fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ইনস্পেক্টর রাজ নয়, ১০০ পার্সেন্ট কাজ চাই: মমতা

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: নির্বাচনের আগে সমস্ত ফেলে রাখা কাজে গতি আনতে এবার তৎপর হলেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ ৬ মাস পরে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক সফরে গিয়েছেন। কারণ ভার্চুয়াল মিটিং চললেও আসল কাজের গতিরুদ্ধ হচ্ছে, এমনটাই আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। এবার উত্তরকন্যাতেও প্রশাসনিক বৈঠকের শুরু থেকেই ফ্রন্টফুটে খেলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ‘ইনস্পেক্টর রাজ বেশি চলছে। জনস্বার্থে কাজ বেশি চাই। সবকিছু খোলনলচে বদলে দেব। ১০০ পার্সেন্ট কাজ চাই, ১০০ পার্সেন্ট অভিযোগের সমাধান করতে হবে।”

প্রসঙ্গত, করোনার জেরে দীর্ঘদিন জেলা সফর বন্ধ রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর বহুদিন তিনি সশরীরে জেলা সফরে না যাওয়ার ফলে কিছুটা হলেও ঢিলেমি বেড়েছিল প্রশাসনের। কিন্তু ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন যেখানে আর ৬ মাসও বাকি নেই, সেখানে নির্বাচনের আগে ফেলে রাখা প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনার জন্য আধিকারিকদের বললেন মুখ্যমন্ত্রী।উত্তরকন্যাতে প্রশাসনিক বৈঠকে বললেন, ‘উন্নয়নের কাজ যেন কোনওভাবে আটকে না থাকে। আদিবাসী অধ্যুষিত আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে যাতে মানুষের উন্নয়নের কোনও কাজে গাফিলতি না হয় এবং দ্রুত যেন শেষ করা হয়। উদ্বাস্তুদের জমি সমস্যা থেকে শ্রম দপ্তরে জমা অভিযোগ, তফসিলি জাতি-উপজাতির শংসাপত্র, সবকিছুই যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। আগামী তিন মাসের মধ্যে দুই জেলার সব কাজ শেষ করার জন্য ডিএম-এসডিও-বিডিওদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত নবান্নের অনুমোদন সত্ত্বেও এবং রাজ্যের অর্থ দফতর টাকা দেওয়া সত্ত্বেও অনেক জায়গায় কাজ হচ্ছে না বলে রিপোর্ট পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সমস্ত প্রকল্প উল্লেখ করে অকারণে কাজে ঢিলেমি দেখালে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সেই হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তিনি বলেন, জেলা সভাধিপতিরা কী করছে, কাজগুলো পড়ে থাকছে কেন? ডিএম-বিডিওদের সঙ্গে কথা বলে কাজগুলো শেষ করুন।” বুধবার উত্তরের আরও তিন জেলা দার্জিলিং, কোচবিহার ও কালিম্পংয়ের রিভিউ বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে প্রশাসনিক বৈঠক ছাড়াও উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক নতুন প্রকল্প ও পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তরবঙ্গের ৩৭০টি চা বাগানের গৃহহীন শ্রমিকদের জন্য ‘চা সুন্দরী’ নামে
নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পে ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ২ মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প সম্পূর্ণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রথম পর্যায়ে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মোট ৭টি চা বাগানের ৩,৬৯৪টি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তার মধ্যে আলিপুরদুয়ারে ৫টি চা বাগানের ২,৬৪১ টি পরিবার রয়েছে। আর জলপাইগুড়িতে ২টি চা বাগানে ১,০৫৩টি পরিবার থাকছে। এছাড়াও এদিন ১৩০ জন কেএলও আন্দোলকারী ও লিংকম্যান রাজ্যের উদ্যোগে মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন এবং রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বাকি ১৬১ জন বুধবার ফিরবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার এঁদের বিশেষ কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাছাড়া এদিন মুখ্যমন্ত্রী জল্পেশ মন্দিরের পুরোহিত বিজয় চক্রবর্তীর হাতে ভাতা তুলে দিয়ে রাজ্য পুরোহিত কল্যাণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পে ১০০০ টাকা ভাতা ছাড়া পুরোহিতদের বাড়ির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ২৩টি জেলায় ১৮,৩১১টি মন্দির চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকার সমীক্ষা করে এই তথ্য জানতে পেরেছে। এছাড়া ১৮,২২৩ জন পুরোহিত ভাতা পাওয়ার যোগ্য। এছাড়াও এদিন কামতাপুরি ভাষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন কল্পে কামতাপুরী ভাষা অ্যাকাডেমির পক্ষে অতুল রায়ের হাতে ৫ কোটি অনুদান এবং বক্সাদুয়ার ফোর্ট সংস্কারের জন্য ৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button
Close