fbpx
দেশহেডলাইন

মরুঝড়ের মাঝেই চিদম্বরমের ফোন শচীনকে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:   রাজস্থানের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ, পাইলটকে দলে ধরে রাখতে সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাহুল গান্ধী। মরুঝড়ের মাঝে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা চিদম্বরমের সঙ্গে একাধিক বার ফোনে কথা হয়েছে শচীন পাইলটের। এর থেকে স্পষ্ট সিন্ধিয়াকে হারিয়ে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই পাইলটকে হাত ছাড়া করতে নারাজ রাজীব তনয়। বৃহস্পতিবার রাতেও কথা হয়েছে রাজস্থানের এই তরুণ নেতার সঙ্গে। বিদ্রোহী শচীনকে একাধিক পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন চিদম্বরম। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি ওঁকে  বলেছি, দল তোমায় প্রকাশ্যে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছে সমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলবে। আলোচনা করবে। এই সুযোগটা তুমি কাজে লাগাও।’

এদিকে রাজস্থানের রাজনীতিতে কংগ্রেসের গৃহযুদ্ধের নাটক গড়িয়েছে আদালত কক্ষে। আর সেই পর্বে প্রথমেই একটা ছোটখাটো ধাক্কা খেয়েছেন সচিন পাইলট। পাইলট-সহ ১৯ বিধায়ককে দেওয়া স্পিকারের বরখাস্তের নোটিসকে চ্য়ালেঞ্জ করে রাজস্থান হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন পাইলট অনুগামী বিধায়ক পৃথ্বীরাজ মিনা। গতকাল দুপুর ৩টেয় এ মামলার শুনানি শুরু হয়। তবে সেই শুনানি মুলতুবি করা হয়। দলের হুইপ অমান্য করে কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠক এড়িয়েছেন বিধায়করা। এই অভিযোগ জানিয়ে ১৯ জন বিধায়ককে মঙ্গলবার নোটিস পাঠান স্পিকার। এদিকে তা সত্ত্বেও পাইলটের জন্য দরজা খোলা রেখেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও ঠিক সেসময়ই নাম না করে পাইলটকে খোঁচা দিয়ে যাচ্ছেন অশোক গেহলট।

শচীন ঘনিষ্ঠদের একটি সূত্র উল্লেখ করে বলেছিল, সদ্য পদচ্যুত রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী ঘরোয়া আলোচনায় জানিয়েছেন, দক্ষিণ ভারতীয় এক নেতা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন। তার সঙ্গে চিদম্বরমের এই বক্তব্য মিলে যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই টানটান নাটক চলছে মরুরাজ্যে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার শচীনকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শচীনের অনুগামী দুই মন্ত্রীও পদচ্যুত হন। তারপর শচীন টুইট করে বলেন, ‘যারা সত্যের পথে থাকে তাদের হেনস্থা করা যায় ঠিকই কিন্তু তা বলে সত্যকে পরাজিত করা যায় না।’ প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, রাজস্থানেও বুঝি মধ্যপ্রদেশ মডেল হতে চলেছে। ভোপালের গদি ওল্টানোর ক্ষেত্রে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, শচীনও হয়তো জয়পুরে একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। যদিও আপাতত শচীন বলেছেন, তিনি বিজেপিতে যাচ্ছেন না। গান্ধী পরিবারের সামনে তাঁকে খাটো করতেই তাঁর গেরুয়া-যোগের ব্যাপারে নানান কথা হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজস্থানের রাজনীতিতে নাটক! হাইকোর্টে টিম পাইলটের সংশোধিত আর্জির শুনানি আজ

সচিনকে দলে পুরনো হালে চাইলেও কংগ্রেস বুঝতে পারছে পথ আলাদা হয়ে গিয়েছে। সচিন হয়ত পুরনো রাস্তায় হাঁটবেন না আর। এই অবস্থায় ভঙ্গুর কংগ্রেস বুঝতে পারছে না কোন পথে সিদ্ধান্ত নিলে রাজস্থানে সরকার বাঁচানো যাবে বা রাজনৈতিক সঙ্কটমুক্তি ঘটবে। জানা গিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসে ফিরলেও সচিনকে রাজস্থান থেকে সরিয়ে জাতীয় স্তরের কোনও পদে বসানো হবে। এবং সচিনকে ফিরে আসতে হবে নিঃশর্তভাবে।

Related Articles

Back to top button
Close