fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে সিআইডি’র হাতে গ্রেফতার ২

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: টিটাগড় পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলর তথা এলাকার জনপ্রিয় তরুণ নেতা মণীশ শুক্লা খুনের তদন্তে নেমেই সাফল্যের মুখ দেখল রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। মঙ্গলবার সকালেই বারাকপুর এলাকা থেকে খুনে জড়িত অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করলেন তদন্তকারীরা। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম মহম্মদ খুররম এবং গুলাব শেখ। পুলিশের দাবি, পুরনো শত্রুতার জেরে খুররমই খুনের ছক কষে। পেশায় ব্যবসায়ী খুররম যোগাযোগ করে পেশাদার শুটার গুলাব শেখকে । তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দু’টি বাইককে চিহ্নিত এবং একজন আততায়ীকে শনাক্ত করা গিয়েছিল। পরে ফুটেজের সূত্র ধরেই খোঁজ পাওয়া যায় খুররমের।

তদন্তকারীদের সূত্রেই প্রকাশ্যে এসেছে বেশ কয়েকটি তথ্য, যা কাকতালীয় ভাবেই জুড়ে যাচ্ছে মণীশ-খুনের তদন্তের সঙ্গে। মণীশের দেহরক্ষী কেন ঘটনার দিন ছুটিতে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মণীশ ঘনিষ্ঠেরা জানিয়েছেন, দেহরক্ষী না থাকলে আগে মণীশ নিজের লাইসেন্সড পিস্তল সঙ্গে রাখতেন। রবিবার সেটাও ছিল না। মণীশের সঙ্গীদের দাবি, ছ’মাস আগে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পক্ষ থেকে পিস্তলের লাইসেন্স যাচাই করতে নেওয়া হয়। ওই লাইসেন্সটি ভিন্‌ রাজ্য থেকে ইস্যু করা। পুলিশ লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এবং যত দিন যাচাই না হচ্ছে তত দিন তাঁর পিস্তল পুলিশের কাছে জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্তে জানা গিয়েছে, মণীশ-খুররমের পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ব্যারাকপুর এলাকায় অনেক দিন ধরেই চর্চিত। খুররমের বাবা সিপিএম করতেন। তিনিও খুন হন। সেই হত্যাকাণ্ডে উঠে এসেছিল মণীশের নাম। গোয়েন্দাদের দাবি, আক্রোশ মেটাতেই খুন করা হয়েছে মণীশকে। সোমবার দুপুরেই রাজ্য পুলিশ জানিয়েছিল, এই ঘটনায় একজন আততায়ীকে শনাক্ত করা গিয়েছে। আটক করা হয়েছে দু’জনকে। পাশাপাশি, তাদের টুইটে ইঙ্গিত ছিল, মণীশ-হত্যায় রাজনীতি নয়, দায়ী পুরনো শত্রুতা। তবে পুলিশের এই তত্ত্ব মানতে নারাজ বিজেপি নেতারা।

রবিবার ভর সন্ধেবেলা টিটাগড় থানার উলটোদিকে বিজেপি কার্যালয়ে ঢুকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি চালিয়ে মণীশ শুক্লার শরীর ঝাঁজরা করে দেয় চার বন্দুকবাজ। উন্নতমানের নাইন এমএম কার্বাইন থেকে গুলি চালানো হয়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি নেতৃত্ব একযোগে তৃণমূল-পুলিশ যোগসাজশকে কাঠগড়ায় তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি তোলে।

আরও  পড়ুন: হাথরাসের ঘটনায় CBI’র উপর ভরসা নেই: প্রদীপ

অন্যদিকে, মণীশ শুক্লা খুনের তদন্তের দায়িত্বভার পায় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। সোমবার দিনভর মণীশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে অশান্তি চরমে ওঠে বারাকপুর থেকে কলকাতা। বিটি রোড অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের মতো একাধিক কর্মসূচিতে ঘটনার প্রতিবাদে নামে বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। সোমবারই মহঃ খুররম ও গুলাব শেখ নামে দু’জনকে আটক করেছিলেন সিআইডি তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদের পর আজ সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে খবর, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণ জোরাল হচ্ছে মণীশ হত্যাকাণ্ডে। কয়েক বছর আগে খুররমের বাবার খুনের ঘটনায় নাম উঠেছিল মণীশ শুক্লার। তারপর থেকেই তিনি টার্গেট। আগে ৩ বার তাদের প্রতিহিংসা থেকে বেঁচে গেলেও এবার আর রক্ষা পেলেন না। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নিখুঁত পরিকল্পনা মণীশ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। রীতিমত একমাস ধরে বিজেপি নেতার গতিবিধিতে নজর রেখেছিল শত্রুরা। সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটিতে যেতেই চূড়ান্ত ছক কষা হয়। সেইমতো অপারেশন চলে রবিবার সন্ধেবেলা। প্রায় ১৫টি গুলি মণীশের শরীরে ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close