fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আসানসোলে নাবালিকার বিয়ে আটকে বাবা-মায়ের কাছে মুচলেকা নিল চাইল্ড লাইন

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: অষ্টমঙ্গলাই শেষ পর্যন্ত কাল হল সদ্য বিয়ে করা দম্পতির। তাদের বিয়ে অবৈধ বা বেআইনি বলে শুধু ঘোষণা হল তাই নয়, নাবালিকা থেকে সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না নাবালিকার বাবা ও মা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি নির্দেশ মেনে অঙ্গীকার করলেন। তার সঙ্গে মুচলেকাও দিলেন তারা। ঘটনাটি ঘটেছে, আসানসোলের সালানপুর থানার সালানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মেলেকোলা গ্রামে।

সদ্য মাধ্যমিক পাস করা ও একবার কন্যাশ্রী পাওয়া ১৬ পার করা এক নাবালিকার সঙ্গে বারাবনি ব্লকের কাশকুলি গ্রামের এক যুবকের গত ১২ জুলাই বিয়ে হয়। বিয়ের পর সেই নব দম্পতি অষ্টমঙ্গলা করতে বারাবনি থেকে মেলেকোলা গ্রামে আসে। এই বিয়ের খবর চাইল্ড লাইন কাছে পৌঁছানোর পরে সেখানকার আধিকারিকরা প্রথমে বারাবনিতে যান। সেখানে তারা যুবকটির বাবা ও মার সঙ্গে কথা বলেন। পুরো বিষয়টি তারা তাদের বুঝিয়ে বলেন যে নাবালিকার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ভুল করেছেন। সেই মর্মে চাইল্ড লাইন তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেন। এরপর সেখান থেকে চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটার দেবায়ন সেনগুপ্তের নির্দেশে একটি প্রতিনিধি দল সালানপুর ব্লকের আধিকারিক শুভাশিস রায় ও প্রবীর মজুমদার সালানপুর থানার পুলিশ ও সালানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রলয় চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছান। নাবালিকার বাবা, মা ও আত্মীয়দের তারা বোঝান যে, সরকারি নির্দেশমতো ১৮ বছরের নিচে কোন মেয়ের বিয়ে দেওয়া বেআইনী। সেই বৈধ বা আইনী নয় হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী।

শুধু তাই নয়, ব্লক প্রশাসন ও চাইল্ড লাইনের আধিকারিকরা তাদের বুঝিয়ে দেন যে তাদের মেয়েকে ১৮ বছর বা তার বেশি পর্যন্ত পড়াশোনা করাতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেবে। ১৮ বছরের আগে কোন মতেই বিয়ে দেওয়া যাবে না। এরপর আলাদা করে নাবালিকার বাবা ও মা মুচলেকা দিয়ে বলেন যে, তারা বিষয়টি জানতেন না। তারা ভুল করেছেন। এমন ভুল আর হবে না। একই সঙ্গে তারা সরকারের অঙ্গীকার পত্রে স্বাক্ষর করেন। তারা বলেন, ১৮ বছরের আগেই তারা আর মেয়ের বিয়ে দেবেন না। সরকারি নির্দেশ যা আছে, তারা তা মানবেন।

আসানসোলের মহকুমাশাসক দেবজিৎ গাঙ্গুলি এই প্রসঙ্গে বলেন, মেয়েদের ১৮ বছরের আগে কোন বিয়ে বৈধ নয়। তার পরে বিয়ে এখন রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। স্বাভাবিকভাবেই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি বা চাইল্ড লাইন পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে যা যা করার করেছে। চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর দেবায়ন সেনগুপ্ত বলেন, আমরা যা যা করার আমাদের প্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা করেছেন। ওই পরিবারগুলিকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিতে ডেকে পাঠানো হবে।

Related Articles

Back to top button
Close