সঙ্গে মন্তব্য করা হয়েছে, নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে এই গতি বজায় রাখতে হবে।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close