fbpx
কলকাতাহেডলাইন

অধ্যাপক ও ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ জানাল সুশীল নাগরিক সমাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি এ রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অধ্যাপকের সঙ্গে ছাত্রীদের সম্পর্ক নিয়ে কয়েকটি অডিও সামাজিক গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এক ছাত্রীকে ‘হেনস্থা’য় নাম জড়িয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কবি-অধ্যাপকের। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাল সুশীল নাগরিক সমাজ। শুক্রবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে আধ্যাপক ও ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের বিরুদ্ধে সরব হন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
সুশীল নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মুখরােচক আলােচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দুটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে তা ইতিমধ্যেই প্রচারিত হয়েছে। দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কারাের কিছু বলার নেই । কিন্তু নিজের খ্যাতি ও প্রতিপত্তির সুযােগ নিয়ে , পরীক্ষায় মার্কস বাড়িয়ে দেওয়া বা ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিষ্ঠা পাইয়ে দেওয়ার লােভ দেখিয়ে কোন শিক্ষক যদি ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তবে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর , সর্বোপরি গােটা সমাজের উপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে । অন্যদিকে উপযুক্ত তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্তও করা যায় না । তাই আমাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করুন এবং সত্যি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হােক । এই ধরণের ব্যক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকলে সেই শিক্ষাব্যবস্থা কলঙ্কিত হতে বাধ্য ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কার্যকলাপ সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার উপর খারাপ প্রভাব ফেলবেই । তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির উপযুক্ত তদন্ত করে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং ভবিষ্যতে এই ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন এটাই আমাদের দাবি ।
ইতিমধ্যেই ছাত্রী-সহ একাধিক মহিলার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। একটি অডিয়ো ক্লিপকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ। কর্তৃপক্ষ আইনি পরামর্শ নিয়ে সেই অভিযোগ পাঠিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন অভিযোগ কমিটির কাছে। প্রমাণ হিসেবে তাদের পেশ করা অডিয়ো ক্লিপকে গ্রহণ করার আর্জি জানানো হয়েছে। যদিও সেই অডিয়ো ক্লিপের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিসি নিমাই চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, আইনি দফতরের পরামর্শ মেনে এক অধ্যাপিকার নেতৃত্বে গঠিত একটি অন্তর্বর্তী অভিযোগ কমিটিতে ছাত্র সংসদের অভিযোগ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনও ছাত্রী ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। উল্লেখ্য, ছাত্রী-সহ একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তাঁদের নানা ভাবে ‘হেনস্থা’, কেউ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে লাগাতার বার্তা পাঠানো-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ইংরেজির অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। ওই অধ্যাপক বর্তমান সময়ের খ্যাতনামা কবি-লেখক। বিষয়টি সম্বন্ধে সরাসরি কেউ মুখ খুলতে না চাইলেও এ নিয়ে ভালোমতো শোরগোল পড়েছে শিক্ষক মহলে।

Related Articles

Back to top button
Close