fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

করোনা দুর্নাম থেকে নজর ঘোরাতেই লাদাখে চিনা হামলা: প্রবাসী তিব্বত সরকারের রাষ্ট্রপতি ড. লোবসং 

রক্তিম দাশ, কলকাতা: করোনা থেকে বিশ্বের নজর ঘোরাতেই সীমান্তে সংঘাতে বাতাবরণ তৈরি করেছে চিন! এমনটাই মনে করেন হিমাচলের ধর্মশালায় অবস্থিত প্রবাসী তিব্বত সরকার (সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এর রাষ্ট্রপতি ড. লোবসং সাঙ্গে। লাদাখে লাইন অব কন্ট্রোলে সাম্প্রতিক সংর্ঘষে তিনি চিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ফের ভারতকেই সমর্থন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি ড. লোবসাং বলেন, ‘লাদাখের এই ঘটনায় তিব্বত সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যে কোনও ধরণের হিংসার নিন্দা করা উচিত। ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ দুভার্গ্যজনক ঘটনাটি যখন ঘটল তখন আমাদের বলা হচ্ছিল সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলছে। এলওসিতে হিংসা হওয়া উচিত নয়। আমরা এই হিংসার নিন্দা করি এবং শান্তির বাতাবরণ তৈরি করার আবেদন জানাই। ঐতিহাসিকভাবে ওই অঞ্চলটি তিব্বত ও ভারতের সীমানা ছিল। একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল ছিল। কারণ তিব্বত বরাবরই শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র ছিল। কিন্তু তিব্বতে সীমান্ত যেদিন থেকে চিন সীমানায় পরিবর্তিত হয়েছে তখন থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়েছে। এবং তা অব্যাহত রয়েছে।’

চিন আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে চলছে বলেই মনে করেন ড. লোবসং। তিনি বলেন,‘ তিব্বত যখন চিন দখল করেছিল তখন চিনের নেতারা বলেছিল, তিব্বত একটি হাতের তালু এবং লাদাখ, সিকিম, নেপাল, ভূটান এবং অরুণাচল তার পাঁচটি আঙুল। সুতরাং তাঁরা হাতের তালুটি দখল করেছে এখন তাঁরা পাঁচটি আঙুলও নিতে চাইবে। তাই লাদাখ এবং সিকিমের ঘটনায় অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। ২০১৭-তে ডোকলাম যা হয়েছিল এখন লাদাখে হচ্ছে। তিব্বত দখলের পরে আমরা এত বছর বলে আসছি যে ‘আমাদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা ভারত সহ সমস্ত প্রতিবেশী দেশেই ঘটতে পারে। বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস মহামারী নিয়ে মনোনিবেশ করছে যা চিনের উহান থেকে এসেছে। তখন চিন এসব কাজ করছে সীমান্তে।’

করোনা আর দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যাগুলি থেকে বিশ্ববাসী নজর ঘোরাতে সীমান্তে সংঘাত শুরু করেছে চিন দাবি করে, তিব্বতের রাষ্ট্রপতি বলেন,‘করোনা নিয়ে বিশ্ব জনমত এবং হু- চাপ এর পাশাপাশি অভ্যন্তরে তিব্বতি, উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর উপর দমন-পীড়ন থেকে নজর ঘোরাতেই সীমান্তে সংর্ঘষ ঘটিয়ে বিশ্ববাসীর মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে চিন।’

১৯৬২ থেকে ভারতীয় সেনা এখন অনেক উন্নত সেটা জেনেও চিনের এধরণের ঘটনার পিছনে বিশ্ব নেতা হয়ে উঠার উচ্চাকাঙ্খা কাজ করছে বলে মনে করেন ড. লোবসং।

তিনি বলেন, ‘ভারত এশিয়ার বৃহত্তম জনবহুল দেশ হিসাবে উঠে আসছে। সামরিক সক্ষমতা যথেষ্ট। আমি মনে করি চিন আসলে জল মাপছে। তিব্বত দখল করার পর থেকে তিব্বত ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত ভারত-চীনে সীমান্তে পরিবর্তিত হয়েছে। তারপর থেকেই উত্তেজনা শুরু। তিব্বত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এরকম চলতেই থাকবে। ভারতের সুরক্ষার জন্যই তিব্বতে স্বাধীকার চাই।’

লাদাখের শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক চিনা পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে এনিয়ে বলতে গিয়ে ড. লোবসং বলেন,‘ আমার মনে হয় তাঁর এই আহ্বানে সীমান্তের ওপারে নেতাদের মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে। আগ্রাসন এবং আক্রমণ থাকলে তারা প্রথম ভুক্তভোগী হবে তাই তারা বেশ ঘাবড়ে গেছে। আমদানি-রফতানি মূলত সরকারের উপর নির্ভর করে। সরকার যদি একটি বিশাল শুল্ক আরোপ করে যা চিনা পণ্যগুলি ভারতে আসার সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে। জাতীয় স্বার্থে চাইনিজ অ্যাপস এবং চাইনিজ পণ্যগুলি বর্জন করা যেতেই পারে। তবে আমার মনে হয় লোকেরা এগুলো কেনে সস্তা বলে। কিন্তু দেশের মানুষের জন্যও জাতীয় সুরক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

চিনা সরকার সর্ম্পকে ভারতকে সর্তক করে দিয়ে তিব্বতের রাষ্ট্রপতি বলেন,‘ রাষ্ট্রপতি শি-জিনপিং তামিলনাড়ু– গিয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে স্বাগত জানালেন। তখন চিনা সেনাবাহিনী লাদাখে শক্তি বৃদ্ধি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমরা চিনা সরকারকে মোকাবিলা করছি তাই আপনাকে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এটাই আমরা বলতে চাই। সংলাপ যে কোনও সমস্যা সমাধানের সেরা উপায় এবং সে কারণেই আমরা অহিংসার কথা বলি, আমরা সংলাপে বিশ্বাসী, এটিই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায়। ভারতের নিজের অঞ্চল এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার রয়েছে।’

দলাই লামা চিরকাল ভারতের পক্ষে কথা বলে চলেছেন এমনটা বলে প্রবাসী তিব্বত সরকারকে রাষ্ট্রপতি ড. লোবসং বলেন,‘ দালাই লামা বিশ্বজুড়ে ভারতের জন্য, ভারতের কথা বলছেন। তিনি ভারতীয় দর্শনের সবচেয়ে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রদূত। এখন ২০১১ সাল থেকে, তিনি তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নির্বাচিত করেছেন যা আমার দফতর। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় এবং রাষ্ট্রকে পৃথক করেছেন। তাই তিব্বত ও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে কথা বলার দায়িত্ব আমার এবং আমি এই হিংসার নিন্দা জানাচ্ছি।’

 

Related Articles

Back to top button
Close