fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মণীশ খুনের কিনারা করতে তৎপর সিআইডি, ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল

রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে সিআইডি চুনোপুঁটিদের ধরছে, বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং

অলোক কুমার ঘোষ, শ্যাম বিশ্বাস, ব্যারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের কিনারা করতে তৎপর সিআইডি। এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিআইডির হাতে ধরা পড়েছে ২ অভিযুক্ত খুররম খান ও গুলাম শেখ। তাদের ১৪ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সি আই ডি। মঙ্গলবার এই ঘটনায় ২ অভিযুক্তকে রাতভর জেরা করেছে তদন্তকারী সিআইডি অফিসাররা। বুধবার সকালে ধৃত খুররম ও গুলাম শেখকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সিআইডির এক প্রতিনিধি দল। সিআইডির প্রাথমিক অনুমান মণীশ খুনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত খুররম খান। এই খুররম খানের বাবাকে কয়েক বছর আগে তার বাড়ির সামনে হত্যা করা হয়েছিল। তারই প্রতিশোধ নিয়ে মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, এরকমই প্রাথমিক ধারনা সি আই ডির। তবে মণীশ খুনের ঘটনায় অন্য সব দিক খোলা রেখেই তদন্ত করছে সিআইডি কর্তারা।

এই খুনের ঘটনায় দুষ্কৃতীদের ইনফরমার হিসেবে জড়িত সন্দেহে নাসির নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে সিআইডি কর্তারা জেরা করছে বলে সূত্রের খবর। এদিকে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ব্যারাকপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চানন তলা এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বহুতলে বসে এই হত্যার ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা। ওই নির্মীয়মাণ আবাসনের মালিককেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছে সিআইডি। রবিবার রাতে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে টিটাগড় থানার সামনে বাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করে।

আরও পড়ুন: রিয়া চক্রবর্তীর জামিন মঞ্জুর করল আদালত

জানা গেছে, মনীশের শরীরে ৭ টি বুলেট লেগেছিল। মাথাতে লেগেছিল ৩ টি গুলি । এই ঘটনা যে ঘটনাস্থলে ঘটেছিল, সেই ঘটনাস্থল টিটাগড় থানার পুলিশ ঘিরে রেখেছিল। বুধবার বিকেলে সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফরেন্সিক দল। ৩ সদস্যের ফরেন্সিক দলের সদস্যরা পিপিই কিট পরে খুন হওয়া সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করে। তারা জানায় শীঘ্রই তারা নির্দিষ্ট রিপোর্ট জমা দেবে তদন্তকারী সংস্থার হাতে। এদিকে মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। যদিও তৃণমূল বলছে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের কারণে মণীশ শুক্লাকে খুন হতে হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে মণীশ খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করা হয়েছে, তবে সি আই ডি তদন্তে পূর্ণ আস্থা আছে তৃণমূল নেতৃত্বের। রবিবার এই খুনের ঘটনা ঘটলেও এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক নেতা এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি।

প্রাথমিক ভাবে এখনও পর্যন্ত সিআইডির অনুমান, ব্যক্তিগত পুরনো শত্রুতার কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে রাজনৈতিক শত্রুতার বিষয়টাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারী সংস্থার কর্মীরা। সি আই ডি সূত্রের খবর, সব দিক খোলা রেখেই তদন্ত প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।

নিহত মণীশ শুক্লার ঘনিষ্ঠ ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং আজ অভিযোগ করেছেন যে, রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে সিআইডি চুনোপুঁটিদের ধরছে। এখনও পর্যন্ত খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এবং বাইক পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। এই খুনের সঙ্গে পুলিশের সংযোগ রয়েছে বলে তিনি এদিন আবারও অভিযোগ করেন।

Related Articles

Back to top button
Close