fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চন্দননগরের সদ্যোজাতের দেহ লোপাটের মামলায় দ্বিতীয়বার ময়না তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আরজিকর হাসপাতাল থেকে চন্দননগরের সদ্যোজাতের দেহ লোপাটের মামলায় তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বার ময়না তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।  শুক্রবার এই নির্দেশের পাশাপাশি, হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালতে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ অক্টোবর।
এদিন রাজ্যের দেওয়া রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, কাউকে বাঁচানোর জন্য এত বড়ো ঘটনা একজন নিচু স্তরের ওয়ার্ড বয়ের ঘাড়ের ওপর দেওয়া যায় না। এবং এই ঘটনায় কারোও কোনও ভুল থাকলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও রাজ্যকে স্পষ্টত জানিয়ে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। যদি রিপোর্ট ঠিকঠাক না থাকে সে ক্ষেত্রে আদালত রাজ্যের অন্যান্য হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো খতিয়ে দেখবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। ঘটনা প্রসঙ্গে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী ব্রজেশ ঝাঁ ও আইনজীবী তরুণজ্যতি তেওয়ারি জানান, ‘গত ১৩ জুন চন্দননগরের বাসিন্দা দেবযানী মণ্ডল ও বাবুন মণ্ডলের সদ্যোজাতকে আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শিশুটিকে ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়। ভর্তির পর থেকেই মা ও বাবাকে দেখতে দেওয়া নিষেধ ছিল। এর মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শে বেশ কয়েকবার বাচ্চাটির মায়ের দুধ সংগ্রহ করা হয়।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, লকডাউনের মধ্যে রোজ চন্দননগর থেকে হাসপাতালে এসে সন্তানের জন্য স্তন্যদুগ্ধ দিয়ে গিয়েছেন মৃত শিশুটির মা। তবে বেশ কয়েকদিন ওই সদ্যোজাত শিশুকে আর দেখা করতে না দেওয়ায় ব্যাপারটি সন্দেহজনক মনে হলে বাচ্চাটির বাবা জোর করে ওই বিভাগে ঢোকেন। বাচ্চাদের সজ্জার কাছে গিয়ে দেখেন সেখানে তার সন্তান নেই।’
২৫ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, গত ১৫ জুন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৬ জুন মর্গে বাবাকে নিয়ে গিয়ে শিশুকে চিহ্নিত করতে বলা হয়। কিন্তু বাবা মর্গে গিয়ে শিশুর পচা,গলা মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করেন। তিনি পোস্ট মর্টেম ও ডিএনএ পরীক্ষার দাবী জানান। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ১৫ জুন মারা গেলেও কেন ২৫ জুন বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তবে কার জন্য মায়ের দুধ সংগ্রহ করা হল ? আর এতো দিন জানানো হল না কেনো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শিশুর পরিবার। মামলায় রাজ্যের কাছে এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছিল আদালত।
আদালতে পেশ করা রিপোর্ট প্রসঙ্গে এদিন রাজ্যের তরফে এডভোকেট জেনারেল জানান, ‘শুধুমাত্র একজন ওয়ার্ডবয়ের ভুলের জন্যই শিশুটির পরিবার গোটা ঘটনা থেকে বিরত থেকেছে। শিশুটির পরিবারকে খবর দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ওই ওয়ার্ডবয়ের। কিন্তু সে ভুল করে পরিবারকে জানায়নি। তার প্রেক্ষিতে এমনই মন্তব্য করে ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি, মামলার গত শুনানিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট সে বিষয়েও রাজ্য কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় রাজ্যের উপর অসন্তুষ্ট আদালত।

Related Articles

Back to top button
Close