fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জলে ডুবে শিশুর মৃত্যু বাঙ্গালবাড়িতে, চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে বিক্ষোভ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

মৃন্ময় বসাক, হেমতাবাদ: জলে ডোবা এক শিশুর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে উত্তেজনা হেমতাবাদ ব্লকের বাঙ্গালবাড়ি প্রথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পুলিশ জানিয়েছে, আড়াই বছর বয়সী মৃত শিশুর নাম গৌরি বৈস্য। বাড়ি হেমতাবাদ ব্লকের বাঙ্গালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসন এলাকায়।

জানা গেছে, শনিবার ওই শিশুটি খেলতে খেলতে বাড়ির পা্সের পুকুরের জলে ডুবে যায়। স্থানীয় তাকে দেখতে পেয়ে জল থেকে শিশুটিকে তুলে এনে বাঙ্গালবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসে। দীর্ঘক্ষন হাসপাতালের বেডে বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকলেও কেউ তাকে দেখেন নি। হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে প্রত্যেকের কাছে একটু অক্সিজেন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও কেউ তাঁদের কথায় কর্নপাত করেনি বলে অভিযোগ তোলে মৃত শিশুর পরিবারের লোকেরা। এরপর গ্রামবাসিরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
হেমতাবাদ থানার ওসি দিলিপ রায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

যদিও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা গাফেলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক রাহুল বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছে, তিনি সবে করোনা থেকে সুস্থ্য হয়ে কিছুদিন আগেই ফিরেছে। এখনও তার ১৪ দিন অতিক্রান্ত হয়নি। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক তাঁকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার নির্দেশ দেওয়ায় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে পৌঁছান। এরপর তিনি স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন

হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার কোনো গাফিলতি হয়নি। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে হেমতাবাদ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র করোনা হাসপাতাল করারা পর বাঙ্গালবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্র একমাত্র ভরসা হেমতাবাদ ব্লকের বাসিন্দাদের। এই হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় সমস্যায় পরতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের বলে ক্ষোভ প্রাকাশ করেছে স্থানীয়রা। বাঙ্গালবাড়ি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুইজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় মৃত্যু হয়েছে শিশুর বলে দাবি তুলে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রাও।

এই বেপারে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক বিশ্বাস বলেন, হেমতাবাদ ব্লকেই চিকিৎসক কম রয়েছে। দুইজন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আরও সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবুও ব্লকে চিকিৎসা পরিষেবা সচল রাখা হয়েছে। বিনা চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি ভুল। শিশু টিকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।

Related Articles

Back to top button
Close