fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গবিজ্ঞান-প্রযুক্তিহেডলাইন

করোনা আবহে নির্দিষ্ট কর্মী নিয়েও ৫১টি তেজসের ইঞ্জিন তৈরির নজির চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায়

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা সংক্রমণের জেরে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ছিল লকডাউন। দেশের অন্যতম চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানাও ছিল বন্ধ। জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নির্দিষ্ট কর্মীদের নিয়ে কাজ শুরু হয়৷ আর তারপরে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ৫১টি বিদ্যুতচালিত ইঞ্জিন তৈরি করে ফেলল চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা। লকডাউনে বেশ কিছুদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় চলতি অর্থবর্ষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯০টি ইঞ্জিন উৎপাদন নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানার জনসংযোগ আধিকারিক মন্তার সিং বলেন, মাত্র দেড় মাস যে পরিমাণে ইঞ্জিন উৎপাদন হয়েছে কারখানায় তাতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আমরা আশাবাদী।

গত জুন মাস থেকে কারখানায় উৎপাদনের কাজ শুরু হলেও সেই কাজের জন্য জরুরি কাঁচামাল জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, নতুন ইঞ্জিনগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ইন্ট্রিগ্রেটেড গেট বাইপোলার টেকনোলজি’ ও ‘থ্রি ফেজ টেকনোলজি’। গড়ে প্রতিমাসে ২৫ হাজার ভোল্টের এমন ৪০টি ইঞ্জিন তৈরি হয় এই কারখানায়। কারখানায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পুরণে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠেছিল করোনা।

আরও পড়ুন:কর্ণাটকের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ গেল টিপু সুলতানের অধ্যায়

কারখানার জনসংযোগ আধিকারিক জানান, তিনটি শিফটের বদলে দুটো শিফটে কর্মীরা কাজ করছেন। সামাজিক দূরত্ব বা সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় রেখে চলছে সব কাজ।

অন্যদিকে, দেশের প্রথম বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত হাইস্পিড ট্রেন “তেজস “এর ইঞ্জিন তৈরির কাজও শুরু হয়েছে এই চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানায়। জোড়া ইঞ্জিনের মিলিত ক্ষমতা হলো১১ হাজার হর্সপাওয়ার। স্বাভাবিকের তুলনায় তা প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি ঘণ্টায় ২২০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার গতিতে ছোটার ক্ষমতা রাখে এই ইঞ্জিন। ইতিমধ্যে কারখানায় তার ট্রায়াল রানও হয়েছে।
যদিও এই ‘সিক্রেট’ প্রজেক্টটিকে এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না রেল কর্তৃপক্ষ। এমনকি এই ইঞ্জিন তৈরির ছবি তুলে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে দুই কর্মীকে। শুধু ওই ছবির সত্যতা স্বীকার করে মুখে কুলুপ এঁটেছেন কারখানার আধিকারিকরা। কারখানার জনসংযোগ আধিকারিক মন্তার সিংও তেজসের ইঞ্জিন নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Related Articles

Back to top button
Close