fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ব্যবসার ক্ষেত্রে চিন, কিন্তু যুদ্ধের প্রশ্নে নিজের জন্মভুমি ভারতের পাশেই কাঁথির সাতমাইল পরিবার

মিলন পণ্ডা, কাঁথি: ব্যবসা ক্ষেত্রে চিন, কিন্তু যুদ্ধের প্রশ্নে নিজের জন্মভুমি ভারতে পাশে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির সাতমাইল পরিবার। ভারত-চিন সীমান্তে লাদাখের সংঘর্ষে ভারতীয় সেনা জওয়ান শহিদ হয়েছেন। এর জেরে গোটা ভারতবর্ষ ক্ষোভে ফুঁসছে। শ্বশুর দেশ চিনকে ভারত যোগ্য জবাব দিক এটাই চাইছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির পশ্চিম পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা চিনের জামাই পিন্টু জানা। তিনি বলেন, আমি হতে পারি চিনের জামাই। যেভাবে ভারতীয় সেনা জওয়ান শহীদ হয়েছেন শ্বশুর দেশ চিনেকে যোগ্য জবাব দিক ভারত। আগে নিজের দেশ। যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকতো, তাহলে ভারত-চিন সীমান্তে গিয়ে চিনা সৈনিক বিরুদ্ধে লড়াই করতাম। যদিও পিন্টু স্ত্রী চিনা নাগারিক এঞ্জেল এখনও চিনে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কাঁথির পশ্চিম পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা চিনের গুয়াংজি প্রদেশ জামা কাপড়ের কারখানা ও ব্যাবসা রয়েছে। ব্যবসায়ী কারনে চিনে থাকতো কাঁথির পারুলিয়া বাসিন্দা পিন্টু জানা। ব্যবসায়ী সূত্রে এঞ্জেলের সঙ্গে আলাপ হয় পিন্টুর। পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। তারপরই দুই পরিবারের সম্মতি ক্রমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেই চিন থেকে এঞ্জেল যুবতীকে নিয়ে নিজের জন্মভুমি ভারতে চলে আসেন পিন্টু। তখন করোনা ভাইরাস সংক্রমন থাকায় এঞ্জেলের বাপের বাড়ির কেউ ভারতে আসতে পারেননি। অবশেষে ৪ ই ফেব্রুয়ারী পিন্টুর মামারবাড়িত হিন্দুশাস্ত্র মতে চিনা যুবতীকে এঞ্জেলকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হতে থাকায় গত ২৩ শে ফেব্রুয়ারি চীনে ফিরে যান এঞ্জেল (জানা)।

আরও পড়ুন: দেশে ভয়ানক গতিতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমিত ১৫৪১৩

আরও জানা গিয়েছে, পিন্টু জানার জামাই কাঁথি পিছাবনী বাসিন্দা ভবেশ চন্দ্র দাস চিনে জামা কাপড়ের ব্যবসা ও কারখানা রয়েছে। লকডাউনে কারনে ভবেশ বাবু চিনে আটকে রয়েছে। কাঁথি পিছাবনী একদিকে বৌমা, অন্যদিকে জামাই দুজনে এখনোও পর্যন্ত চিনে রয়েছে। এদিকে যদি ভারত-চীন যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে এই কাঁথি পিছাবনী বাসিন্দা আতঙ্কের মধ্যে দিন গুনছে। যদিও একটি সান্তনা বিষয় বৌমা এঞ্জেল ও জামাই ভবেশ চীনে একই শহরে থাকেন। যদি কোন বিপদ বা অসুবিধা হয় তাহলে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারবেন বলে এমনটা পরিবারের দাবি।

যদিও এই নিয়ে কাঁথির পারুলিয়ার বাসিন্দা পিন্টু জানা এনিয়ে এতটা বেশি চিন্তিত নয়। প্রত্যেকদিনই পিন্টুর সঙ্গে তার স্ত্রী মোবাইলে ভিডিও কলিং মাধ্যমে কথা হয়। এঞ্জেল চিনা মেয়ে, সে জানে কিভাবে নিজেকে সেভ রাখতে হয়। তিনি আরও বলেন, চিন ভারত উড়ান চালু হলেই এখানে চলে আসতে বলেছি। পিন্টুর জামাই ভবেশ চন্দ্র দাস এখনো পর্যন্ত চিনে আটকে রয়েছেন। স্ত্রী পিঙ্কিদেবী আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি কাঁথির পিছাবনী উত্তর শীতলা গ্রামে রয়েছে। তার স্বামী ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ বার চিনে পাড়ি দিয়েছিলেন। স্বামীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত ভিডিও কলের মাধ্যমে ছেলে ও আমার কথা হয়।

যদিও সম্প্রতি যেভাবে চিনা সৈন্যরা ভারতীয় সেনা জওয়ানরা কাঁটা জাতীয় লড় নৃশংস ভাবে অত্যাচার চালিয়েছে। আর সেই কারনে আমাদের দেশে কুড়িজন জওয়ান শহিদ হয়েছে। এই ঘটনা কোনভাবেই সমর্থন করছেন না পিন্টুর পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি চিন শুধু ব্যবসায়ী জায়গা। চিনে এইভাবে নির্মল অত্যাচার কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভারত যোগ্য জবাব দিক এই আশা করছেন কাঁথি পিছাবনী বাসিন্দা।

Related Articles

Back to top button
Close