fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিয়ের খরচের টাকায় দুঃস্থদের বস্ত্র বিলি মন্তেশ্বরের সিভিক ভলান্টিয়ারের

অভিষেক চৌধুরী,মন্তেশ্বর: করোনা মহামারির জেরে বিয়েতে বন্ধ ভুঁড়ি ভোজের আয়োজন। স্বাভাবিক কারণেই বিয়ের অনুষ্ঠান সেইভাবে করতে না পেরে হতাশ পূর্ব বর্ধমানের এক সিভিক ভলান্টিয়ার।

আর এরমধ্যেই বিয়ের খরচের টাকায় দুঃস্থদের বস্ত্র বিলি করলেন মন্তেশ্বরের সিভিক ভলান্টিয়ার। এই অভিনব উদ্যোগ নিলেন মন্তেশ্বরের মাঝেরগ্রামের বাসিন্দা শুভেন্দু ভট্টাচার্য নামে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার।

বৃহস্পতিবার বৌভাতের দিনেই নববধূকে সঙ্গে নিয়ে তাদের হাতে মিষ্টির প্যাকেট সহ নতুন জামা কাপড়, মাস্ক ও স্যানিটাইজার তুলে দিলেন তিনি।

মাঝেরগ্রামে থাকা তার পরিবারের প্রথম থেকেই ইচ্ছা ছিল ধূমধাম করে ছেলের বিয়ে দেওয়ার। কিন্তু এই স্বপ্নপূরণে বাধ সাধে করোনা। দুদিন আগেই দেওয়ানদিঘী থানার পাঁড়ুই গ্রামের মেয়ে ব্রততীর সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার পরেই তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে সিভিক ভলান্টিয়ার ও তার মা স্বপ্না ভট্টাচার্য।
যেমন ভাবনা তেমন কাজ।

বৃহস্পতিবার সকাল হতে না হতেই এলাকার শতাধিক দুঃস্থ দরিদ্র মানুষের হাতে মিষ্টির প্যাকেট,মাস্ক সহ নতুন জামা কাপড় তুলে দিয়ে অভিনব দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তারা। এই উদ্যোগের প্রশংসা করে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এলাকাবাসী। করোনা মোকাবিলায়
লকডাউন পরিস্থিতির জন্য যেকোনো অনুষ্ঠানে লোকজন জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ফলে বিবাহ অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিতদের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর বাড়িতে রয়েছেন তার মা, ভাই। গত মঙ্গলবার বিয়ের পরেই বৃহস্পতিবার ছিল বৌভাত।তবে বিয়ের বা বৌভাতের দিন দুদিনই সামান্য কয়েকজন আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে খাওয়াদাওয়া হয়। ভোজের অনুষ্ঠান বাতিল করে তার পরিবর্তে এদিন শতাধিক গরিব মানুষদের হাতে নতুন বস্ত্র, মাস্ক, স্যানিটাইজার ইত্যাদি তুলে দেন নবদম্পতি।

শুভেন্দু বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই ঠিক করা ছিল ধুমধাম করে বিয়ে হবে। কিন্তু এই অবস্থায় সম্ভব হল না। আমরা আইন ভাঙতে চাইনা। তাই ভোজের জন্য রাখা টাকাটা আর পাঁচটা মানুষের হাতে উপহার তুলে দিয়ে খরচ করলাম।’

Related Articles

Back to top button
Close