fbpx
কলকাতাহেডলাইন

কেন্দ্রের কাজ অসৌজন্যমূলক, রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে আম্ফান নিয়ে কেন্দ্রের বৈঠক, ক্ষুব্ধ মমতা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনার মাঝে এবার বাংলার দিকে ধেয়ে আসছে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কোমর বেঁধে লড়ছে রাজ্য। অথচ এই পরিস্থিতিতে রাজ্যকে প্রায় অন্ধকারে রেখে বৈঠকে বসে কেন্দ্র। তা নিয়ে আবারও কেন্দ্র-রাজ্য জড়াল সংঘাতে। সাফ জানিয়ে দিলেন কেন্দ্র যা করছে সেটা অসৌজন্যমূলক। রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে, প্রটোকল না মেনে যেভাবে রেসিডেন্ট কমিশনারকে ডাকা হয়েছে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। পাশাপাশি তিনি এদিন আম্ফান মোকাবিলায় রাজ্য কী কী করছে সে সম্পর্কেও জানান।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ২৪ ঘণ্টা ওয়ার রুম খোলা হচ্ছে। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব নিয়মিত যোগাযোগে থাকবেন সেখানে। সেই সঙ্গে তিনি এটাও জানান যে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেউ মিসলিড করেছে, অথবা ভগবানই জানেন ঠিক কী হয়েছে। আম্ফান নিয়ে প্রটোকল মেনে মিটিংই ডাকা হয়নি। যে ভাবে রেসিডেন্ট কমিশনারকে ডাকা হয়েছে, সেটা চূড়ান্ত অসৌজন্যমূলক। পরশু বাংলায় আছড়ে পড়ার করা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের। সেই নিয়েও চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া আর হুগলি জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করে দেওয়ার পাশাপাশি এই জেলাগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানুষজনকে বিপদজ্জনক জায়গা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হচ্ছে। ত্রাণ বন্টনে যাতে কোনও খামতি না থাকে সে বিষয়ে নজর রাখতে সব ব্লক আর জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এইসব কিছু করতে গিয়ে সামাজিক দূরত্বের বিধি যাতে মানা হয় সে বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। আম্ফানের বিপর্যয় ঠেকাতে গিয়ে মানুষ যাতে কোভিড-১৯’র বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে সে দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়ের দাপটে সব থেকে বেশি ক্ষতি হতে পারে মনে করে সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও গোসাবায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৫টি দলকে মোতায়েন করা হয়েছে। আবার ঘোড়ামারা, মৌসুনি, জি-পল্ট ও ছোটো মোল্লাখালি এলাকায় রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৪টি পৃথক পৃথক দল মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: করোনা ব্যর্থতা ঢাকতে বিজেপির প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে শাসকদল, টুইটে তৃণমূলকেই বিঁধলেন নাড্ডা

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের দিকে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হবে। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় যাঁরা থাকেন ৩-৪ দিন একটু সাবধানে থাকবেন। বুলবুলের আগে ঠিক যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল সেভাবেই সকলকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। করোনা, আমফান সবই একসঙ্গে হয়ে গিয়েছে। ঘাড়ের উপর আমফান নিঃশ্বাস ফেলছে, কত কী দেখব? কি আর করা যাবে?’ এছাড়াও নার্সদের গণইস্তফা নিয়েও এদিন ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা মোকাবিলায় যাতে কোনও সমস্যা না হয় তাই মেল বা ফিমেল হেল্পার নিয়োগের কথা বলেন তিনি। ওই মেল বা ফিমেল হেল্পাররা অবশ্যই চিকিত্‍সা পরিষেবার সঙ্গে সামান্য যুক্ত হতে হবে। তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কীভাবে রোগীদের ওষুধ দেওয়া, তাপমাত্রা মাপানোর মতো প্রাথমিক কাজ করানো যায় সে বিষয়গুলি শেখানো হবে। অবসরপ্রাপ্ত নার্সদেরও প্রয়োজনে বেসরকারি কিংবা সরকারি হাসপাতালে আবারও নিযুক্ত করা যেতে পারে বলেও জানান রাজ্যের স্বাস্থ্য তথা মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close