fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিরোধীদের রাজনীতি থেকে বিরত রেখে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই রাজনীতি করছেন: সোমেন মিত্র

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘মুখ্যমন্ত্রীর কোন কথার দাম নেই।’ ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দাগলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি তিনি এমনটাই জানান। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের রাজনীতি থেকে বিরত থাকতে বলছেন। অন্যদিকে নিজেই বিরোধীদের আড়াল করে সব কাজ করার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে সোমেন বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলছেন এ সময় রাজনীতির নয় অথচ বিধানসভার প্রধান বিরোধীদের দূরে রেখে রাজনীতি করছেন।’

করোনার আবহে যে ভাবে রেশন দুর্নীতি সামনে এসেছে এই সরকারের সে প্রসঙ্গে সোমেন কটাক্ষ করে আরও বলেন,’মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন রিলিফের এক টাকা চুরি সহ্য করবেন না। বিগত দিনে করোনার মোকাবিলায় রেশন নিয়ে অনেক কথা বলেছেন কিন্তু কিছুই করতে পরেননি। আসলে নিচু তলায় তার কথা ঠিক মত পৌছায় না।

এ বিষয়ে সোমেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ওনার উচিত ছিল রাজ্যের দুই বিরোধী দলনেতা কে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা। সর্বদলীয় বৈঠক বাদ দিলাম কিন্তু তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা উচিত ছিল। বামেদের পক্ষ থেকে সুজন চক্রবর্তী ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আব্দুল মান্নানের মত দায়িত্ব শীল ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে না নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একা একা ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন। আর বলছেন রাজনীতি করবেন না। রাজনীতি মুখ্যমন্ত্রী করছেন। তিনি রাজনীতির উর্ধে হলে সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে কাজ করতেন।’

পাশাপাশি আম্ফান বিপর্যয়ের পর রাজ্য সরকারের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে নানা মহলে। ঘূর্ণি ঝড়ের তাণ্ডবলীলা শেষ হয়ে গেলেও আম্ফান পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য প্রশাসনকে একেবারে লেজে গোবরে হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সিইএসসি ও পুরসভার তরজায় শহর বাসীকে বিদ্যুৎহীন ভাবে কাটতে হয়। পানীয় জলের পর্যন্ত ব্যবস্থা ছিল না।

এ প্রসঙ্গে সোমেন মিত্র বলেন, ‘রাজ্য সরকার একা পরে না। তা আম্ফান বিপর্যয় থেকে বোঝা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব নিয়েও কন্ট্রোল করতে পারলেন না। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষ বিপদ গ্রস্ত। কারুর সমালোচনা নয় কিন্তু সাত দিন আগে জানতে পেরেও প্রশাসনের বেহাল দশা হল কেন?’

বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত একযোগে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা লকডাউনের জেরে দেশের সাধারণ মানুষ যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরবেন। দলের তরফে সাধারণ নাগরিকদেরও অনুরোধ করা হয়েছে, ওই সময় ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে। পরে কংগ্রেস ওই ইস্যু নিয়ে সরব হবে। এই পুরো প্রচারাভিযানের দায়িত্বে আছেন দলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রোহন গুপ্তা। ইতিমধ্যেই এই ‘স্পিক আপ ইন্ডিয়া’ অভিযানের একটি লোগো প্রকাশ করা হয়েছে দলের তরফে। কলকাতায় বিধান ভবনেও একই কর্মসূচি পালিত হবে।

Related Articles

Back to top button
Close