fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ভারত ইস্যুতে দ্বন্দে CPC, দুর্বলতা ঢাকতেই যুদ্ধের জিগির, তোপ কুয়োমিনতাং পার্টির

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: গালওয়ান ইস্যুতে ঘরে বাইরে চাপের মুখে  চিনা কমিউনিস্ট পার্টি। প্রশাসন মুখে কিছু না বললেও তা কান পাতলে শোনা যাচ্ছে সেই ফিসফিসানি

সোশ্যাল মিডিয়া সে দেশে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে৷ বাকস্বাধীনতায় তালা দেওয়া বহু দিন আগে থেকেই৷ পাছে সরকারের রোষানলে পড়তে হয়, তাই সরকার নিয়ন্ত্রিত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সবাই ভারত-বিরোধী পোস্টে ব্যস্ত৷ কিন্তু চিনের বাতাসে কান পাতলে অন্য ফিসফিস শোনা যাচ্ছে৷ সেটি হল চিনা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ৷ গালওয়ান ভ্যালিতে ভারতের বিরুদ্ধে চিনের পদক্ষেপে চিন সরকারের উপর ক্ষুব্ধ একটি বড় অংশের চিনা বংশোদ্ভূতরাও৷

চিনা নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সংস্থার কর্ণধার সরাঙ্গধরের কথায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রিকতার (ডিগ্রি সেন্ট্রালিটি) নিরিখে অঙ্কের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ০.৫৭৬-এর একটু বেশি নিজেদের কমিউনিটি বা গোষ্ঠীর মধ্যে৷’ ডিগ্রি সেন্ট্রালিটি হল, সোশ্যাল সার্কেলে কত জন মানুষের সঙ্গে একজন ব্যক্তি যোগাযোগ রাখছেন৷ ‘Eigenvalue centrality’ হল, এই যোগাযোগের মান কী রকম৷ উদাহরণ স্বরূপ, কোনও ব্যক্তি যদি ৫০০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং আরেকজন ব্যক্তি যদি ৪০০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, এই ৪০০ কানেকশন যদি ভালো নেটওয়ার্ক হয়, সে ক্ষেত্রে ৫০০ জনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তির চেয়ে এই ব্যক্তির Eigenvalue ভ্যালু বেশি৷ Seclabs & Systems রিপোর্টে এই Eigenvalue বেশি৷ এবং আলোচনা ও পোস্টের ধরন চিন সরকারের বিরুদ্ধে৷

কী রকম বিরোধিতা? সরাঙ্গধর জানাচ্ছেন, ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রথম গোষ্ঠীটি হল চিনা ডায়াসপোরা সাংবাদিকরা৷ যাঁরা চিন সরকারের সীমান্ত ইস্যু নিয়ে পদক্ষেপে খুশি নন৷ তাঁরা এই গোটা বর্ণনায় তৃতীয় একটি পার্টির (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তাঁরা বলে মনে করছেন৷’ একই সঙ্গে হংকং ও তাইওয়ানের গণতন্ত্রের পক্ষের কর্মী ও সমর্থকরাও চিন সরকারের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন৷

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন ডেং ইউয়েন ও হু পিং৷ ডেং ইউয়েনের টুইটারে ফলোয়ারের সংখ্যা ৩৪ হাজারের বেশি৷ তিনি একজন চিনা সংবাদিক৷ তিনি চাইনিজ কুওমিনতাং-এর রেভোলিউনারি কমিটিরও সদস্য৷ হু পিং-এর টুইটারে ২ লক্ষ ২১ হাজারের বেশি ফলোয়ার৷ ভারতের সঙ্গে চিনের সীমান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিবাদকে লিখেছেন, চিন নেতৃত্বের দুর্বল দিকটাই ফুটে উঠল৷ হু পিং-ও তা-ই মনে করছেন৷ ইউয়েনের বিশ্বাস, ভারত ও চিনের যুদ্ধ যদি অতীতে অসম্ভব মনে হত, এখন সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷

জানা গিয়েছে বর্তমানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরে দ্বন্দ্ব ক্রমেই বাড়ছে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ এই দ্বন্দ্ব মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং প্রশাসনের।

সবকিছু নিয়ে এবার দেশের ভিতরেই ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে বেজিংকে।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close